Tollygunge Election Result 2026

বজ্জাত রাক্ষসগুলোকে যে মারতে পেরেছি, তাতেই আমি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ, সবাইকে ধন্যবাদ: পাপিয়া

টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ২০ বছর পরে পালাবদল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। পরিবর্তন কি আসবে? কী বললেন তিনি?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১৮:৫৭
Share:

কোন পরিবর্তনের বার্তা দিলেন পাপিয়া অধিকারী? ছবি: সংগৃহীত।

৩৩, অঞ্জুমান আরা বেগম রো। টালিগঞ্জের এই ঠিকানা এখন রাতারাতি বিখ্যাত! সোমবার সন্ধে থেকে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়ছে এই বাড়ির সামনে। কেউ আসছেন ফুলের তোড়া নিয়ে, জয়ী পাপিয়া অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানাতে। কেউ আবার আসছেন মনে জমে থাকা ক্ষোভ, আক্ষেপ জানাতে। মঙ্গলবার সকাল হতে না হতে সেই একই দৃশ্য পাপিয়ার এই বাড়ির সামনে।

Advertisement

কেউ এসে একটা গোলাপ ধরিয়ে চলে গিয়েছেন কোন সকালে। ভিড় একটু ফাঁকা হতেই পাপিয়া বললেন, “আমাদের এখানে অনেক মুসলমান ভাই-বোনেরা আছেন। তাঁদের কাছে খুব ভুল বার্তা গিয়েছিল। তাঁদের নাকি তাড়িয়ে দেওয়া হবে। এগুলো যে ভুল ভাবনা সেটা বোঝাতে পারিনি এত দিন। অনেক মুসলিম ভোট আমি পেয়েছি এ বার। না হলে এত ভোটে জেতা সম্ভব ছিল না।”

গত এক মাস ধরে দিন-রাত এক করে দিয়েছেন শুধু প্রচারের কাজে। টালিগঞ্জে নিজের বাড়ির লাইব্রেরিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি বাঁধিয়ে রেখে দিয়েছেন পাপিয়া। জানালেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণাতেই টালিগঞ্জে গত ২০ বছরের অরূপ বিশ্বাস-স্বরূপ বিশ্বাসের তথাকথিত ‘দুর্ভেদ্য’ দুর্গ ভাঙতে পেরেছেন তিনি। পাপিয়া বলেন, “আমরা মারধর করতে চাই না। বলতে চাই ভাই, আপনাদের নীতি আমাদের দরকার নেই। দয়া করে বেরিয়ে যান। অনেক পরিবর্তন হবে। সবাই এক ছাতার তলায় কাজ করবেন। একটা প্রোডাকশনে প্রয়োজন না থাকলেও সেই মানুষদের নিয়ে কাজ করতে হবে, এটা কি হয় নাকি? আমরা যখন ছবিতে অভিনয় করতাম, তখন এক অন্য সম্মান পেতাম।”

Advertisement

এর মধ্যেই পাপিয়ার বাড়িতে এসেছেন টালিগঞ্জের নতুন পরিচালক, শিল্পী, টেকনিশিয়ানেরা। পাপিয়া যোগ করেন, “অ-বিশ্বাসেরা (অরূপ-স্বরূপ) মিলে যে বাতাবরণ তৈরি করেছিলেন, তার পরিবর্তন হবে। সবাই কাজ করবেন একসঙ্গে।” আগামী দিনে কি পাপিয়াকেও আবার পর্দায় দেখা যাবে?

তিনি বললেন, “আমাকেও তো বাধা পেতে হয়েছে। নিশ্চয়ই সুযোগ এলে অবশ্যই অভিনয় করব। কিন্তু এখন তো অনেক দায়িত্ব। গুপি-চুপি শুটিং যা যা নিয়ে স্টুডিয়োর শিল্পীদের অভিযোগ ছিল, এগুলো কিছুই থাকবে না।”

অনেক শিল্পীদেরই অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক দিক থেকে ভিন্ন মতাদর্শের হলে কাজ পাওয়া কঠিন হয় টলিউডে। পাপিয়ার আমলে কি সেই ভয় থাকবে না? শুধু বামেরা নন, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত তাঁরাও কি নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন? পাপিয়ার স্পষ্ট উত্তর, “নিশ্চয়ই পারবেন। রাজ চক্রবর্তী থেকে যাঁরা আছেন সবাই নিজেদের মতো করে কাজ করবেন। সিনেমা, ধারাবাহিকের কাজের সঙ্গে তো রাজনীতির রঙের কোনও যোগ নেই।” একই সঙ্গে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ আর থাকবে না বলে দাবি পাপিয়ার। তিনি যোগ করেন, “দেবকে ধন্যবাদ অনির্বাণ চক্রবর্তীর জন্য এত লড়েছে। এ বার অনির্বাণ ঠিক করবে ও কী কার সঙ্গে কাজ করতে চায়।”

গত এক মাসের বেশি সময় ধরে প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করেছেন পাপিয়া। দুই মেয়ে এবং স্বামীরও প্রচুর সাহায্য পেয়েছেন। বললেন, “শান্তি পেয়েছি বজ্জাত রাক্ষসগুলোকে যে মারতে পেরেছি, তাতেই আমি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ, সবাইকে ধন্যবাদ।” এই কয়েক মাস দই-চিঁড়ে প্রতি দিন এইগুলোই খেতেন। জয়ের হাসি হেসে অনেক দিন পরে দই-ভাত এবং ঝিঙে পোস্ত খেয়েছেন। অনেক কাজ রয়েছে হাতে। তার মধ্যেও পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক দিন খাওয়া-দাওয়া করবেন বলে ঠিক করেছেন পাপিয়া।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement