Moushumi Chatterjee's Birthday

হেমন্তদা শীতকালে নলেন গুড় খেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ‘কড়া’ বৌমা মৌসুমী খেতে দেয়নি

মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথম আলাপ ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির সেটে। যদিও পারিবারিক পরিচিতি তারও আগে থেকে। সেই অভিজ্ঞতায় মৌসুমীকে তিনি কী ভাবে দেখেছেন, চিনেছেন, সেই কথাই অভিনেত্রীর জন্মদিনে আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে তুলে ধরলেন অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক।

Advertisement

রঞ্জিত মল্লিক

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৪
Share:

মৌসুমীর কোন জিনিসটা খারাপ লেগেছিল রঞ্জিতের? গ্রাফিক্স-আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

মৌসুমীর সঙ্গে আমার আলাপ দীর্ঘ দিনের। যদিও প্রথম আমরা কাজ করি ১৯৮১ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবিতে। তার পর ‘বিধিলিপি’, ‘বন্দিনী’, ‘শতরূপা’-র মতো কত ছবিতে কাজ করেছি। অসম্ভব প্রতিভার অধিকারিণী। আমি আমার কর্মজীবনে বহু অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছি। তাঁরা সবাই ভাল। কিন্তু মৌসুমী একটু হলেও সবার থেকে আলাদা। আসলে মৌসুমীর অভিনবত্ব হল, ও কমেডি চরিত্র ঠিক যতটা ভাল করতে পারে, ততটাই ভাল ও সিরিয়াস চরিত্রে। অনেক অভিনেত্রী দেখেছি, কিন্তু ওঁর মতো ‘কমিক টাইমিং’ আর কোনও অভিনেত্রীর মধ্যে দেখতে পাইনি।

Advertisement

আসলে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’-র সেটে মৌসুমীকে দেখে চমকে গিয়েছিলাম। উত্তমদার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ওর অমন অবলীলায় অভিনয় দেখে আমি মুগ্ধ! মৌসুমী কাজের প্রতি খুব নিষ্ঠাবান ছিল। এ দিকে, ব্যক্তিগত জীবনে সে ততটাই প্রাণবন্ত। এখানে একটা কথা বলতেই হয়, মৌসুমী এমন এক জন অভিনেতা, যাঁর কখনও গ্লিসারিন লাগেনি। শটের মধ্যে চোখে জল আনতে একটা প্রস্তুতি থাকে। কিন্তু ও হয়তো এমনি বসে আছে। কিন্তু চোখে জল আনার কোনও প্রসঙ্গ এলেই কী ভাবে যে চোখে জল আনতে পারত সেটা ভাবলে আজও বিস্ময় লাগে।

‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির একটি দৃশ্যে রঞ্জিত মল্লিক ও মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়।

মৌসুমীর সঙ্গে আলাপ আজ প্রায় ৫০ বছর হয়ে গেল। শুটিংয়ের সময় কত ধরনের মজার সময় কাটিয়েছি। আসলে মৌসুমী খুবই মিশুকে। গুরুগাম্ভীর্য ব্যাপারটাই ওর মধ্যে ছিল না কোনওদিন। তবে একই সঙ্গে মৌসুমী ততটাই বুদ্ধিমতী। শুটিংয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে টেকনিশিয়ান— সকলের সঙ্গেই খুব সহজ ভাবে মেলামেশা করত। ও আমার স্ত্রীর খুব ভাল বন্ধু ছিল, ওদের দু’জনের ভাল আড্ডা জমত।

Advertisement

মৌসুমী তো অভিজাত বাড়ির বৌ। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ। একটা ঘটনা মনে পড়ছে। ১৯৮৮ সাল সেটা। আমার গল্ফ গার্ডেনের বাড়িতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী এবং মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে নৈশভোজের নিমন্ত্রণ করেছিলাম। মৌসুমীর সঙ্গে আলাপের অনেক আগে থেকে হেমন্তদার সঙ্গে পরিচয়। কারণ, ওঁর কণ্ঠে অনেক গানেই আমি লিপ দিয়েছি। পারিবারিক আলাপ সেই অর্থে। সে দিন আমাদের বাড়িতে ওঁরা তিন জনেই এসেছিলেন। একটাই খারাপ লাগা বলতে পারি। শীতকালে নলেন গুড় খেতে চেয়েছিলেন হেমন্তদা। কিন্তু মৌসুমী এমন কড়া বৌমা যে খেতে দেয়নি। কারণ, হেমন্তদার মধুমেহ ছিল। যদিও ওঁর স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই খেতে দেয়নি। কিন্তু ওটা খারাপ লেগেছিল আমার। আসলে মৌসুমী ভীষণ আপন করে নিতে পারত সবাইকে।

শ্বশুরমশাই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়।

একটা দীর্ঘ সময় মৌসুমীর সঙ্গে কাজ হয়নি। আমাদের শেষ কাজ ‘নাটের গুরু’ ছবিতে। কোয়েলের টলিউডে আত্মপ্রকাশ ওই ছবিতে। আমরা স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে। আমার মেয়ের প্রথম ছবি, তাই খুব সাহায্য করেছিল মৌসুমী। কোয়েলকে অভিনয়ের বিষয়ে নানা পরামর্শ দিয়েছে। কোন অনুভূতি কী ভাবে প্রকাশ করলে ভাল হবে, কোন দৃশ্যে কী ভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করবে, সবটাই যেন দেখিয়ে দিত। সম্প্রতি ‘আড়ি’ ছবিতে আমরা দু’জনে কাজ করলাম। কিন্তু আমাদের দেখা হয়নি। নিশ্চয় পরে দেখা হবে। আমি চাইব, ও শান্তিতে থাকুক এবং এমনই প্রাণবন্ত থাকুক। জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement