সহ-অভিনেত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ রবি। ছবি: সংগৃহীত।
ওটিটি-তে একসঙ্গে রবি কিশান, মাধুরী দীক্ষিত। মুক্তি পেয়েছে ‘মা বহেন’। এক সাক্ষাৎকারে সহ-অভিনেত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন অভিনেতা তথা রাজনীতিক। তিনি জানান, বহু বছর ধরে মাধুরীর অভিনয়ের ভক্ত হলেও প্রথম বার তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলেন। তবে শুটিংয়ের সময়ে মাধুরীর শান্ত, ধীরস্থির এবং ইতিবাচক মনোভাব তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
সাক্ষাৎকারে রবি বলেন, “ঈশ্বর! প্রথমে তো মনে হচ্ছিল যে, ওঁর সামনে কী করে কাজ করব, কেমন ভাবে সংলাপ বলব!” এর আগে শুধুমাত্র একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে মাধুরীর দেখা হয়েছিল বলেও জানান রবি। কিন্তু, একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ কখনও আসেনি।
ছবিতে তাঁদের বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে রবি বলেন, “ওঁর সঙ্গে আমার দৃশ্যগুলো অত্যন্ত আবেগঘন। এ রকম চরিত্র আমি আগে কখনও করিনি এবং মাধুরী ম্যামকেও এমন চরিত্রে দেখিনি। এমন মজার অভিব্যক্তি, ভঙ্গি, অভিনয়ের সূক্ষ্মতা দেখিয়ে এক অদ্ভুত জাদুকরী আবহ যে তিনি তৈরি করবেন, তা কেউই হয়তো কল্পনা করতে পারেনি।”
তবে মাধুরীর অভিনয়ের থেকেও তাঁর ব্যক্তিত্ব রবিকে বেশি মুগ্ধ করেছে। অভিনেতার দাবি, সেটে যত সমস্যাই হোক না কেন, মাধুরী কখনও বিরক্ত বা অধৈর্য হতেন না। রবির কথায়, “মাধুরী ম্যামের জীবনে কোনও সমস্যা নেই। বৃষ্টি হোক বা কাদা কাদা, কখনও ওঁকে অযথা কোনও বায়না করতে দেখিনি। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ুক, ঝিরিঝিরি— তিনি সবেতেই খুশি।”
তিনি আরও বলেন, “কারেন্ট চলে গেলেও তিনি আনন্দে থাকেন। রবি কিশান সেটে পৌঁছোতে দেরি করছেন বলে অপেক্ষা করতে হলেও আনন্দের সঙ্গে করেন। রিহার্সালের সময়ে যদি একটা বাড়তি বাক্য বলে দিই, তাতেও ওঁর কোনও সমস্যা নেই। মুখে সবসময়ে একটা হাসি লেগেই থাকে ওঁর।”
রবির মতে, বিশৃঙ্খলার মধ্যেও শান্ত থাকার এক অসাধারণ ক্ষমতা অর্জন করেছেন মাধুরী। এ ছাড়া নিজের লোকসভা কেন্দ্র গোরক্ষপুরে মাধুরীর জনপ্রিয়তার কথাও তুলে ধরেন রবি। একটি গয়নার দোকানের উদ্বোধনে মাধুরী সেখানে গেলে গোটা শহর নাকি কার্যত থমকে গিয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
রবির কথায়, “গোটা শহর থমকে গিয়েছিল। লোকজন গাছে উঠে পড়ছিল, দেওয়াল বেয়ে উপরে উঠে এক ঝলক অভিনেত্রীকে দেখতে চাইছিল। বিশেষত অল্পবয়সিরা প্রচণ্ড উৎসাহী ছিল।” তবে এত উন্মাদনার মধ্যেও নাকি মাধুরী ছিলেন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। রবি বলেন, “ওঁর নিরাপত্তা নিয়ে আমি চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু, ওঁর সে সবে মনই ছিল না। সারাক্ষণ স্নিগ্ধ হাসি মুখে দেখলাম ওঁকে।” রবির মুখে প্রশংসা শুনে হেসে ফেলেন মাধুরী। তিনি মজার ছলে জবাব দেন, “তুমি ভীষণই মিষ্টি।”
উল্লেখ্য, ‘মা বহেন’ ক্রাইম-কমেডি ঘরানার ছবি। গল্পটি একটি মধ্যবিত্ত ভারতীয় পরিবারকে কেন্দ্র করে। একাকী মা রেখা এবং তার দুই কন্যা জয়া ও সুষমা— তিন জনের পরিবার। তিন জনের জীবন ওলটপালট হয়ে যায় যখন তারা নিজেদের রান্নাঘরে একটি মৃতদেহ খুঁজে পায়। এখান থেকেই বাড়তে থাকে রহস্য।