দিব্যা ভারতীয় মৃত্যুর দিন ঠিক কী ঘটেছিল? ছবি: সংগৃহীত।
১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল পাঁচ তলা থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান দিব্যা ভারতী। যখন সবাই টের পান, তখন বড় দেরি হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি ১৯ বছরের অভিনেত্রীকে। যদিও দিব্যার মৃত্যুর পর প্রায় ৩৩ বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু কী ভাবে মৃত্যু হল বলিউডের এই উঠতি নায়িকার, তা নিয়ে আজও জল্পনা রয়েছে। কেউ বলেন আত্মহত্যা, কারও মতে পরিকল্পিত খুন। দিব্যার মৃত্যুর দিনের সাক্ষী ছিলেন খ্যাতনামী সাংবাদিক ট্রয় রিবেইরো। সে দিন ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল, জানিয়েছেন ট্রয়।
দিব্যাকে নিয়ে বই লিখেছিলেন ট্রয়। মৃত্যুর কয়েকঘণ্টা আগে ঠিক কী ঘটেছিল সেটাই বর্ণনা রয়েছে। ট্রয়ের বই অনুযায়ী, দিব্যা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বহু দিন ধরেই। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে মদ্যপান করেছিলেন। বাড়িতে একাধিক অতিথি এসেছিলেন। দিব্যা নিজের গ্লাস ভর্তি করে বারান্দায় একা সময় কাটাচ্ছিলেন। পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে সবাই ছুটে যান। ট্রয় জানিয়েছেন, অতিথিরাই হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে জানান।
ওই দিন দিব্যার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামী পোশাকশিল্পী নীতা লুল্লা। তাই তিনি স্পষ্ট করে জানেন না যে দিব্যা আত্মহত্যা করেছিল, নাকি পা পিছলে পড়ে গিয়েছিল। যদিও ট্রয়ের বইয়ে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন অভিনেত্রীর পরিচারিকা। তাঁর বক্তব্য, মৃত্যুর আগে পরিচারিকাই শেষ বার দেখেছিলেন দিব্যাকে। কিন্তু ট্রয়ের আক্ষেপ, পুলিশ এক বারও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।
এ দিকে ট্রয় জানান, দিব্যার মৃত্যুর খবর পেয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তাঁর স্বামী সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা। তাঁকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে রাখতে হয়, ট্রয়ের লেখা থেকে জানা যায়, দিব্যার মৃত্যুর পর খবর পেয়ে যখন ঘটনাস্থলে আসেন, অভিনেত্রীর বাবা ও ভাইকে সামলানো যাচ্ছিল না। বাবা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘‘ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলল!’’
এর পরে ভোরবেলায় দিব্যার মা হাসপাতালে পৌঁছোন। তিনি বিশ্বাসই করছিলেন না। তবে হাসপাতালেই দিব্যার বাবা ও ভাই দিব্যার মা’কে দোষারোপ করছিলেন। কেন তাঁর বাবা দিব্যার মাকে অমন কথা বলেছিলেন, সেই সবের কারণ আজও অজানা।