Dev Supports Anirban

‘অনির্বাণকে নিলে খারাপ হবে না!’ নিষিদ্ধ অভিনেতার তরফে ক্ষমা চাইলেন দেব, আর্জি মমতা, অভিষেক, স্বরূপ-অরূপের কাছে

দেবের ছবিতে অভিনয় করবেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য? ইন্ডাস্ট্রিতে ‘নিষিদ্ধ’ অনির্বাণকে নিয়ে আর কী বললেন দেব?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০৩
Share:

দেব এ বার অনির্বাণ ভট্টাচার্যের পাশে। ছবি: ফেসবুক।

অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে এ বার টালিগঞ্জে কাজ করতে দেওয়া হোক বলে সটান আর্জি জানালেন দেব। তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতার কথায়, ‘‘তিন বারের সাংসদ বলুন, মেগাস্টার বলুন, টলিউডের অন্যতম কর্মী বলুন বা সাধারণ একজন মানুষ— যে নজরে আমায় দেখুন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, সকলের কাছে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চাইছি। ছেলেটাকে শান্তিতে বাঁচতে দিন। ওকে কাজ করতে দিন।”

Advertisement

দেবের বক্তব্য, ‘‘আমি অনুরোধ করব, যদি ক্ষমা চাইতে হয় অনির্বাণকে, তা হলে আমি তার হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। অনির্বাণকে প্লিজ় কাজ করতে দিন। এমন একজন অভিনেতা, যার বাংলায় দরকার। এবং বাংলায় এখনও ওর অনেক অবদান বাকি আছে। আমি অনুরোধ করব মমতাদি এবং অভিষেককে, যাঁরা বাংলাকে এতদিন ধরে আগলে রেখেছেন। এবং অরূপ বিশ্বাস এবং স্বরূপ বিশ্বাসকে যে প্লিজ় এটা দেখুন।’’

স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন ফেডারেশনের সঙ্গে অনির্বাণের সম্পর্ক এখনও যথেষ্ট ‘মধুর’। সেই কারণেই তাঁকে টালিগঞ্জে কাজ না-করতে দেওয়ার বিষয়ে ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’ রয়েছে। দেব সেই ‘নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নেওয়ার জন্যই আর্জি জানিয়েছেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট যে, ওই ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’ তোলানোর জন্য তিনি এতটাই আগ্রহী যে, মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক-সহ বিবিধ ‘প্রভাবশালী’র কাছে অনির্বাণের হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। দেবের আরও অনুরোধ, বিনোদন দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন। কাজ করতে না দিলে প্রত্যেকের বিপদ। তাই একা অনির্বাণ নয়, অন্যদেরও কাজ করতে দেওয়া উচিত।

Advertisement

শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর আগামী ছবিতে অনির্বাণ থাকবেন কি না (যে খবর বৃহস্পতিবার লিখেছিল আনন্দবাজার ডট কম), সেই প্রশ্নের জবাবে দেব বলেন, “এমন কোনও কথা হয়নি। আমি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলাম। কিন্তু দাদা এখনও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছু বলেননি। তবে কাল খবর বেরোনোর পর থেকে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছি যে, এটা হলে (অনির্বাণকে ওই ছবিতে নিলে) তো খারাপ হবে না।” দেবের নির্মিত ‘রঘু ডাকাত’ ছবিতে অনির্বাণ অভিনয় করেছেন। এ বারেও কি তার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? দেবের জবাব, ‘‘দেশু৭ ছবিতে অনির্বাণ থাকবে কি থাকবে না, এখনও জানি না। কারণ, ও যে মাপের অভিনেতা, তার জন্য যোগ্য চরিত্র দরকার। আমার মনে হয় না, চিত্রনাট্যের মধ্যে আমি অনির্বাণকে কতটা রাখতে পারব। তার পরে যদি মনে হয়, আমি ওকে নেওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত করতে পারব। পরে যেন মনে না হয়, আমি ভুল করেছি। ওকে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারিনি।”

প্রসঙ্গত, আনন্দবাজার ডট কম লিখেছিল, অনির্বাণের দেবের ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় কথা। সেই মর্মে কথাবার্তাও এগিয়ে গিয়েছে।

দেবের কথায় স্পষ্ট যে, তিনি অনির্বাণের জন্য প্রকাশ্যেই ‘দরবার’ করা শুরু করেছেন। যার সূত্র ধরে অনেকে বলছেন, দেব তাঁর আগামী ছবিতে অনির্বাণকে নেবেন বলেই তিনি আগ্রহী হয়েছেন যাতে অনির্বাণের উপর থেকে ‘নিষেধাজ্ঞা’ উঠে যায়। বস্তুত, দেব যেমন জানিয়েছেন, দেশুর আগামী ছবিতে অনির্বাণ থাকবেন কি না, তা তিনি এখনও জানেন না। অর্থাৎ, পরে থাকতেও (বা থাকতেই) পারেন। তেমনই দেব জানিয়েছেন, খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে তিনি ভেবে দেখছেন, অনির্বাণকে নিলে তো খারাপ হবে না! দেবের এই দু’টি বক্তব্যই প্রণিধানযোগ্য। তবে তাঁর কথায় এ-ও স্পষ্ট, যে তিনি কোনও ফেডারেশন তথা স্বরূপের সঙ্গে আপাতত সংঘাতে যেতে চাইছেন না। সেই কারণেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। আবার একই সঙ্গে মমতা এবং অভিষেকের কাছেও হস্তক্ষেপের আর্জি জানানো।

এ দিন ইম্‌পার অফিসে স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন দেব। তিনি ছাড়াও ছিলেন স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, স্বরূপ বিশ্বাস, প্রযোজক নিসপাল সিংহ রানে, রানা সরকার, প্রেক্ষাগৃহের মালিক ও পরিবেশক শতদীপ সাহা, পঙ্কজ লাডিয়া, অরিজিৎ দত্ত প্রমুখ। শুক্রবার কি বৈঠকের অবসরে স্বরূপের সঙ্গে তাঁর অনির্বাণকে নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে? দেব বলেন, “অনির্বাণকে নিয়ে কোনও কথা হয়নি।”

তবে বৈঠকের বাইরে অনির্বাণকে নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। দেবের কথায়, ‘‘নির্বাচনের সময় যখন ইডি-সিবিআই হয়, তখন আমাদের মনে হয়, এটা খারাপ হচ্ছে। সেখানে দাঁড়িয়ে আমাদের এই রাজ্যে একজন অভিনেতা ছ’মাস ধরে নিষিদ্ধ (ব্যান্‌ড) হয়ে আছেন, সেটাও অন্যায়। আমি মমতাদিকে অনুরোধ করছি, তাঁর উপরে তো ইন্ডাস্ট্রি বেঁচে আছে। উনি সবসময় ইন্ডাস্ট্রির পাশে থেকেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বললাম, ব্যাপারটা একটু দেখুন। অভিনেতারা ব্যান্‌ড হয়ে আছেন। একটা ছেলে আট মাস ধরে ব্যান হয়ে আছে। আমি টেকনিশিয়ানদের দিকটাও জানি। আমি তাঁদের স্টেজে তুলে সম্মান জানিয়েছি। আমার সরি বলতে কোনও অসুবিধা নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement