টলিপাড়ার ‘ব্যবসায়ী’ তারকাদের নববর্ষে কী পরিকল্পনা রয়েছে? ছবি: সংগৃহীত।
নতুন জামার গন্ধ, ছুটি-ছুটি আমেজ, পরিবারের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর পরিসর— বৈশাখের, আরও ভাল করে বললে, বাংলা বছরের প্রথম দিনটা এই ভাবে কাটাতেই ভালবাসে উৎসবপ্রিয় বাঙালি। যত দিন যাচ্ছে, বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের প্রথাও অনেকটা যেন বদলে যাচ্ছে। পাড়ার পরিচিত দোকানে দোকানে চিরাচরিত হালখাতা করতে যাওয়াটাই কমে গিয়েছে আজ। সেই সব প্রথা স্মৃতি হয়ে এখন ঠাঁই নিয়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়! তবে হালখাতার আড়ম্বর না থাকলেও নববর্ষ এলে টলিপাড়ার ব্যবসায়ী ‘তারকা’রাও অনেকে মাতেন নিজস্ব ভাবে। কী ভাবে উদ্যাপন করেন তাঁরা? খোঁজ নিল আনন্দবাজার ডট কম।
ইদানীং টলিপাড়ার অনেক শিল্পীই ব্যবসা শুরু করেছেন। কারও শাড়ির ব্যবসা। কেউ আবার রূপসজ্জার বিভিন্ন প্রসাধনীর ব্যবসা শুরু করেছেন। কারও আবার নিজস্ব জিম রয়েছে। যদিও নববর্ষে মূলত পোশাকের ব্যবসা যাঁদের, তাঁদেরই বেশি ব্যস্ততা থাকে। সেই তালিকায় অনেকেই আছেন। যেমন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপা চট্টোপাধ্যায়, লোপামুদ্রা মিত্র-সহ আরও অনেকে। যেমন তৃণা সাহাও কিছু দিন আগে নিজের পোশাকের ব্যবসা খুলেছিলেন। কিন্তু আপাতত বন্ধ রেখেছেন, কাজের ব্যস্ততার কারণে।
রচনার কাছেও এই বারের নববর্ষটা খুবই ব্যস্ততার। নেপথ্যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। তিনি বললেন, “নির্বাচন গেলে ব্যবসায় মন দিতে পারব। এই মুহূর্তে গুরুত্বের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে শুটিং এবং রাজনীতি। তাই নববর্ষে যে খুব বেশি পরিকল্পনা করতে পারছি তা নয়। কয়েক মাসের জন্য স্থগিত রাখতে হয়েছে। গত বছর পর্যন্ত তো একেবারে অন্যরকম কেটেছে আমার নববর্ষ।”
নির্বাচনের ব্যস্ততায় রচনার নববর্ষ কি ফিকে? ছবি: সংগৃহীত।
শাড়ির ব্যবসা ছাড়াও রূপসজ্জার বিভিন্ন জিনিসও পাওয়া যায় রচনার সংস্থায়। অভিনেত্রী তথা সাংসদ যোগ করেন, “ব্যবসা যখন শুরু করেছিলাম, দারুণ প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলাম সবার থেকে। এই নববর্ষে অনেক বিক্রিও হয়েছিল। এই বছর সবটাই যদিও স্থগিত রয়েছে। তবে ইচ্ছা আছে নির্বাচন মিটলে আবার পুরোদমে শুরু করব ব্যবসাটা। নিজস্ব দোকান সঙ্গে ক্যাফে খোলার স্বপ্ন আছে।”
সংসারের ব্যস্ততার মাঝে ব্যবসা কী ভাবে সামলান সুদীপা? ছবি: সংগৃহীত।
বিধানসভা নির্বাচনের ব্যস্ততায়, অনেকেই বিশেষ দিনটা সে ভাবে পরিকল্পনা করে উঠতে পারেননি। কিন্তু সুদীপা চট্টোপাধ্যায় স্বামীর অসুস্থতা, সংসারের ঝক্কি সামলে প্রতি বারের মতো এই বারেও বিশেষ আয়োজন করছেন। তিনি বললেন, “অনেকেই এই দিনে নতুন লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি আনেন। পুজো হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। পাঁচ বছর অন্তর নতুন ঠাকুর আসে। আমার ছেলে আদিদেব আসলে খুব কান্নাকাটি করে ঠাকুর বিসর্জন দিলে। তাই এই নিয়ম। তবে নববর্ষে এখনও পুরনো দিনের মতো সরবতের ব্যবস্থা করি। অতিথিরা আসেন।”
লোপামুদ্রার ছোটবেলার নববর্ষ ছিল একেবারে অন্যরকম। ছবি: সংগৃহীত।
এইরকম কোনও নিয়মে নিজেকে বাঁধতে রাজি নন সঙ্গীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র। গানের পাশাপাশি তিনি এখন ব্যবসায়ীও। নিজের শাড়ির ব্যবসা শুরু করেছেন। নববর্ষে যে বিশেষ পুজো করেন তেমন নয়। তবে, গায়িকার কাছে এই দিনে খাওয়াদাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। লোপামুদ্রা বললেন, “আমি যদিও আস্তিক মানুষ। কিন্তু বিশেষ কোনও নিয়ম-কানুন নেই। আমার বুটিকে যাঁরা আছেন, তাঁরা সকালে পুজো করেন। আমি বছরে এক বার সত্যনারায়ণ পুজো করি। এটুকুই। তবে এই দিনে বিশেষ খাওয়াদাওয়া হওয়া চাই-ই চাই। এই বছরেও তেমনই কিছু করব। ছোটবেলায় তো যৌথ পরিবার, আলাদাই আনন্দ হত। এখন অনেক সময়ে নববর্ষে অনুষ্ঠানও থাকে। ব্যস্ততাতেই কেটে যায় দিনের অর্ধেক।” পয়লা বৈশাখে কাজ থেকে ছুটি না পেলেও, দিনের কিছুটা সময় বার করে বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা বিশেষ খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনা সবারই থাকে। এই বছরেও তার অন্যথা হবে না, এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন শিল্পীরা।