Hair Care Tips

ছবির নায়িকাদের মতো কেশসজ্জা চাই? ‘নিখুঁত’ চুল ও সুস্থ চুল কিন্তু এক নয়, তফাত বুঝবেন কী ভাবে

‘নিখুঁত’ চুলের ধারণা মূলত বিজ্ঞাপন, সিনেমা এবং সমাজমাধ্যমের হাত ধরেই জনপ্রিয় হয়েছে। সেখানে চুল সব সময়ে ঝকঝকে, অত্যন্ত মসৃণ এবং একেবারে সাজানো অবস্থায় থাকে। কিন্তু আদপে এমন চুল প্রতি দিন বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব। নিখুঁত চুল মানেই কি স্বাস্থ্যকর চুল? আপনার কেশচর্চার উদ্দেশ্য কোনটি?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১৯:৪৬
Share:

আপনার কেমন চুল পছন্দ? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ফুরফুরে অথচ ঘন চুল। হালকা রঙের ছোঁয়া। চকচকে, কোমল ভাব। এমন চুলের অধিকারী হতে কে না চান! সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে এমন চুলকেই ‘নিখুঁত’ বলা হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, নিখুঁত চুল মানেই কি স্বাস্থ্যকর চুল? আপনার কেশচর্চার উদ্দেশ্য কোনটি?

Advertisement

‘নিখুঁত’ চুল বলতে কী বোঝানো হয়?

পেশাদারদের মতে, নিখুঁত চুলের ধারণা মূলত বিজ্ঞাপন, সিনেমা এবং সমাজমাধ্যমের হাত ধরেই জনপ্রিয় হয়েছে। সেখানে চুল সব সময় ঝকঝকে, অত্যন্ত মসৃণ এবং একেবারে সাজানো অবস্থায় থাকে। কিন্তু আদপে এমন চুল প্রতি দিন বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব। অনেক সময়ে এই চেহারা তৈরি করতে প্রয়োজন হয় ঘন ঘন তাপের ব্যবহার। তা সে স্ট্রেট করা হোক বা কার্লিং। কখনও বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ব্যবহার হয়, ভারী পণ্য দিয়ে স্টাইলিং করানো হয়, কখনও আবার দীর্ঘ দিন ধরে এগুলির ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়।

Advertisement

তাপের প্রয়োগে ক্ষতি হচ্ছে চুলের। ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ চুল বলতে কী বোঝানো হয়?

পুষ্টিই এখানে আসল। সুস্থ চুল মানে এমন চুল, যা নিজের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে পারে, ভাঙন ধরে না এবং মাথার ত্বকও সুস্থ থাকে। বাইরে থেকে কেমন দেখতে লাগছে, সে বিষয়টি ততটাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। রুক্ষতা, শুষ্কতা, ভাঙন ধরার মতো সমস্যা কম থাকে এবং প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য বজায় থাকে। তার জন্য বাইরে থেকে তাপ বা রাসায়নিকের প্রয়োগের দরকার পড়ে না। তবে সুস্থ চুলে মাঝেমধ্যে জট পড়া, এলোমেলো ভাব খুব স্বাভাবিক। তা স্ট্রেটও হতে পারে, আবার কোঁকড়ানো বা ঢেউখেলানোও হতে পারে। সিনেমার নায়িকাদের মতো জেল্লা না-ও মিলতে পারে রোজ।

তাই ‘নিখুঁত’ এবং সুস্থ চুল সব সময়ে এক না-ও হতে পারে। ‘নিখুঁত’ হওয়ার জন্য চুলকে অনেক অত্যাচারের মধ্যে দিয়ে যেতে হতে পারে। অন্যের পছন্দ মতো দেখানোটাই যেখানে লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু সুস্থ চুল পাওয়ার জন্য নিজের চুলের ধরন বোঝা দরকার এবং সেই মতো পুষ্টির জোগান থাকতে হবে।

‘নিঁখুত’ হতে গিয়ে চুলের সর্বনাশ করবেন না। নয়তো এক সময়ে ঠিক উল্টে প্রতিবাদ করে উঠবে চুল। তাই পুষ্টির দিকে নজর দেওয়া খুব দরকার। চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নেওয়া, নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করা, প্রয়োজন ছাড়া তাপ ব্যবহার না করা, সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোনো, মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণ করা, মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা ইত্যাদির দিকে নজর দিলে তবেই ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য ফিরে পাবে চুল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement