Betel and Ghee Mix

ফুটন্ত ঘিয়ে ফেলে দিন পানপাতা, এই ‘আজব’ যুগলবন্দি দিয়ে কি স্বাস্থ্যরক্ষা করা যায়?

পানপাতায় আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু জমে থাকতে পারে কখনও সখনও, যা শরীরে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। তাই ঘিয়ে ফোটানোর আগে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন সর্বাগ্রে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১৭:২৩
Share:

ঘিয়ে পানপাতা ফোটালে কী হয়? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

বাটিতে ঘি ফুটিয়ে তাতে পানপাতা ফেলে দিন। ঘিয়ে ধীরে ধীরে পানপাতার রস মিশে গেলে এক প্রকার মাটি মাটি গন্ধ বেরোবে। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল স্বাস্থ্যরক্ষার জাদুকরি খাবার!

Advertisement

পানের পাতা আর ঘি— এই দুই উপাদানকে একসঙ্গে খাওয়ার কথা শুনে অবাক লাগছে তো? কিন্তু ডায়েটে এই মিশ্রণ যোগ করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে। এক নেটপ্রভাবী পুষ্টিবিদের পোস্টের পর এই টোটকা প্রয়োগ করা শুরু করেছেন অনেকে। পানের পাতা ফোটানো ঘি খেলে নাকি হজমশক্তি ভাল থাকে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। দাবি উঠছে এমনই? কতখানি সত্য তা?

ভারতীয় হেঁশেলে বহু শতাব্দী ধরে পানের পাতা ব্যবহার হয়ে আসছে। শুধু মুখশুদ্ধি হিসেবেই নয়, বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার, প্রথা ও স্বাস্থ্যচর্চাতেও এর ব্যবহার রয়েছে। তা সে ঠানদিদির পান খেয়ে লাল হওয়া ঠোঁট হোক বা পানপাতায় মুখ ঢেকে কনের প্রবেশ হোক, অথবা চোটের উপর পাতাবাটা মেখে রাখা। তেমনই পানপাতার প্রয়োগ শুরু হল নতুন রূপে।

Advertisement

পানপাতার কী উপকারিতা? ছবি: সংগৃহীত

ঘি ও পানপাতার যুগলবন্দিতে কী উপকার মেলে?

পানের পাতায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ যৌগ, যা শরীরে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের গুণ পৌঁছে দেয়। এ ছাড়া এতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে পারে। পানপাতায় রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়ড এবং প্রদাহনাশী ও জীবাণুনাশী গুণ। এই পাতা পুষ্টিউপাদানের শোষণ বা়ড়ায়। পানপাতায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ঘি-কে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং অনেক দিন পর্যন্ত টাটকা রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘিয়ে পানপাতা মেশালে কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ১০.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

ঘিয়ের উপকারিতা কী? ছবি: সংগৃহীত

ও দিকে, ঘিয়ে এমনিতেই স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। কিছু ভিটামিন শোষণেও সাহায্য করতে পারে। পরিমিত পরিমাণে খেলে হজম ভাল হয়। অন্ত্রের আবরণকেও সুরক্ষিত রাখতে পারে। দুইয়ে মিলে স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য এমন ঘি আরও পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু হয়ে ওঠে।

কোনও ঝুঁকি নেই?

কোনও খাবারই ‘একাই একশো’ নয়। একটি খাবার শরীরের সব সমস্যা দূর করতে পারে না। সুস্থ অন্ত্রের জন্য সামগ্রিক ভাবে খাওয়াদাওয়া স্বাস্থ্যকর হতে হয়। এবং জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পানপাতার গুণে ভরা ঘি সব রোগ নির্মূল করে দিতে পারে না। অবশ্যই সামগ্রিক ভাবে পেটের স্বাস্থ্য এবং হজমক্ষমতা উন্নত করতে পারে, কিন্তু এর কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। যাঁরা কিছু হজমজনিত রোগে ভুগছেন, যাঁদের লিভার বা পিত্তথলির সমস্যা আছে অথবা যাঁরা বিশেষ ডায়েট মেনে চলছেন, তাঁদের জন্য এই টোটকা উপকারী নয়।

পানপাতার ক্ষতিকর দিক

পানপাতায় আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু জমে থাকতে পারে কখনও সখনও, যা শরীরে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। আসলে মাটি বা সেচের জল থেকে এই ধাতুগুলি শোষণ করে ফেলে পানপাতা। এমনকি, কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এ সবের ফলে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে এই পাতা। তাই এটি খাওয়ার আগে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement