মুমতাজ় কেন ময়ূর মাধবানীকে বিয়ে করেন? ছবি: সংগৃহীত।
ষাটের দশকের শেষ দিক থেকে সত্তরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া নায়িকাদের অন্যতম ছিলেন মুমতাজ়। অভিনয়ের পাশাপাশি অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনও একসময় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ১৯৬৮ সালে মুমতাজ়কে প্রেমপ্রস্তাব দেন শম্মী কপূর। যদিও তা ফেরান অভিনেত্রী। ১৯৭৪ সালে, কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকাকালীন ব্যবসায়ী ময়ূর মাধবানীকে বিয়ে করে বিদেশে চলে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে নিজেকে সব কিছু থেকে সরিয়ে নেন অভিনেত্রী।
একটা সময়ে নাকি বলিউডের তাবড় অভিনেতারা মুমতাজ়ের প্রেমে পড়েছিলেন। মুমতাজ় অবশ্য জানিয়েছিলেন, তিনি একেবারে গোঁড়া ইরানি পরিবারের মেয়ে। তবে বাড়িতে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে কখনও কোনও বিভাজন দেখেননি। তিনি যেমন হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করেছেন, তাঁর বোনও তেমনই দিদির দেখানো পথেই হেঁটেছেন। পাশাপাশি মুমতাজ় বলেছিলেন, ‘‘সেই সময়ে আমার ময়ূরকে বিয়ে করা ছা়ড়া আর কোনও উপায় ছিল না। কারণ, ময়ূরের সঙ্গে সম্বন্ধে আমার মা, ঠাকুরমা, মাসিরা সম্মতি দিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁরাই বলেছিলেন যে, আমাকে অভিনয় ছেড়ে বিয়ে করতে হবে।’’
তখন মুমতাজ় কেরিয়ারের মধ্যগগনে।
অভিনেত্রী জানান, তার ভাগ্যে ময়ূরের সঙ্গে বিয়ে হওয়া লেখা ছিল, তাই হয়েছে। শোনা যায়, বিবাহিত সম্পর্কে থাকাকালীন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন মুমতাজ়। এমনকি তাঁর স্বামী ময়ূরেরও বান্ধবী ছিল বলে শোনা যায়।
মুমতাজ়ের কথায়, ‘‘আমার স্বামী কোনও কিছুরই খামতি রাখেননি। তবে আমি তো বড্ড জেদি! সত্যি কথা বলতে কী, ময়ূরের পরকীয়ার কথা শুনে আহত হয়েছিলাম। খুব একাকিত্বে ভুগতাম। ভারতে চলে আসি। সে সময়ে আমিও অন্যের প্রেমে ভেসেছিলাম। আসলে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় কেউ যদি প্রলেপ দিতে এগিয়ে আসে, তখন তো আমরা ভেসেই যাই!’’
যদিও অভিনেত্রী জানান, সে প্রেম ছিল ক্ষণিকের। ময়ূরের মতো স্বামী পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেন মুমতাজ়।