শুটিংয়ে ব্যস্ত ফুটবলার ব্যারেটো আর আলভিটো। নিজস্ব চিত্র।
কে বলে তেলে-জলে মিশ খায় না? বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার খেলার মাঠ সাক্ষী। এক ছবিতে, এক ফ্রেমে, হাসিমুখে একসঙ্গে অভিনয় করলেন মোহনবাগানের ব্যারেটো আর ইস্টবেঙ্গলের আলভিটো!
বরাবর যুযুধান দুই দল। মাঠে মুখোমুখি হলেই বাঙাল-ঘটি ফাটাফাটি। ইলিশ-চিংড়ি ধুন্ধুমার! সেই দুই দলের খেলোয়াড় একসঙ্গে ক্যামেরায় শট দিচ্ছেন! এমন ঘটনার একমাত্র সাক্ষী আনন্দবাজার ডট কম।
স্থান: দক্ষিণ কলকাতার একটি খেলার মাঠ। সময়: বেলা আড়াইটে। সকাল থেকে অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পর রোদে ঝলমল ভেজা মাঠ। আশেপাশে তত ক্ষণে খবর ছড়িয়ে গিয়েছে, এই মাঠে ব্রাজিলীয় ফুটবলার ব্যারেটোকে দেখা যাবে। সঙ্গে থাকবেন আলভিটো। স্বাভাবিক ভাবেই উৎসুক জনতার ভিড়। যাঁকে ঘিরে এত উৎসাহ, তিনি তখন মেকআপ ভ্যানে! ওখানে কী করছেন ব্যারেটো, অ্যালভিটো? পরিচালক দুলাল দে জানালেন, তাঁর আগামী ছবি ‘ফাঁদ’-এ অতিথি চরিত্রে অভিনয় করছেন দুই ফুটবলার। তারই প্রস্তুতি চলছে। ব্যারেটো অভিনয়ে! বিস্ময় প্রকাশ করতেই পরিচালকের মুখে তৃপ্তির হাসি। বললেন, “বন্ধুত্বের খাতিরেই রাজি হয়েছেন ব্যারেটো। আলভিটোও তা-ই। আমার ছবি দিয়ে অভিনয়দুনিয়ায় পা রাখছেন তাঁরা।”
মেকআপ ভ্যানে উঁকি দিতেই দেখা গেল, উভয়ে শেষ মুহূর্তের ‘টাচ আপ’-এ ব্যস্ত। ঘড়ির কাঁটা সাড়ে তিনটের ঘরে পৌঁছোতেই ভেজা, কাদামাখা মাঠে পা রাখলেন তাঁরা। মাঠের একটি গেটের সামনে দুই দলে ভাগ করে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড় আর তাঁদের প্রশিক্ষক। ব্যারেটো আর আলভিটো এসে হাত মেলালেন সকলের সঙ্গে। এটাই দৃশ্য। বার তিনেক মহড়া। তার পরেই এক শটে ‘ওকে’।
এই প্রথম অভিনয়ে। কেমন অভিজ্ঞতা? শুটের আগে ভয় পেয়েছিলেন ব্যারেটো?
প্রশ্ন করতেই ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে খেলোয়াড় বললেন, “ভয় নয়। তবে অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা। এই প্রথম অভিনয় করলাম। বন্ধু অনুরোধ করেছিল। ফেরাতে পারিনি। ছোট্ট উপস্থিতি। তবে সব মিলিয়ে খারাপ লাগেনি।” খেলোয়াড়েরাও অবসরে গান শোনেন। ছুটিতে সিনেমা দেখতে যান। ব্যারেটো কি বাংলা বা হিন্দি ছবি দেখেছেন? হেসে ফেলে অকপট তিনি। বললেন, “খুব ছটফটে আমি। একটানা বসে কিছু দেখার ধৈর্য আমার কম। তার উপরে ভারতীয় ছবির দৈর্ঘ বেশি। ফলে, তেমন কিছু দেখা হয়নি।” তবে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছেন, বাইরে থেকে যতটা সহজ দেখায়, অভিনয় ততটাও সহজ নয়। “একটা দৃশ্যের জন্য অভিনেতাকে কত ক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়! এক ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা, পাঁচ ঘণ্টা। কখনও হয়তো তারও বেশি। তার উপরে মেকআপ। সেটা যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, তার জন্য বারেবারে টাচআপ। সত্যিই আমি এত কিছু করতে পারব না! অভিনেতাদের কাজ অনেক বেশি কঠিন।”
সিনেবোদ্ধাদের দাবি, ভারতে নাকি ‘স্পোর্টস ড্রামা’ তুলনায় কম তৈরি হয়। এই ধরনের ছবি আরও বেশি তৈরি হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন ব্যারেটো? খেলোয়া়ড়ের মতে, খেলা নিয়ে ছবি তৈরি হলে এই দুনিয়ার কথাও সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন। খেলোয়াড়দের জীবন, তাঁদের পরিশ্রম, জীবনের ওঠাপড়ার কাহিনি পর্দায় দেখতে পাবেন দর্শক। তাই তিনি চান, ‘স্পোর্টস ড্রামা’ তৈরি হোক। সেই ঘরানার ছবিতে ফের দেখা যাবে ব্যারেটোকে? জবাব দেওয়ার আগে উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন তিনি। তার পর বললেন, “কোনও বন্ধু বললে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করব কি না, ভেবে দেখব। বড় চরিত্রে কখনও না।”
শট বুঝে নিচ্ছেন অর্জুন চক্রবর্তী, ঋত্বিক চক্রবর্তী। নিজস্ব চিত্র।
নব্বইয়ের দশকের তিন বন্ধু প্রেম-বিরহ-বিচ্ছেদ, সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ফুটবল, সমাজ— ধরা দিতে চলেছে পরিচালকের ছবিতে। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অনির্বাণ চক্রবর্তী, ঋত্বিক চক্রবর্তী, ইশা সাহা, সুহোত্র মুখোপাধ্যায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ কুণাল ঘোষকে। ছবিতে হঠাৎ খেলার দৃশ্য? পরিচালকের কথায়, “ছবিতে ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকছে। সেই জন্য ব্যারেটো আর অ্যালবার্টোর উপস্থিতি। মনে হল, দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দিই।”
ফুটবলের দুই তারকার শুটিং শেষ হতেই মাঠে ফিরলেন ঋত্বিক, অর্জুন। গা ঘামাতে শুরু করলেন পর্দার ‘জুনিয়র’ ফুটবলারদের নিয়ে। এ দিন ছিল ছবির শেষ দিনের শুটিং।