কী কারণে সব কিছুর থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন দিয়া? ছবি: সংগৃহীত।
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা থেকে সফর শুরু করেছিলেন। তার পরে আসেন অভিনয়ে। তাঁর অভিনীত ‘রহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ আজও আলোচনায় উঠে আসে। কিন্তু একসময় বলিউডে তাঁকে ‘অপয়া’ বলে ডাকা হত। তাতে কিছু থেমে থাকেনি। অর্ত খ্যাতি সব পেয়েছেন জীবনে। কিন্তু আচমকা নিজেকে যেন সব কিছুর থেকে সরিয়ে নেন দিয়া।
কর্মজীবনের শুরু থেকে ঐশ্বর্যা রাইয়ের সঙ্গে তাঁর তুলনা করা হত। তার কিছু দিন পরে পেলেন ‘অপয়া’ তকমা। দিয়ার কথায়, “আমি মনে করি, আমি সবার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে নিজের জায়গা তৈরি করতে পেরেছি। শুরুতে আমার তুলনা করা হত ঐশ্বর্য রাইয়ের সঙ্গে। আমি মনে করি, এতে অনেক সুযোগে বাধা এসেছিল। তার পর আমার বড় কিছু ছবির ব্যর্থতা, যার ফলে কাজ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।” তবু তাতে হার মানেননি তিনি। স্বেচ্ছায় ২০০৫ সালে সরে আসেন বছর দুয়েকের বিরতি নেন। অর্থ রোজগার করলেও কাজে আনন্দ পাচ্ছিলেন না তিনি।
দিয়ার কথায়, ‘‘ আমি যা করছিলাম সেটা করতে ভাল লাগছিল না। আমি টাকা উপার্জন করেছি। আমি স্বাধীন, আমার নিজের একটা বাড়ি আছে, এমন একটা শহরে থাকছিলাম যা এখন আমার। কারণ শহরটা আমাকে আপন করে নিয়েছে। কিন্তু এ সব আমাকে সুখী করছিল না। আর তখনই আমি বুঝতে পারলাম যে আমার নিজের কাছে ফিরে যাওয়া দরকার। তাই, এটা ছিল এক ধরনের ঘরে ফেরার মতো।’’
যে ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব প্রতিনিয়ত আসত তাঁর কাছে, তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না দিয়া। বেশির ভাগ ছবিতে নায়কের পাশে থাকা সুন্দরী নায়িকা। তাতেই যেন খানিকটা সংঘাত হত তাঁর মনের সঙ্গে। দিয়া বলেন, ‘‘আমি যে চরিত্রগুলোতে অভিনয় করছিলাম, সেগুলো করার সময় এক ধরনের দ্বন্দ্বে ভুগতাম। কারণ বুঝতে পারছিলাম, আমি যে চরিত্রগুলোতে অভিনয় করছিলাম, সেগুলোতে কোনও না কোনও ভাবে আমি নিজের সততা, বুদ্ধিমত্তা— এই চেতনাকে ধারণ করতে পারছিলাম না। তা হলে আমি কিসের প্রতিনিধিত্ব করছিলাম?’’
এ ছাড়াও দিয়ার আরও মনে হত, এই বিনোদন দুনিয়ায় যেন মেয়েদের পণ্য হিসাবে ধরা হয়। তার পরেই নিজেকে সব কিছুতে সরিয়ে প্রকৃতির কাছে নিজেকে নিয়ে যান। দিয়া বহু বছর ধরে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর কাজ করেছেন।