পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় কী বললেন স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে? ছবি: ফেসবুক।
স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার। বৃহস্পতিবার রাতে খবর ছড়াতেই উত্তাল টলিউড। শুক্রবার সকাল থেকে নতুন করে আলোচনায় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। কারণ, তাঁর আর স্বরূপের দ্বন্দ্ব। আর একটি ভাইরাল ‘মিম’। উভয়ে গাঢ় চুম্বনে মগ্ন! মিমটি স্বরূপের গ্রেফতারির পরেই ছড়িয়েছে সমাজমাধ্যমে।
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘দ্বিতীয় পুরুষ’ ছবিতে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্যের এ রকমই একটি চুম্বনদৃশ্য আছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে অনির্বাণের জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বরূপকে!
পরমব্রত শনিবার তাঁর আগামী ছবি ‘আবার হাওয়া বদল’-এর প্রচারে এসেছিলেন দক্ষিণ কলকাতার একটি রেস্তরাঁয়। পরিচালনার পাশাপাশি ছবির অন্যতম নায়ক তিনি। পরমব্রত কি মিমটি দেখেছেন? পুরো বিষয়টিকে কী ভাবে দেখছেন? প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি এখনও, জানালেন তিনি। বললেন, “ইদানীং সমাজমাধ্যম খুবই কম দেখছি। ফলে, এখনও চোখে পড়েনি।” তার পরেই জোরে হেসে ফেললেন পরমব্রত। বললেন, “সত্যি সত্যিই যদি এই মিম তৈরি হয়ে থাকে তা হলে জানবেন, ওটা বিষাক্ত চুম্বন!”
ফেডারেশনের ‘একুশে আইন’, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় এক বছরের বেশি ‘ব্যান্ড’ ছিলেন পরমব্রত। যদিও তাঁকে সরাসরি ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেননি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি। তবে কাজ না পাওয়া বা তাঁর সঙ্গে কারও কাজ করতে না চাওয়ার নেপথ্যে কার হাত ছিল, এ কথা সবাই কমবেশি জানতেন। সেই স্বরূপ আপাতত পুলিশি হেফাজতে। পরমব্রত খুশি? জবাব দিতে একদম বাড়তি সময় নেননি। পরমব্রত বললেন, “নিজের চরম শত্রু বিপদে পড়লেও তাতে উৎসব করায় বিশ্বাস করি না। তা হলে তার আর আমার মধ্যে ফারাক কি থাকল? তবে হ্যাঁ, ঈশ্বর বলি বা সময়, তিনি সব হিসাব ঠিক ফিরিয়ে দেন। সেটা আবার প্রমাণ হল।”
২০১৩ থেকে ২০২৬। মাঝে এক যুগেরও বেশি সময়! সবেতেই হাওয়াবদল ঘটেছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক মতাদর্শ, টলিউড, বন্ধুত্বের অবস্থান... কথা শেষের আগেই স্মিত হেসে পরমব্রত জানালেন, গৌরচন্দ্রিকার দরকার নেই। তিনিই সম্পূর্ণ করে দিচ্ছেন। বড় শ্বাস নিয়ে বললেন, “এখন কেউ আর পুরোটা শোনেন না বা পড়েন না। আমার বক্তব্যের দুটো লাইন ভাইরাল। তাই নিয়ে মিম, বিস্তর গালমন্দ। এই বিষয়ে একটাই বক্তব্য— কী কারণে আমি সামনে থেকে লড়াই করেছি, সেটা যেমন জানি, তেমনই সেই লড়াইয়ে একেবারে সামনের সারিতে থেকে সব থেকে বেশি লড়েছি আমি। কেন লড়েছিলাম, কেন লড়াই ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি— সব জানিয়েছি। একটি কথা শুধু বলব, যে সময়ে এই লড়াই লড়তে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছি, কর্মহীন থেকেছি, পেশাদুনিয়ায় প্রায় ‘বয়কট’ হয়েছি, সে সময়ে ইন্ডাস্ট্রির দু’-তিন জন লোক ছাড়া কেউ ফোন করে জানতে চাননি, আমি কী করে টিকে আছি।” পরমব্রত তাই এই বিষয়ে নতুন করে ‘জবাবদিহি’ করার প্রয়োজন বোধ করছেন না।
স্বরূপ বিশ্বাস অস্তমিত! ফেডারেশন এবং ২৬টি গিল্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বদলে আসতে চলেছে কনফেডারেশন এবং বড় জোর চারটি নতুন কমিটি। যা নিয়ন্ত্রিত হবে দিল্লি থেকে। সম্প্রতি, এ কথা ঘোষণা করেছেন টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। ফেডারেশন না থাকা বা ২৬টি গিল্ডের জায়গায় মাত্র চারটি কমিটি কি পারবে টলিউডের ভালমন্দ দেখতে? এ বার সজাগ উত্তর তাঁর। পরমব্রত বললেন, “এখনই এ বিষয়ে বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তা ছাড়া, আমি কিছু বললেই ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হয়। তাই এ টুকুই বলব, সব কিছু আগে নির্দিষ্ট হোক। তার পর দেখা বা বোঝা যাবে, নতুন পরিচলন পদ্ধতি টলিউডের পক্ষে ভাল না মন্দ।”
বদল কি পরমব্রতের জীবনেও এসেছে? শনিবার নিরামিষ খাচ্ছেন! পুজোয় যোগ দিচ্ছেন। তাঁর পরিচালিত একাধিক সিরিজ়ে ঈশ্বর এবং অলৌকিক শক্তি জায়গা করে নিচ্ছে। আর? মৃদু হেসে ‘রক্তফলক’ সিরিজ়ের পরিচালক বললেন, “ঈশ্বরে বিশ্বাসী বরাবর। তার সঙ্গে রাজনৈতিক আদর্শের বা পেশাজীবনের কোনও বিরোধ নেই।” আগের তুলনায় শান্ত হয়েছেন, কথায় কথায় রেগে যান না— এগুলোই তাঁর জীবনের বাকি বদল।