Gippy Grewal on Aamir Khan

ইংরেজিতে মেসেজের জবাব দিতে গিয়ে নাকানিচোবানি অবস্থা! আমিরের সঙ্গে কথোপকথন চালানোর জন্য কী উপায় বার করেন গিপ্পী?

সম্প্রতি শেখর সুমনের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে গিপ্পী গ্রেওয়াল জানান, আমির খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় একটি সাক্ষাৎকারের আলোচনা নিয়ে। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়। কিন্তু, কিছু দিনের মধ্যেই সমস্যায় পড়েন গিপ্পী। তার পরে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১৭:২৮
Share:

আমিরের সঙ্গে বন্ধুত্বের মজার অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন গিপ্পী। ছবি: সংগৃহীত।

বলিউড তারকা আমির খানের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক পঞ্জাবি অভিনেতা-গায়ক গিপ্পী গ্রেওয়ালের। এই বন্ধুত্বের শুরুতে এক অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন গিপ্পী। সম্প্রতি আমিরের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে একটি মজার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন তিনি। গিপ্পী জানান, একসময়ে আমিরের ইংরেজিতে লেখা দীর্ঘ মেসেজের উত্তর দিতে অন্য বন্ধু ও সহকর্মীদের সাহায্য নিতে হত তাঁকে।

Advertisement

সম্প্রতি শেখর সুমনের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে গিপ্পী জানান, আমিরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় একটি সাক্ষাৎকারের আলোচনা নিয়ে। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়। তবে সেই বন্ধুত্বের শুরুর দিকে আমিরের ইংরেজিতে লেখা মেসেজের উত্তর দিতে গিয়ে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেতে হত তাঁকে। দীর্ঘ মেসেজ পড়ে মানে বুঝলেও, উত্তর কী ভাবে দেবেন, ভেবে পেতেন না।

গিপ্পির কথায়, “এক দিন ‘যশরাজ ফিল্মস’-এর মাধ্যমে আমাকে জানানো হয় যে, আমির আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমির আমাকে বলেছিলেন, ‘গিপ্পী, আমার একটি ছবি মুক্তি পেতে চলেছে। আমি চাই, তুমি ছবিটির জন্য একটি সাক্ষাৎকার নাও। আমরা একসঙ্গে কাজ করব এবং পঞ্জাবে ছবির প্রচার করব’।” গিপ্পীর কথায়, আমিরের সঙ্গে প্রথম আলাপেই নাকি বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। “আমরা দু’জনেই গল্প করতে ভালবাসি। পাঁচ-দশ মিনিটের মধ্যেই মনে হল, একে অপরকে অনেক দিন ধরে চিনি। সাক্ষাৎকার শেষ করার পরে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করি। এমনকি আমির নিজে আমাকে হোটেল পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন।”

Advertisement

তবে আসল সমস্যা নাকি শুরু হয় এর পরে। গিপ্পী বলেন, “পরের দিন আমার ফেরার বিমান ছিল। হোটেলে পৌঁছোতেই আমিরের একটি মেসেজ আসে। পুরো মেসেজটাই ইংরেজিতে লেখা ছিল। আমি পড়ে মোটামুটি বুঝতে পেরেছিলাম, কিন্তু ঠিকঠাক ইংরেজিতে তার উত্তর লিখতে পারছিলাম না।” তড়িঘড়ি সাহায্য চাইতে ম্যানেজারকে ফোন করেন। “আমি আমার ম্যানেজারকে ঘুম থেকে তুলে বলি, ‘আমি তোমাকে একটা মেসেজ পাঠাচ্ছি। এর উত্তরে এই-এই কথা ইংরেজিতে লিখে দাও।’ সে উত্তর লিখে পাঠাল। আমি পড়লাম, ঠিকঠাক মনে হল এবং সেটাই আমিরভাইকে পাঠিয়ে দিলাম।”

কিন্তু সমস্যা এখানেই শেষ হয়নি। গিপ্পী হাসতে হাসতে বলেন, “আধ ঘণ্টা পরে আমির আরও বড় একটা উত্তর পাঠান। তত ক্ষণে আমার ম্যানেজার আবার ঘুমিয়ে পড়েছে, ফোনও ধরছে না। আমার এক বন্ধু থাকে কানাডায়। তখন আমি তাকে ফোন করে পরের উত্তরটা লিখিয়ে নিই।” গিপ্পী স্বীকার করেন যে, এ ভাবে বেশ কিছুদিন চলেছিল।

“আমির খুব ভাল বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। প্রায় ছয় থেকে আট মাস ধরে, কখনও একে, কখনও তাকে দিয়ে আমি আমার উত্তর লিখিয়ে নিয়ে পাঠাতাম”, বলেন গিপ্পী। শেষপর্যন্ত তিনি পুরো বিষয়টি আমিরকে খোলসা করে জানিয়ে দেন।

পঞ্জাবি শিল্পী বলেন, “আমাদের বন্ধুত্ব তখন বেশ গভীর, এমন এক দিন আমি তাঁকে সত্যিটা বলেছিলাম যে, অন্যদের দিয়ে আমার মেসেজ লিখিয়ে পাঠাতাম। এখন আমরা ভয়েস নোটের মাধ্যমে কথা বলি। আসলে আমিরও এখন ভয়েস নোট পাঠান।”

এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিক বার আমিরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন গিপ্পী। তিনি আগে বলেছিলেন, “আমি আগে কখনও বলিনি, কিন্তু আমি যত বারই ওঁর (আমির) বাড়িতে গিয়েছি, উনি নিজে নীচে নেমে আমাকে বিদায় জানাতে এসেছেন। আর ৯৯ শতাংশ সময় তিনি খালি পায়েই আসেন। আমি বার বার বলি জুতো পরে আসতে, কিন্তু উনি গুরুত্ব দেন না।”

এক বার নাকি চণ্ডীগড়ের এক বিলাসবহুল হোটেলে আমিরের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন গিপ্পী। সেখানেও আমির তাঁকে বিদায় জানাতে নীচে নামার জেদ ধরেন। গায়ক বলেন, “হোটেলে তখন একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল, ফলে প্রচুর ভিড় ছিল। আমি বলেছিলাম, ‘এত লোকজনের মধ্যে নীচে নামার দরকার নেই।’ কিন্তু আমির বলেছিলেন, ‘ওরা যদি তোমাকে চিনতে পারে, তা হলে আমাকে চিনলে সমস্যা কোথায়?’” আমিরের এই ব্যবহার এবং আন্তরিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে বলে মনে করেন গিপ্পী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement