Farah Khan On Akshay Kumar

‘হেলিকপ্টারকে ট্যাক্সির মতো ব্যবহার করত’, ১৬ বছর আগে অক্ষয়ের কোন কীর্তি প্রকাশ্যে আনলেন ফরাহ?

সম্প্রতি ‘ভূত বাংলা’ ছবির প্রচারে এক আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন অক্ষয় কুমার, প্রিয়দর্শন, রাজপাল যাদব এবং ফরাহ। সেখানেই ‘তিস মার খান’-এর শুটিংয়ের নানা স্মৃতি ভাগ করে নেন ফরাহ ও অক্ষয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ২৩:৫২
Share:

ফরাহ খানের সঙ্গে অক্ষয় কুমার। ছবি: সংগৃহীত।

বলিউডে সময়ানুবর্তিতার জন্য অক্ষয় কুমারের সুনাম বহুদিনের। তবে তাঁর পেশাদারিত্বের একটি মজার ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে আনলেন পরিচালক ফরাহ খান। তিনি জানিয়েছেন, ২০১০ সালের ছবি ‘তিস মার খান’-এর শুটিং চলাকালীন অক্ষয় কুমার প্রতিদিন হেলিকপ্টারে করে সেটে আসতেন, তবুও তিনিই ছিলেন ইউনিটের সবচেয়ে সময়নিষ্ঠ সদস্য।

Advertisement

সম্প্রতি ‘ভূত বাংলা’ ছবির প্রচারে এক আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন অক্ষয় কুমার, প্রিয়দর্শন, রাজপাল যাদব এবং ফরাহ। সেখানেই ‘তিস মার খান’-এর শুটিংয়ের নানা স্মৃতি ভাগ করে নেন ফরাহ ও অক্ষয়।

পরিচালক জানান, ছবিটির একটি বড় অংশের শুটিং হয়েছিল মহারাষ্ট্রের মালশেজ ঘাটে। প্রতিদিন সকাল ৮টায় শুটিং শুরু হত। শুটিংয়ের স্থান মুম্বই থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টার দূরত্বে হওয়ায় ইউনিটের অধিকাংশ সদস্য সেখানেই থাকতেন। কিন্তু অক্ষয় প্রতিদিন শুটিং শেষে মুম্বই ফিরে যেতেন এবং পরের দিন সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যেই আবার সেটে হাজির হতেন।

Advertisement

এই কথা শুনে অবাক হয়ে যান রাজপাল। তখন ফরাহ ও অক্ষয় মজা করে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, “বলো তো কী ভাবে?” রাজপাল উত্তর দিতে না পারলে অক্ষয় নিজেই বলেন, “আমি হেলিকপ্টারে যাতায়াত করতাম।”

অক্ষয়ের এই স্বীকারোক্তিতে উপস্থিত সকলেই হাসিতে ফেটে পড়েন। ফরাহ মজার ছলে বলেন, “আমার জীবনে প্রথম দেখলাম এক জন অভিনেতা হেলিকপ্টারকে ট্যাক্সির মতো ব্যবহার করছে। তবে ওকে কৃতিত্ব দিতে হবে। কারণ, ও সবসময় সময়মতো সেটে পৌঁছত।”

এর জবাবে অক্ষয় বলেন, “তাতে কারও কি সমস্যা ছিল? আমি তো ছবির প্রযোজকও ছিলাম।” সঙ্গে সঙ্গে ফরাহ পাল্টা বলেন, “আমিও তো প্রযোজক ছিলাম!” এর পর মজার ছলে তিনি অভিযোগ করেন, “আমার সব টাকা খরচ করে দিয়েছে।” অক্ষয়ও হাসতে হাসতে প্রতিবাদ করেন, “আমি টাকা খরচ করে দিয়েছি? এই ছবি থেকে সবচেয়ে বেশি লাভ তো তুমিই করেছ!”

২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তিস মার খান’ বক্সঅফিসে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা আয় করেছিল। যদিও ব্যবসায়িক ভাবে ছবিটি মোটামুটি সফল হলেও সমালোচকদের কাছ থেকে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল। মুক্তির সময় ছবিটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে, যা ফরাহ'র ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে ফরাহ জানান, ওই সময়ের সমালোচনা তাঁর মানসিক অবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর কথায়, “একটা ছবির ব্যর্থতা বা সমালোচনা আপনাকে দীর্ঘদিন পিছিয়ে দেয়। আপনি আবার কাজ শুরু করেন, ঘুরে দাঁড়ান, কিন্তু মনের কোথাও একটা চাপ থেকে যায়। মানুষ আপনাকে নিজের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।”

তিনি আরও জানান, চলচ্চিত্র জগতে সাফল্য এবং ব্যর্থতা— দু'টিই বিভ্রান্তিকর হতে পারে। কোনও ছবি হিট হলে অনেকেই মনে করেন আপনি সব জানেন, সবকিছু ঠিক করতে পারবেন। আবার ব্যর্থতা এলে সেই আত্মবিশ্বাসকেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘তিস মার খান’ নতুন করে দর্শকের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একসময় সমালোচিত হওয়া ছবিটিই এখন অনেকের কাছে ‘কাল্ট ফেভারিট’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর সেই ছবিকে ঘিরেই আজও উঠে আসে এমন সব অজানা ও মজার স্মৃতি, যা বলিউডপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement