Imtiaz Ali Films

দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় বদলে গেল ভাগ্য, ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’র সাফল্যে কাদের কৃতিত্ব দিলেন ইমতিয়াজ়?

মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় ছিল মাত্র ৫ কোটি টাকা (নেট)। তবে দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে সেই আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১২ কোটি টাকায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১২:৩১
Share:

ইমতিয়াজ় আলি কাদের কৃতিত্ব দিলেন? ছবি: সংগৃহীত।

প্রথম সপ্তাহে বক্সঅফিসের ছবিটা তেমন আশাজনক ছিল না। তবে দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং মুখে মুখে প্রচারের জোরে সপ্তাহ পেরোতেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে পরিচালক ইমতিয়াজ় আলির নতুন ছবি ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’। দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত এই প্রেমের ছবিটি এই মুহূর্তে ভালই লাভের মুখ দেখেছে। ছবির এই অপ্রত্যাশিত উত্থানে দর্শককেই কৃতিত্ব দিয়েছেন পরিচালক।

Advertisement

মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় ছিল মাত্র ৫ কোটি টাকা (নেট)। তবে দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেই সেই আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১২ কোটি টাকায়। বিশেষ করে দ্বিতীয় শনিবারে ছবিটির আয় প্রায় ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনটাই বলছে পরিসংখ্যান। এটা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল ঘটনা বলেই মনে করছেন বক্সঅফিস বিশ্লেষকেরা। দর্শকের বাড়তি আগ্রহের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে অতিরিক্ত শো চালু করতে বাধ্য হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ় আলি বলেন, “ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ ছবিটি ঘিরে যে প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি, তাতে আমি অভিভূত। আমি বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকের অভিব্যক্তি দেখছি এবং তাঁদের চোখ দিয়ে ছবিটিকে নতুন করে অনুভব করার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যেই ছ’টি শহরে গিয়েছি, আরও কয়েকটি শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

Advertisement

গত কয়েক দিনে দিল্লি ও মুম্বইয়ের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন পরিচালক। তাঁর মতে, কোনও ছবির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ক্ষেত্রে দর্শকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত দর্শকই সর্বেসর্বা। আমরা প্রায়ই দর্শককে নানা শ্রেণিতে ভাগ করে তাঁদের পছন্দ-অপছন্দ বোঝার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার মনে হয়, দর্শক সিনেমাটা খুব ভাল ভাবেই বোঝেন। বরং তাঁদের থেকেই আমাদের শেখা উচিত কী ভাবে ছবি তৈরি করতে হয় এবং কী ভাবে সেই ছবির প্রচার করতে হয়।”

সমালোচকদের থেকে প্রশংসা পেলেও মুক্তির শুরুতে ছবিটি দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছিল। প্রথম দিনে দেশ জুড়ে বক্সঅফিসে ছবিটির আয় ছিল মাত্র ১.১৫ কোটি টাকা। কিন্তু দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং সমাজমাধ্যমে বাড়তে থাকা আলোচনা ছবির ভাগ্য বদলে দেয়। মুক্তির দশম দিনে ছবিটির মোট আয় পৌঁছোয় ৫.৭৫ কোটি টাকায় এবং মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই ছবিটি ৩০ কোটিরও বেশি আয় করে ফেলেছে।

দর্শকের প্রতিক্রিয়া পেয়ে কী বললেন পরিচালক? ছবি: সংগৃহীত।

ছবির এই সাফল্যের পিছনে পরিবেশক, প্রদর্শক এবং প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের ভূমিকাও বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন ইমতিয়াজ়। তিনি বলেন, “এই যাত্রায় আমি উপলব্ধি করেছি দর্শক, প্রেক্ষাগৃহ এবং পরিবেশকদের মধ্যে কত গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত নির্মাতারা ‘ট্রেড’কে ভয় পান, কিন্তু ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’র ক্ষেত্রে তাঁদের সমর্থন ছিল অসাধারণ। দর্শকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বহু প্রেক্ষাগৃহে অস্বাভাবিক সময়েও অতিরিক্ত শো চালু করা হয়েছে। তাঁরা ছবিটিকে নিজেদের ছবির মতোই সমর্থন করেছেন।”

সব মিলিয়ে, ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ভাল গল্প এবং দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকলে একটি ছবির ভাগ্য যে কোনও সময় বদলে যেতে পারে। বক্সঅফিসে এই ঘুরে দাঁড়ানো যেন সেই আভাসই দেয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement