Exclusive Set Visit Of Bengali Movie Rekha

শ্যামবাজারে প্রতিবাদ ধর্না! পথে ঋতুপর্ণা-সায়ন, বিদেশ থেকে উড়ে এলেন ‘অন্তঃসত্ত্বা’ রিয়া

ধর্নায় শামিল মমতাশঙ্করও। তাঁর প্রতিবাদী সত্তা আবার একবার প্রকাশ্যে। সেই প্রতিবাদী জমায়েতের একমাত্র সাক্ষী আনন্দবাজার ডট কম।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ১৯:২৬
Share:

শ্যামবাজারে শুটিংয়ে ব্যস্ত টিম ‘রেখা’। নিজস্ব চিত্র।

মমতাশঙ্কর প্রতিবাদী। ইদানীং অনেক বিষয় নিয়েই তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন। তার জেরে তিনি বিতর্কিত, আলোচিত এবং সমাজমাধ্যমে ভাইরালও! মৃণাল সেনের নায়িকা কিছু দিন ধরে ফের খবরের শিরোনাম। আবার সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। এ বার তাঁর প্রতিবাদ উত্তর কলকাতায় প্রোমোটাররাজ নিয়ে।

Advertisement

মমতাশঙ্করকে সমর্থন জানাতে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার পথে নামলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সায়ন মুন্সী। বিদেশ থেকে উড়ে এসেছেন রিয়া সেন! তিনি দ্বিতীয় বার ‘অন্তঃসত্ত্বা’। তাঁর সঙ্গে ঈশান মজুমদারও রয়েছেন। মাথার উপরে গনগনে সূর্য। সে সব উপেক্ষা করে তাঁরা শ্যামবাজারে! প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অল্পবিস্তর চোটও পেয়েছেন ঋতুপর্ণা-সায়ন।

প্রতিবাদে কার্যসিদ্ধি হল কী? তারকারা কি রুখে দিতে পারলেন এই প্রমোটাররাজ?

Advertisement

প্রতিবাদ ধর্নার একমাত্র সাক্ষী আনন্দবাজার ডট কম প্রশ্ন করেছিল প্রত্যেকের কাছে। মুখে-চোখে চোট নিয়েও ঋতুপর্ণার মুখে যেন যুদ্ধজয়ের হাসি। “সেটা বড়পর্দা বলবে। কারণ, আমরা যা করছি, সবটাই দেখা যাবে অনুপ দাসের আগামী ছবি ‘রেখা’তে। উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান বাসিন্দা রেখা ভট্টাচার্য। আচমকা তাঁর বাড়িতে প্রোমোটার হানা। মরিয়া রেখা তাঁর বক্তব্য একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন সমাজমাধ্যমে। তাঁর হয়ে পথে নেমেছেন এলাকার বাসিন্দা।”

শুটিংয়ের ফাঁকে পরিচালক অনুপ দাস। নিজস্ব চিত্র।

এই ‘রেখা’র চরিত্রে অভিনয় করছেন মমতাশঙ্কর। পরিচালক অনুপ প্রথমে এই চরিত্রে ভেবেছিলেন নাফিসা আলিকে। আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিনিধি তাঁর মুখোমুখি হতে নিজেই তুললেন সেই প্রসঙ্গ। বললেন, “এই আফসোস যাওয়ার নয়। নাফিসাজি এককথায় রাজি হয়েছিলেন। এটাই ওঁর প্রথম বাংলা ছবি হওয়ার কথা ছিল। ক্যানসার চতুর্থ বার তাঁকে অসুস্থ করে ফেলেছে। খুবই অসুস্থ তিনি।” পর ক্ষণে এ-ও জানালেন, একমাত্র মমতাশঙ্কর পেরেছেন ‘রেখা’ চরিত্রের গুরুভার বহন করতে। এই মুহূর্তে রাজ্যে, দেশে আরও নানা জ্বলন্ত বিষয় ছ়ড়িয়ে। সে সব ছেড়ে উত্তর কলকাতার ‘প্রোমোটাররাজ’ নিয়ে ছবি কেন? এ বার জবাব দিলেন সহকারী পরিচালক। বললেন, “অনুপদার পরিবার এই সমস্যায় জর্জরিত। ওঁর শাশুড়ির সঙ্গে এই অন্যায় ঘটেছে। দাদা পর্দায় সেই ঘটনা তুলে ধরে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।”

সকলেই তখন ছবি নিয়ে আলাপ-আলোচনায় মগ্ন। তাঁদের থেকে একটু বিচ্ছিন্ন রিয়া সেন। পেটের উপরে হাত রেখে ধীরেসুস্থে চলাফেরা করছেন। হাতে কফির মগ। পায়ে পায়ে তাঁর দিকে এগোতেই জানা গেল, তিনি মমতাশঙ্করের কন্যা। বিদেশে থাকেন। ছবিতে ঈশান তাঁর স্বামী। এক কন্যাসন্তানের পর ফের তিনি ‘অন্তঃসত্ত্বা’। সেই অবস্থাতেই মায়ের খবর জেনে উড়ে এসেছেন।

শুটে ঈশান মজুমদার, রিয়া সেন এবং জনৈক শিশুশিল্পী। নিজস্ব চিত্র।

অনেক বছর পরে রিয়া বাংলা ছবিতে। শুট করছেন উত্তর কলকাতার অলিতে গলিতে। কেমন লাগছে? প্রশ্ন করতেই অভিনেত্রী বললেন, “ঋতুদির সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। সেই জন্য এই অতিথি চরিত্রে অভিনয় করছি। এক দিনের শুটিং।” শট শেষ হতেই তিনি ফিরে গিয়েছেন অভিনয়প্রসঙ্গে। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, “আমায় কেউ অভিনয়ের জন্য ডাকেন? সুযোগ দেন? আমাকেও না, রাইমা সেনকেও নয়। সেই এক ধরনের চরিত্রে আমায় ভাবা হয়। তাই অভিনয় থেকে দূরে।” ভাল চরিত্র পেলে তিনিও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন, দাবি রিয়ার।

যাঁকে ঘিরে এত কাণ্ড, সেই মমতাশঙ্কর কী করছেন? সাদা তাঁতের শাড়ি আটপৌরে ভঙ্গিতে পরা। মৃণাল সেনের নায়িকা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মেকআপ ভ্যানে বসে রূপটান নিচ্ছিলেন। ঘাড়ের কাছে হাতখোঁপা। চুল অল্প হাওয়ায় উড়ছে। ঠোঁটে ন্যুড লিপস্টিক বুলিয়ে ঘুরে তাকালেন তিনি। চশমার ও পারে ঝকঝকিয়ে উঠল তাঁর চোখ। ইদানীং নানা ছবিতে, নানা চরিত্রে আপনি। এখনকার পরিচালকেরা কি নতুন করে আবিষ্কার করছেন মমতাশঙ্করকে? প্রশ্ন শুনে চওড়া হাসি। কথা শুরুর আগে ধন্যবাদ জানালেন ঈশ্বরকে। বললেন, “কোনও দিন নিজের জন্য কাউকে বলিনি। সবটাই ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দিয়েছি। বিশ্বাস করি, আমার যা পাওয়ার, সেটা ঠিকই উনি দেবেন। সেই বিশ্বাসের জোরেই হয়তো ইদানীং নানা ধারার চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে পারছি। সত্যিই খুব ভাল লাগছে।” এই প্রসঙ্গে তিনি আবার মনে করিয়ে দিলেন, বয়স সংখ্যামাত্র। যে কোনও বয়সে ফিরে আসা যায়।

তপতী মুন্সী এবং মমতাশঙ্কর। নিজস্ব চিত্র।

বাস্তবেও মমতাশঙ্কর প্রতিবাদী। পর্দায় তারই ছায়া? “কী করব বলুন, কেউ যদি আমার হয়ে বলার না থাকে, তখন তো নিজের কথা নিজেকেই বলতে হবে! আমিও তাই ভিডিয়ো করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দিয়েছি”, বলতে বলতে হেসে ফেললেন তিনি। কলকাতা এখন নাকি ‘বৃদ্ধাশ্রম’-এ পরিণত হয়েছে! এই প্রজন্মের অধিকাংশই এখন শিক্ষা বা উপার্জনের তাগিদে বিদেশে। শহরে বাড়ি আঁকড়ে পড়ে থাকা মা-বাবারা বড্ড একলা! শুনে মমতাশঙ্করের মুখে ব্যথার ছায়া। দীর্ঘশ্বাস চেপে বললেন, “এই প্রজন্মের কাছে আমার অনুরোধ, তোমরা লেখাপড়া শিখে দেশে ফিরে এসো। এখানে চাকরি করো। তোমাদের শিক্ষায় দেশ উন্নতি করুক। এগিয়ে যাক। মা-বাবাদেরও তা হলে আর একা থাকতে হবে না।”

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সঙ্গে পাপিয়া সেন। নিজস্ব ছবি।

একই বক্তব্য ঋতুপর্ণারও। তিনি এই ছবিতে ‘বুলি’। সংসার সামলান রেখার। তিনি আর তাঁর প্রেমিক সায়ন এই বর্ষীয়ান বাসিন্দার ঢাল। ঋতুপর্ণার কথায়, “এই ধরনের গল্প পর্দায় তুলে ধরা দরকার। সেই জন্যই আমি ছবির নিবেদক। এই ছবিতে দাপুটে অভিনেতা পাপিয়া সেন, তপতী মুন্সী, দুলাল লাহিড়ী, ছন্দা করঞ্জিও আছেন।” তিনি এ-ও জানান, নিজেকে নিয়ে পরীক্ষা করার ঝোঁক তাঁর এখনও রয়েছে। সেই জন্যই ছবিতে তিনি গৃহ পরিচারিকার চরিত্রটি বেছে নিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ‘রেখা’র চরিত্রটিও তো ঋতুপর্ণা বেছে নিতে পারতেন? প্রযোজক-অভিনেত্রীর যুক্তি, “ওই চরিত্রের ভার নেওয়ার মতো ক্ষমতা আমার এখনও হয়নি।” তা ছাড়া, ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও অনেক বর্ষীয়ান অভিনেতা রয়েছেন, যাঁরা কাজ করতে চান। কিন্তু ডাক পান না। যাঁর যা বয়স, তাঁকে সেই চরিত্রে নিলে ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই কাজ পাবেন।

নাকে, গালে কাটা দাগ। সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে। গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি-গোফঁ। হাওয়াই শার্ট আর ট্রাউজার পরে ‘ট্যাক্সিচালক’ সায়ন মন দিয়ে শুনছিলেন সকলের কথা। শট দেওয়ার আগে কখনও ঋতুপর্ণা, কখনও রিয়ার সঙ্গে খুনসুটিতেও মাতছিলেন। সায়নকে শেষ দেখা গিয়েছে অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর ‘ডিয়ার মা’ ছবিতে। সেটিও বাংলা ছবি। উত্তর কলকাতার সংস্কৃতি জানেন তিনি? অভিনেতা জানালেন, গত কয়েক বছর তিনি কলকাতার বাসিন্দা। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে উত্তর কলকাতায় টেনিস শিখতে আসতেন। ফলে, শহরকে একেবারে চেনেন না, তা নয়। তবে এই ছবিতে তাঁর কাজের আকর্ষণ ঋতুপর্ণা। “ঋতুর সঙ্গে অনেক দিন ধরে কাজের কথা চলছিল। কিন্তু হয়ে আর উঠছিল না। এ বার সেটা হচ্ছে। আশা, দর্শকের আমাদের কাজ ভাল লাগবে।”

মাথার উপরের জ্বলন্ত সূর্য তখনও তাপ ঢালছে। একটি শট শেষ হতেই সকলে পরের শটের জন্য ব্যস্ত। শ্যামবাজারের মতো অঞ্চলে প্রতিবাদী ধর্নার খবর পেয়ে উপস্থিত অন্য সাংবাদিকেরাও। তাঁরাও বিষয়টি জেনে মমতাশঙ্কর ওরফে ‘রেখা’র পাশে। চ্যানেলের বুম হাতে বাসিন্দার হয়ে সওয়াল-জবাবে ব্যস্ত। তাঁদের দিকে চোখ যেতেই বিস্ময়! যাঁরা এসেছেন, তাঁদের কেউ বাস্তবেও জনপ্রিয় সাংবাদিক, কেউ চিত্রনাট্যকার! পরিচালকের সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় হতেই রহস্যময় হাসি তাঁর ঠোঁটে। শট নিতে নিতে ইশারায় জানালেন, এঁরা ছবির আরও এক চমক। তাঁর আমন্ত্রণে নিজ নিজ পেশা সরিয়ে রেখে এ দিন প্রত্যেকে ক্যামেরার সামনে চোস্ত ‘অভিনেতা’।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement