রজত পাটীদার এবং শুভমন গিল। ছবি: পিটিআই।
ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক হিসাবে টানা দু’বার আইপিএল জেতার কৃতিত্ব রয়েছে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এবং রোহিত শর্মার। বিরাট কোহলি গত বার আইপিএল জিতেছিলেন। অধিনায়ক না হলেও, এ বার ক্রিকেটার হিসাবে টানা দু’টি আইপিএল জেতার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। এ দিকে, গুজরাতের অধিনায়ক শুভমন গিল জানিয়েছেন, ট্রফি জিতে তিনি জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন। আবার বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রজত পাটীদার জানিয়েছেন, তিনি এ সব নিয়ে ভাবিত নন।
বিরাট কোহলি জীবনে বেশির ভাগ ট্রফি জিতলেও আইপিএল ছিল অধরাই। গত বছর সেই খরা কেটেছে। এ বারও দলকে ফাইনালে তুলেছেন কোহলি। তিনি নিজে ৬০০ রান করেছেন। ফাইনালেও যদি এই ফর্ম বজায় রাখতে পারেন, তা হলে ট্রফি তাঁর হাতেই উঠবে। তবে সামনে দাঁড়িয়ে শুভমনের গুজরাত।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন শুভমন। তবে সূর্যকুমার যাদবের খারাপ ফর্ম আবার শুভমনকে চর্চায় ফিরিয়ে এনেছে। শোনা যাচ্ছে, টেস্ট এবং এক দিনের দলের মতো টি-টোয়েন্টিতেও নেতৃত্বের ভার দেওয়া হবে শুভমনকে।
এ দিন শুভমন বলেছেন, “টি-টোয়েন্টি দলে ফিরতে পারলে খুশি হব। সত্যি বলতে, আমি নিজের খেলার আরও উন্নতি চাই। টি-টোয়েন্টি, এক দিনের ক্রিকেট এবং টেস্ট— সব ফরম্যাটেই উন্নতি করতে চাই।” গত বছর ১৫টি টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ২৯১ রান করেছিলেন শুভমন। এ বারের আইপিএলে ৭০০ রান পেরিয়ে গিয়েছে। শুভমনের কথায়, “ক্রিকেট এমন খেলা যেখানে কখনও নিখুঁত হতে পারবেন না। তবে সেই দিকে এগিয়ে যেতে পারেন। আমি সেটাই করছি।”
কী ভাবে প্রস্তুতি নেন তা-ও জানিয়েছেন শুভমন। বলেছেন, “প্রস্তুতিও আমাকে মানসিক ভাবে তরতাজা রাখে। পরের সপ্তাহে, দু’সপ্তাহ পরে কী করব বা পরের সিরিজ় কী করব সেটা আগে থেকে ভেবে রাখি। সে ভাবেই প্রস্তুতি নিই। যা আমার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সেটা নিয়েই ভাবি। কী ভাবে সফল হতে পারে, দলকে সাফল্য এনে দিতে পারি সেটা নিয়ে ভাবলেই মানসিক ভাবে অনেক তরতাজা থাকি।”
রজতের মুখে এর উল্টো কথাই শোনা গিয়েছে। তিনি বলেছেন, “আমি টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা নিয়ে ভাবছি না। তাই ওটার দিকে তাকাচ্ছিও না।” শোনা যাচ্ছে, জাতীয় দলে আবার ফেরানো হতে পারে রজতকে। তিনি বলেন, “আমি ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখি না। তবে সব অধিনায়কই ট্রফি জিততে চাই। গত বার আমরা জিতেছিলাম। এ বার নতুন মরসুম। এখন ২০২৫ নিয়ে কথা বলার কোনও মানে নেই। আপনাকে বর্তমানে থাকতে হবে। ট্রফি জেতার জন্য নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। মনে হয় না আমাদের দলটা খুব একটা বদলেছে।”
দলের সকলের অবদানের জন্যই বেঙ্গালুরু ফাইনালে উঠেছে বলে মনে করেন রজত। তাঁর কথায়, “অতীতে দু’-তিন জনের উপরে দল নির্ভর করে থাকত। তবে এ বার সকলে এসে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে। সে আমরা ব্যাটই করি বা বল। সকলেই নিজেদের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে।”
অহমদাবাদে ফাইনাল খেলবে গুজরাত, যা তাদেরই ঘরের মাঠ। তবে শুভমন মনে করেন না তাঁর উপর বাড়তি কোনও চাপ থাকবে। তিনি বলেছেন, “আমার উপর কখনওই প্রত্যাশার চাপ থাকে না। তবে এটা ঠিক যে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা আছে। আমরা ওখানকার পিচ, পরিবেশ চিনি। জানি কী রকম ক্রিকেট খেললে এই মাঠে জেতা যাবে। পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় কিছুটা এগিয়ে রাখবে মানসিক ভাবে, এটা নিয়ে সন্দেহ নেই।”
গুজরাতের বোলারেরা এ বার টেস্ট ম্যাচের লেংথে বল করে সাফল্য পেয়েছেন আইপিএলে। সে প্রসঙ্গে শুভমনের মন্তব্য, “দলের পরিকল্পনা খুব স্পষ্ট। নতুন বল হাতে থাকলে এবং পিচে বোলারদের জন্য কিছু থাকলে, গুড লেংথে করা বল খেলা সবচেয়ে কঠিন। তবে গুড লেংথ পিচ অনুযায়ী বদলে যায়। এ কারণেই টেস্ট ম্যাচের লেংথে বল করা ভাল। কারণ সেই বলে ব্যাটারদের খেলতে অসুবিধা হয়।”