বয়স-বৈষম্য নিয়ে সরব তাপসী। ছবি: সংগৃহীত।
মহিলাদের বয়স বেড়ে গেলে তাঁরা নাকি আর নায়িকা হওয়ার যোগ্য থাকেন না! ফিল্মি দুনিয়ায় এই ভাবনার সঙ্গে পরিচিত অনেকেই। বলিউডেও এর অন্যথা হয় না। বয়স নিয়ে বৈষম্য রয়েছে হিন্দি সিনেদুনিয়ায়। এর জন্য নাকি অনেক অভিনেত্রীই ভাল চরিত্র হারান। বয়স নিয়ে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী তাপসী পন্নু। এই নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী। টানলেন শাহরুখ খানের প্রসঙ্গও।
বলিউডে অনেক সময় পুরুষ তারকারা অনেক বেশি বয়সেও রোম্যান্টিক ও বাণিজ্যিক ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন। তাঁদের মধ্যে শাহরুখ, সলমন খান, অক্ষয় কুমারের মতো নামও রয়েছে। কিন্তু, সেই একই ইন্ডাস্ট্রিতে একটা নির্দিষ্ট বয়সের পরে অভিনেত্রীদের জন্য ‘নায়িকা’ হওয়ার সুযোগ কমতে থাকে। সম্প্রতি এই বৈষম্য নিয়ে তাপসীর নিশানায় ছিল দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিও। সেখানে নাকি বয়স নিয়ে অন্য ধরনের ‘সমস্যা’!
এক সাক্ষাৎকারে তাপসী বলেন, বলিউডে তিনি যখন কাজ শুরু করেন, তখন তাঁর ২০-র কোঠায় বয়স। কিন্তু, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পেতে প্রথম তিন থেকে চার বছর লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। অভিনেত্রীর কথায়, “যত দিনে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত হয়, তত দিনে ৩০ পেরিয়ে গিয়েছে। তখন নির্মাতারা বলেন, ‘রম-কম ছবিতে অভিনয় করার বয়স আর তোমার নেই’। আজ, এখনও এমন অনেক সময়েই আমার মনে হয় যে, ‘এই চরিত্রের জন্য তো অল্পবয়সি মেয়ের দরকার নেই’! তবুও নির্মাতাদের অল্পবয়সিই পছন্দ। কিন্তু, পুরুষদের ক্ষেত্রে এরকম হয় না। সেটা তো দেখাই যায়।”
তাপসী জানান, দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগতেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “দক্ষিণেও আমি এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। যে মুহূর্তে একজন অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সি অভিনেতার বিপরীতে কাজ করলাম, আর কোনও বয়সে কম অভিনেতা আমার সঙ্গে কাজ করতে চাইলেন না।” কিন্তু, তাপসীর কথায়, “শাহরুখ খান প্রসঙ্গে কেউ এমন কথা বলতে পারবে? শাহরুখের সঙ্গে কাজ করলে অভিনেত্রীদের জীবন বদলে যায়! ফলে ওই সমস্যাটা আবার বলিউডে নেই যে, কোনও বর্ষীয়ান অভিনেতার সঙ্গে কাজ করা মানে অল্পবয়সি অভিনেতারা মুখ ফিরিয়ে নেবেন।”
অভিনেত্রী জানান, দীর্ঘ লড়াই ও মানসিক ক্লান্তির মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পর তিনি এই বাস্তব চিত্রটা মেনে নিয়েছেন। এখন তিনি নিজের বয়সের সঙ্গে মানানসই এবং যে চরিত্রে অভিনয় করে আনন্দ পাবেন বলে মনে করেন, সেই ধরনের কাজকেই গুরুত্ব দেন।