বলিউড অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডি। ছবি: সংগৃহীত।
নীল সিফনে নরম গোলাপিরঙা গোলাপ! সঙ্গে মানানসই হাতাকাটা ব্লাউজ়। চুল পিঠ ছাপিয়ে কোমর ছুঁইছুঁই। গলায় মুক্তোর মালা। দু’বছর পরে বড়পর্দায় সমীরা রেড্ডী। ‘আখিরি সওয়াল’ ছবির প্রচারে শহর কলকাতায়।
ছবির ট্রেলারে ইতিমধ্যেই তাঁর একটি সংলাপ হিট, ‘লেফট ইজ় অলওয়েজ় রাইট’! ছবিতে সমীরা বামমনস্ক। বাস্তবেও নিশ্চয়ই তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে? প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। অভিনেত্রীর ঠোঁটে মুচকি হাসি। জবাব দিয়েছেন যথেষ্ট সজাগ ভাবে। সমীরা বলেছেন, “দেখুন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। এটা সবার সামনে আলোচনার বিষয়ই নয়। তবে কলকাতায় ছবির প্রচারে এসে মনে হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে এই বদলের প্রয়োজন ছিল।” সঙ্গে সঙ্গে এ-ও জানাতে ভোলেননি, এই পালাবদল নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে তাঁর উপলব্ধি, “আগামী দিনে রাজ্যে যা হবে, সেটা ভালর জন্যই ঘটবে।”
দুই সন্তানের মায়ের একদা ছিপছিপে শরীরে অল্প মেদ। গলার চামড়াতেও সামান্য ভাঁজ। কিন্তু হাসি ঝকঝকে। চোখ তুলে তাকালে হৃৎস্পন্দন বাড়ে বহু জনের। সমীরার সৌন্দর্যের রহস্য কী? পরামর্শ ভাগ করে নিতে গিয়েও আগে চওড়া হাসি উপহার। অভিনেত্রীর স্পষ্ট জবাব, “নিজেকে ভাল রাখতে অনেক হ্যাশট্যাগ নামিয়েছেন। এ বার নিজেকে বোঝান, সবাই সমান নয়। প্রত্যেকে নিজের মতো করে ভাল। তাই সহিষ্ণুতা বাড়াতে হবে। অন্যকে ভালবাসতে হবে। নিজেকেও ভালবাসতে হবে।” সমীরার মতে, এ ভাবে চলতে পারলেই ভাল থাকা সম্ভব। বয়স নিজের মতো করে বাড়ুক। কোনও সমস্যা নেই। সঙ্গে শরীরচর্চাও ভীষণ জরুরি।
ভাল থাকতে গেলে যে আরও একটি বিষয় সামলাতে জানতে হয়! সেটি ট্রোলিং। এখন সব বয়সের প্রায় প্রত্যেকে সমাজমাধ্যমে ‘ট্রোলিং’-এর শিকার। সমীরা সেই ঝামেলা কী করে সামলান? অভিনেত্রীর মতে, “শুধু সমাজমাধ্যমে কেন? মতে না মিললে পরিবারের সদস্যরাও আপনাকে কটাক্ষ করতে পারেন। শাশুড়ি, স্বামী—এঁদের সঙ্গে মতবিরোধ হয় না?” এই জায়গা থেকে তিনি বুঝেছেন, প্রত্যেকের মত এবং পথ আলাদা। প্রত্যেকে তাই আপনার আচরণ নিয়ে, কাজ নিয়ে সামনে বা পিছনে বলবেন। সকলের কথা মানা সম্ভব নয়। তাই সমীরা যাঁদের কথা গ্রহণ করার উপযুক্ত মনে করেন, তাঁদের মতামত নেন। “নইলে নিজের মতে চলি। যাঁদের বলার, তাঁরা বলবেনই। আমি আমার বিশ্বাস নিয়ে চলব। কী ঘরে, কী বাইরে।”