শুভমন গিল (বাঁ দিকে) ও বৈভব সূর্যবংশী। ছবি: এক্স।
এক জন করেছে ৪৭ বলে ৯৬ রান। অপর জন ৫৩ বলে ১০৪ রান। শেষ পর্যন্ত শতরানকারী ক্রিকেটারের দল জিতেছে। উঠেছে ফাইনালে। সেই শতরানকারী ক্রিকেটারের নাম শুভমন গিল। অধিনায়কের ইনিংস খেলে গুজরাত টাইটান্সকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি। কিন্তু ৯৬ রান করা রাজস্থান রয়্যালসের বৈভব সূর্যবংশীর ইনিংস ভুলতে পারছেন না শুভমন। বৈভবকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত তিনি।
রাজস্থানকে হারানোর পর সাংবাদিকদের সামনে শুভমন বলেন, “ওর দুর্দান্ত একটা মরসুম কাটল। আমি এরকম ভাবে কাউকে ব্যাট করতে দেখিনি। এখন ও পৃথিবীর সেরা ব্যাটারদের মধ্যে একজন। শুধু ওর শট খেলা নয়, ওর ব্যাট সুইং, হাতের গতি সব অসাধারণ।” বৈভবের ভয়ডরহীন মানসিকতার প্রশংসা করেছেন শুভমন। তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালী হোক না কেন, ও ভয় পায় না। কোনও বোলারের নাম দেখে না। প্রতিপক্ষকে প্রথম বল থেকে চাপে রাখে। আমার মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে ওর সামনে দাঁড়াতে প্রতিপক্ষ দলগুলোর সমস্যা হবে।”
গুজরাতের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নেমে একটা সময় চাপে পড়ে গিয়েছিল রাজস্থান। পর পর উইকেট পড়ছিল। সেই সময় খেলার ধরন বদলে ফেলে বৈভব। ইনিংস গড়ার চেষ্টা করে। একটা সময় পর আবার বিধ্বংসী ব্যাটিং শুরু করে সে। আরও এক বার শতরানের কাছে গিয়ে আউট হয় বৈভব।
আইপিএলে দ্রুততম ১০০০ রান করেছে বৈভব। ছাপিয়ে গিয়েছে আন্দ্রে রাসেলকে। ইনিংসের নিরিখে দ্রুততম ১০০০ রানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে সে। ২৩ ইনিংসে ১০০০ রান করেছে বৈভব। ২১ ইনিংসে এই কীর্তি করেছিলেন শন মার্শ। আইপিএলে এক মরসুমে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ডও গড়েছে সে। এই মরসুমে ৭২টি ছক্কা মেরেছে বৈভব। এত দিন এই রেকর্ড ছিল ক্রিস গেলের দখলে। ২০১২ সালে ৫৯টি ছক্কা মেরেছিলেন গেল।
ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হলেও কমলা টুপির তালিকায় সবচেয়ে উপরে বৈভব। ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করেছে সে। ৪৮.৫০ গড় ও ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে রান করেছে বৈভব। একটি শতরান ও পাঁচটি অর্ধশতরান এসেছে তার ব্যাট থেকে। তার মধ্যে তিনটি ৯০-এর ঘরে। ফাইনালে হয়তো শুভমন বৈভবের রান টপকে যেতে পারেন। কিন্তু ১৫ বছর বয়সি ক্রিকেটারে মুগ্ধ তিনি। শুভমনের কথা থেকে তা স্পষ্ট।