হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। ছবি: সংগৃহীত।
আমাদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। আমার স্বামীর নাম হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়। ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর বিয়ে হয়েছিল আমাদের। গত বছরে আমাদের বিয়ের ২৫ বছর পূর্ণ হয়। আমাদের ১৯ বছরের মেয়ে রয়েছে। আইনি বিচ্ছেদের কোনও প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি। অনেক দিন ধরেই আমার ও আমার মেয়ের উপর অত্যাচার চলছিল। কিন্তু শুধুমাত্র আমার মেয়ের মুখ চেয়ে এবং পরিবারের সম্মান বাঁচাতে এত দিন চুপ ছিলাম।
সবাই তো ভাবেন মারধর করা মানেই অত্যাচার। কিন্তু আমি আর মেয়ে যে কী মানসিক অত্যাচারের শিকার, তা বলে বোঝাতে পারব না। এর মধ্যেও আমি নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি। ইতিবাচক পরিবেশের মধ্যে নিজেকে বেষ্টিত রাখতে চাইতাম। তাই নিজের ব্যবসাও শুরু করি। আগে আমি ‘বিশ্ববাংলা’-য় কাজ করতাম। তার পরে ছেড়ে দিয়ে নিজের ক্যাফে এবং শাড়ির ব্যবসা শুরু করেছি। এ সব নিয়েই থাকি আমি।
এই যন্ত্রণা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে কাজের মধ্যে ডুবে থাকার চেষ্টা করি প্রতিনিয়ত। চাই না নিজের গায়ে কোনও কাদা ছিটুক। হিরণ সম্পর্কে কিছু বলা মানে আমার মেয়ের গায়েও কাদা আসবে। কিন্তু ও (হিরণ) যেটা করল, এ বার তো আমাকে নড়েচড়ে বসতেই হবে। বহু দিন চাপা দেওয়া ছিল। ও নিজেই সব বাঁধ ভেঙে দিল। এই বিয়ে তো বেআইনি। এই বিয়ের কোনও মানেই নেই।
আমরা যে আলাদা থাকতাম, এটাও তো স্পষ্ট করে বলতে পারছি না। কারণ, মাঝেমাঝেই খড়্গপুর থেকে কলকাতায় আসত হিরণ। এক মাস আগেও তো এসেছিল বাইপাসে আমাদের যে ফ্ল্যাট আছে সেখানে। মেয়েকে কিছু একটা দিয়েছিল। মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেই আসত মূলত। আমি কম কথা বলতাম। কারণ, অনেক দিন ধরেই কানাঘুষোয় এই সম্পর্কের কথা শুনতাম। হিরণকে প্রশ্নও করেছিলাম। বার বার আমাকে উত্তর দিয়েছিল, যে মেয়েটি ওকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করছে। ২০২৫ সালের নতুন বছরের উদ্যাপনও আমরা একসঙ্গে করেছি। অবাক লাগছে। সবচেয়ে কুৎসিত লাগছে, যে মেয়েটির সঙ্গে ছবি দিয়েছে সে প্রায় আমাদের মেয়েরই বয়সি। আমাদের ১৯ বছরের মেয়ে এখন মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী। ওর মনে যা প্রভাব পড়ছে তা আমি বোঝাতে পারব না। ওকে সামলানোই এখন আমার মূল উদ্দেশ্য।