Ashok Bhattacharya

‘তৃণমূলকে হারাতে ৩টে নির্বাচনে বামপন্থী ভোট বিজেপি-তে’! সেই ‘ভুল’ না-করতে অশোক পরামর্শ দিলেন সেলিমের উপস্থিতিতেই

সেলিমের উপস্থিতিতে অশোক বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে তৃণমূলকে হারানোর নাম করে বামপন্থীরা বিজেপি-কে ভোট দিয়েছেন। এই ভুল আর করবেন না।”

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ০১:২৪
Share:

(বাঁ দিকে) রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রবীণ সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন— ভোটের হিসাব দেখলেই স্পষ্ট, বামের ভোট রামে গিয়েছে। অর্থাৎ, সিপিএমের ভোট চলে গিয়েছে বিজেপিতে। কিন্তু এই ভোটের পাটিগণিতকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কখনই স্বীকৃতি দেয়নি সিপিএম। কিন্তু, শনিবার, শিলিগুড়িতে বামেদের একটি কর্মসূচিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে পাশে বসিয়ে ভোটের বাক্সবদলের কথা স্বীকার করে নিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রবীণ সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য।

Advertisement

সেলিমের উপস্থিতিতে অশোক বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে তৃণমূলকে হারানোর নাম করে বামপন্থীরা বিজেপি-কে ভোট দিয়েছেন। এই ভুল আর করবেন না।”

অশোক এর বেশি আর কিছু বলেননি। কিন্তু, এটুকুতেই বামের ভোট রামে যাওয়ার বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাচক্রে, এমন দিনে অশোক এই মন্তব্যটি করেছেন যে দিন ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা ছিল। যে জনসভায় ব্রিগেড ময়দানে একদা বহু বামপন্থীকে পদ্ম পতাকা নাড়াতে দেখা গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে অশোকের এই বক্তব্যের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, যখন অশোক বামপন্থীদের বিজেপিতে যাওয়ার প্রসঙ্গে বলছেন, তখন চেয়ারে বসে থাকা সেলিম তাঁর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

Advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়িতে সিপিএমের প্রার্থী ছিলেন অশোক। নির্বাচনের ঠিক আগে সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বাম রাজনীতিতে অশোকের শিষ্য বলে পরিচিত শঙ্কর ঘোষ। ভোটে অশোকের বিরুদ্ধে সেই শঙ্কর কেই প্রার্থী করে দেয় বিজেপি। ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, ‘শিষ্যের’ কাছে হেরে গিয়েছে ‘গুরু’।

সিপিএমে বয়সবিধির কারণে আপাতত অশোক কার্যত ‘নিঃসঙ্গ সম্রাট’। একটা সময় যাঁকে রাজনৈতিক মহল ‘উত্তরবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী’ বলে অভিহিত করত, বামের ভোট রামে যাওয়ার সম্পর্কে তাঁর প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তি ভোটের আগে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করেছেন অনেকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement