প্রয়াত সাধনা

সে সময় হলিউডের নায়িকা অড্রে হেপবার্নের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। রোমান হলিডে বা ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানিজ-এ কপালের উপরে ছোট করে কাটা চুল সারা পৃথিবীর চোখের মণি। ছিপছিপে নতুন মেয়েটি সেই স্টাইলকে নিয়ে এলেন আরব সাগরের তীরে।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৩৫
Share:

সে সময় হলিউডের নায়িকা অড্রে হেপবার্নের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। রোমান হলিডে বা ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানিজ-এ কপালের উপরে ছোট করে কাটা চুল সারা পৃথিবীর চোখের মণি। ছিপছিপে নতুন মেয়েটি সেই স্টাইলকে নিয়ে এলেন আরব সাগরের তীরে। ছবির নাম ‘লভ ইন শিমলা’। কিছু দিনের মধ্যেই মাথায় বুফোঁর সঙ্গে কপালে ‘ফ্রিঞ্জ’ বলিউডের ঘরোয়া হয়ে গেল। নাম হল, ‘সাধনা কাট’।

Advertisement

ষাটের দশকের সেই স্টাইল-ঈশ্বরী সাধনা (৭৪) আজ ভোরে মারা গেলেন। মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে গত কয়েক দিন ধরে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

গত বছর মুখে একটা ক্ষত হয়েছিল। ক্যানসার ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারও হয়। তবে তার অনেক আগে থেকেই সাধনা সরে গিয়েছিলেন আড়ালে। সত্তর দশকের মাঝামাঝির পর থেকে তাঁকে দেখা যেত না সে ভাবে। অল্প কয়েক জন বান্ধবী— নন্দা, ওয়াহিদা রহমান, হেলেন আর আশা পারেখ— ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। এমনকী নিজের খুড়তুতো বোন অভিনেত্রী ববিতার সঙ্গেও না। এই স্বেচ্ছা অন্তরালে চলে যাওয়ার ব্যাপারে সাধনার সঙ্গে সুচিত্রা সেনের মিল পান অনেকে। বছর দুয়েক আগে একটা বলিউডি পুরস্কার-রজনীতে এসেছিলেন কেবল। সারা জীবনের কাজের জন্য সম্মানিত করা হয়েছিল তাঁকে। আশা ভোঁসলের একটা বাড়িতে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকতেন সাধনা। সম্প্রতি তাই নিয়ে মামলা-মোকদ্দমাও হয়।

Advertisement

পুরো নাম সাধনা শিবদাসানি। ১৯৪১ সালে জন্ম করাচির এক সিন্ধি পরিবারে। সাধনার বাবা ছিলেন বাঙালি অভিনেত্রী সাধনা বসুর ভক্ত। তাঁর নামেই মেয়ের নাম রাখেন। বয়স যখন পনেরো, রাজ কপূরের ‘শ্রী ৪২০’ ছবিতে প্রথম দেখা যায় সাধনাকে। ‘মুড় মুড় কে না দেখ’ গানের কোরাসে। তার পর একটি সিন্ধি ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন সাধনা। সেই সূত্রে এক ফিল্ম ম্যাগাজিনে তাঁর ছবি দেখেন ডাকসাইটে প্রযোজক শশধর মুখোপাধ্যায়। তিনিই নিজের ছেলে জয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘লভ ইন শিমলা’য় নায়িকা বেছে নেন সাধনাকে। পরিচালক, সাধনার হবু স্বামী আর কে নায়ার। সাধনার কপাল চওড়া বলে নায়ারই ‘ফ্রিঞ্জ’ কাটার প্রস্তাব দেন।

‘আসলি নকলি’, ‘হাম দোনো’, ‘মেরে মেহেবুব’, ‘এক মুসাফির এক হাসিনা’, ‘আরজু’, ‘রাজকুমার’, ‘মেরা সায়া’, ‘উওহ কৌন থি’, ‘এক ফুল দো মালি’— একের পর এক হিট উপহার দিয়ে গিয়েছেন সাধনা। সঙ্গে অসংখ্য হিট গান। তা সে ‘ঝুমকা গিরা রে’ হোক বা ‘নয়না বরসে রিমঝিম’। ভারতীয় কিংবা পাশ্চাত্য, সব রকম পোশাকে মানানসই ছিলেন। চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য তো ছিলই। পাশাপাশি ‘মেরা সায়া’র দ্বৈত ভূমিকা বা ‘উওহ কৌন থি’-র রহস্যময়ী সাধনা অভিনেত্রী হিসেবেও সমীহ আদায় করেছিলেন।

১৯৯৫ সালে মারা যান সাধনার স্বামী। পালিতা মেয়েকে নিয়ে একাই থাকতেন তার পর থেকে। সেই একাকীত্ব সঙ্গে নিয়েই চলে গেলেন। আভি না যাও ছোড়কর...বলার সুযোগ দিলেন না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement