চুলের জন্যও সুগন্ধি আছে। কী ভাবে তা ব্যবহার করে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
সুগন্ধির দৌড় কতখানি? সর্ব-অঙ্গে চন্দনের প্রলেপ দেওয়ার কথা বলে পদাবলী। আবার সুখের সারকথা লিখতে গিয়ে বাৎসায়নও সৌরভকে বিপুল গুরুত্ব দিয়েছেন। পশ্চিমি দেশগুলিতে তো সুগন্ধি একটা বিরাটকায় সাংস্কৃতিক ধারা! কিন্তু সুগন্ধি কি শুধু দেহের? শিথিল কবরী থেকে আলুলকুন্তলা বিদিশার নিশা কেশদাম কি বঞ্চিত তা থেকে? ভারতীয় পরিসরে যুগে যুগে সুগন্ধি তেল দিয়ে কেশচর্চার ইতিহাসও কিছু কম যায় না। কিন্তু আজ চুলে তেল দিয়ে ফ্যাশন করা ঠিক ট্রেন্ডে নেই। বরং শ্যাম্পুরুক্ষ চুলে সিরাম-সৌরভই কেতাদুরস্ত এখন। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়।
সালোঁ থেকে স্পা করে আসার পরে বা শ্যাম্পু মেখে স্নানের পর চুল থেকে সুবাস বের হয়। ফুরফুরে থাকে কেশ। তবে তা ক্ষণস্থায়ী। সেই স্থায়িত্ব বাড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে কেশচর্চার সুগন্ধি বা হেয়ার পারফিউম।
যদি কেউ চান, তাঁর চুলে মিশে থাক মিঠে বাস, তবে চুলের সুগন্ধি তাঁরই জন্য। সুন্দর সাজপোশাকের পাশাপাশি চুল ফুরফুরে এবং সুন্দর রাখতেই তার প্রয়োজন। এই সুগন্ধি তৈরি হয় শুধুমাত্র চুলে ব্যবহারের জন্যই। গায়ে মাখার সুগন্ধি এবং চুলের সুগন্ধির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গায়ে মাখার সুগন্ধিতে উচ্চ মাত্রায় অ্যালকোহল ব্যবহার হয়। তবে চুলের সুগন্ধিতে অ্যালকোহলের মাত্রা কম থাকে। কখনও এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করেও তা তৈরি হয়। কোনও কোনও পারফিউমে ব্যবহার হয় হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, যা চুল নরম এবং আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। আবার কিছু কিছু সুগন্ধিতে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি থেকে সুরক্ষার বর্মও থাকে।
চুলের জন্য সুগন্ধি? ছবি: সংগৃহীত।
কেশচর্চা শিল্পীরা বলছেন, চুলের খেয়াল রাখতে হলে, উপকরণে কী থাকছে, তা জানা দরকার। কারণ, অ্যালকোহল চুলের জন্য ভাল নয়। তা চুল আরও রুক্ষ করে দিতে পারে।
কোন ধরনের সুগন্ধি মেলে?
ফুল, সাইট্রাস জাতীয় ফলের গন্ধ, এসেনশিয়াল অয়েল মিশ্রিত নানা প্রকার সুগন্ধি পাওয়া যায় চুলের জন্য। হালকা থেকে চড়া, রুচি অনুযায়ী তা বেছে নেওয়া যায়।
কেন বেছে নেবেন?
· গরমে মাথা ঘেমে গেলে বিশ্রী গন্ধ হয়। চুলে সুগন্ধি ব্যবহারে ঘামের গন্ধ ঢাকা পড়তে পারে। তা ছাড়া, লম্বা সময় ধরে চুল সুবাসিতও থাকবে।
· কিছু কিছু চুলের সুগন্ধি এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করে তৈরি হয়। অ্যালকোহল থাকে না এতে। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড থাকে। কিছু কিছু হেয়ার পারফিউম চুল মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।
কী ভাবে চুলে সুগন্ধি ব্যবহার করা যায়
ভাল হয়, শ্যাম্পু করে চুল শুকিয়ে নেওয়ার পরে বা স্নানের পর তা ব্যবহার করলে। সুগন্ধির বোতল চুল থেকে ৬-৮ ইঞ্চি দূর রাখুন, চুলে স্প্রে করে নিন। চুলের বিভিন্ন অংশে যাতে সুগন্ধি পৌঁছয় হাত দিয়ে চুলে এ দিক, ও দিক করে তার পরে স্প্রে করুন। গোড়ায় নয়, চুলের মাঝের অংশ থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সুগন্ধি ব্যবহার করতে হবে।
সতর্কতা
সুবাসিত ফুরফুরে চুলের আকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে। তবে চুল যদি সুগন্ধি মাখতে গিয়ে নষ্ট হয়, তা কাম্য নয়। সুগন্ধি দূর থেকে অল্প ব্যবহারের জন্যই। নিয়মিত বা খুব বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয়। বিশেষ্ অ্যালকোহল থাকলে সতর্ক হওয়া খুব জরুরি। অ্যালকোহল না থাকলেও সুগন্ধি ব্যবহারে সতর্ক হওয়া উচিত। সরাসরি চুলে প্রয়োগ বা বেশি প্রয়োগ এড়াতে চাইলে চিরুনিতে স্প্রে করে চুল আঁচড়ে নিতে পারেন।
সুগন্ধি ব্যবহারে চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই চুল আর্দ্র, নরম রাখার জন্য যা করণীয়, আলাদা ভাবে তা-ই করতে হবে।