মা মঞ্জুশ্রী মৈত্রকে চিরতরে হারালেন কাঞ্চনা মৈত্র। ছবি: ফেসবুক।
মা আর নেই! বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবারের দুপুর। এখনও বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র। আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি বললেন, “পরিচিতদের দেখলেই বলছি, মা আর নেই! আসলে বার বার বলে নিজেকেই বোঝাতে চাইছি।”
কাঞ্চনার কথায়, “বুধবার আমার ফিরতে একটু রাত হয়েছিল। পরের দিন আমার নতুন ছবি ‘খাঁচা’র প্রচারানুষ্ঠান। বাড়ি ফিরে যথারীতি কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না। চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করে ফেলেছি। মা বলছে, ‘তোরা সময় থাকতে সব গুছিয়ে রাখিস না কেন!’” হাসিঠাট্টার মধ্যেই সময় এগিয়েছে। তখনও কোনও অসুস্থতা ছিল না কাঞ্চনার মা মঞ্জুশ্রী মৈত্রের শরীরে। আচমকা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। কিছু ক্ষণের মধ্যে সব শেষ।
“মায়ের মৃত্যু ঠিক সিনেমার মতো। একবার মাথা রাখল জামাই দ্বৈপায়নের কাঁধে। দু’বার আমার কাঁধে। শেষ বার আমার কাঁধে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল।” বলতে বলতে কান্নায় বুজে এসেছে অভিনেত্রীর কণ্ঠ। হইহই করে সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখতেন মঞ্জুশ্রী, জানিয়েছেন কাঞ্চনা। “অনেক ঘা খেয়ে বড় হয়েছি। ফলে, আমি তবুও সামলাতে পেরেছি। দ্বৈপায়ন রীতিমতো ভেঙে পড়েছে! কিছুতেই মানতে পারছে না।” মানতে পারছে না কাঞ্চনার বাড়ির পোষ্য, পাড়ার পোষ্যরাও। “পাড়ার ৩০টি কুকুরকে রোজ খাওয়ানোর দায়িত্ব ছিল মায়ের। শেষকৃত্যের জন্য মাকে নিয়ে যাচ্ছি। বাড়ির সামনে মরদেহ বের করে রাখতেই পোষ্যেরা ঘিরে ধরল মাকে! আঁকড়ে ধরল। কিছুতেই ছাড়াতে পারছি না! প্রত্যেকের চোখ দিয়ে জল ঝরছে।”
অনেক আদর করে, বুঝিয়ে তবে পথপশুদের সরাতে পেরেছিলেন কাঞ্চনা-দ্বৈপায়ন। বিবাহিত কন্যা। তবু কাঞ্চনা পুরো নিয়ম মানছেন। ১১ দিনে কাজ করবেন মায়ের। রোজ হবিষ্যি না করতে পারলেও সেদ্ধ খাবার খাচ্ছেন নিয়ম মেনে।