শ্যামৌপ্তি-রণজয়ের বিয়ে ফেব্রুয়ারিতে, প্রস্তুতি নিয়ে কী বললেন নায়িকা? ছবি: সংগৃহীত।
১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করছেন রণজয় বিষ্ণু এবং শ্যামৌপ্তি মুদলি। এই খবর ইতিমধ্যেই সবার জানা। বিয়ে নিয়ে বার বার প্রশ্ন করা হলেও, এ প্রসঙ্গে খুব বেশি কিছু বলতে চাননি দু’জনের কেউই। রণজয় জানিয়েছিলেন, বিয়ে নিয়ে খুব বেশি আড়ম্বর চান না তাঁরা। অবশেষে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে সবটা আনন্দবাজার ডট কম-কে বিস্তারিত জানালেন শ্যামৌপ্তি।
যখন তাঁদের বিয়ের কথা প্রকাশ্যে আসে, সে সময়ে শ্যামৌপ্তি শহরে ছিলেন না। শুটিংয়ের জন্য হলদিয়ায় ছিলেন। সেই সময়ে যে-ই তাঁকে ফোন করেছেন, কারও সঙ্গেই ঠিক করে কথা বলতে পারেননি। আনন্দবাজার ডট কম-কে অভিনেত্রী জানালেন, বিয়ের কেনাকাটা শুরু না করলেও, ওই দিনে কেমন সাজবেন তা অনেক দিন থেকেই মনে মনে ঠিক করে রেখেছেন। বিয়েতে তিনি বেনারসি পরতে চান না, কিন্তু লালরঙের শাড়িতে সাজতে চান। ১৪ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিয়ের লগ্ন।
শ্যামৌপ্তি বলেন, “আমি বা রণজয় কেউই আড়ম্বর পছন্দ করি না। তাই ছিমছাম ভাবেই বিয়ের পরিকল্পনা করেছি। আমাদের বন্ধুবৃত্ত প্রায় এক। তাই এক দিনেই সব হবে। এক সপ্তাহ ধরে বিয়ের কোনও পরিকল্পনা নেই। এ দিক থেকে দুই পরিবারকেও ধন্যবাদ, সবাই আমাদের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়েছেন। এখনও কোনও কিছু কেনা শুরু করিনি। নেমন্তন্ন করাও হয়নি। এ বার শুরু করব। শুটিংয়ে এত বার কনে সেজেছি। নিজের বিয়েতে এমন ভাবে সাজতে চাই যে আমাকে যেন শ্যামৌপ্তির মতোই লাগে, পর্দার কোনও চরিত্র যেন মনে না হয়।”
যুগলের বিয়ের তারিখ প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তাঁদের বয়সের পার্থক্য, অল্প বয়সে শ্যামৌপ্তির বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও অনেক ধরনের আলোচনা চলছে। রণজয়ের সঙ্গে নায়িকার বয়সের ফারাক ১৩ বছরের। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী যোগ করেন, “বিভিন্ন জন লিখছেন আমার কম বয়সে বিয়ে করা নিয়ে বা ওর সঙ্গে বয়সের ফারাক নিয়ে। কিন্তু এটা যে বড় কোনও কারণ হতে পারে, তা মন থেকে আমি কখনও অনুভব করিনি। কখনও ভাবিনি কম বয়সে বিয়ে করছি বলে আমার কেরিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে। আমি এরকম জীবনই চেয়েছিলাম।”
‘গুড্ডি’ ধারাবাহিকে প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন শ্যামৌপ্তি এবং রণজয়। ধারাবাহিকের শুটিং শেষ হওয়ার পর থেকে তাঁদের সম্পর্কের গুঞ্জন শুরু হয়। বয়সের পার্থক্য থাকলেও তাঁদের দু’জনের চাহিদা, ভাললাগায় বিস্তর মিল আছে। শ্যামৌপ্তি যোগ করেন, “আমরা একসঙ্গে গোটা পৃথিবী ঘুরতে চাই। পরস্পরের সঙ্গে বেড়ে উঠতে চাই। দু’জনের চাওয়াই এ ক্ষেত্রে এক। সেখান থেকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের বয়সের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, আমার মনে হয় এই ফারাক আছে বলেই আমাদের সম্পর্কটা বিয়ে অবধি গড়িয়েছে। এই জন্য কোনও সমস্যা হলেও আমাদের সম্পর্কে তার প্রভাব পড়ে না।”
বিয়েতে আলাদা করে ‘সঙ্গীত’, ‘মেহন্দি’র আয়োজন থাকছে না। বাঙালি রীতিনীতি মেনেই চারহাত এক হবে। বিয়ের ভোজনেও থাকবে আদ্যোপান্ত বাঙালি রান্না। মাছ থেকে মাংসের নানা পদ। বিয়েতে নায়ক-নায়িকার সাজ দেখার অপেক্ষায় অনুরাগীরা।