Suman Kalyanpur

সংঘাতের জেরে রফি-লতা ডুয়েট বন্ধ! তার পরেই কী ভাবে পর পর সুযোগ পেলেন সুমন কল্যাণপুর?

৬০ ও ৭০-এর দশকে লতা মঙ্গেশকরের পাশাপাশি নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তবে শোনা যায়, লতা মঙ্গেশকর ও মহম্মদ রফির মধ্যে মতবিরোধ হওয়ার পরেই সুমন কল্যাণপুরের ভাগ্য অন্য দিকে মোড় নেয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ২১:১৮
Share:

লতা-রফির দ্বন্দ্বের পরেই উত্থান সুমনের? ছবি: সংগৃহীত।

রবিবার প্রয়াত হয়েছেন প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী সুমন কল্যাণপুর। লোখন্ডওয়ালার বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। একসময় লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তাঁর সর্বদা তুলনা হত। যে সময়ে বলিউডের প্লেব্যাক জগতে লতার একাধিপত্য, সেই সময়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন সুমন কল্যাণপুর।

Advertisement

৬০ ও ৭০-এর দশকে লতা মঙ্গেশকরের পাশাপাশি নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তবে শোনা যায়, লতা ও মহম্মদ রফির মধ্যে মতবিরোধের পরেই সুমন কল্যাণপুরের কর্মজীবন অন্য দিকে মোড় নেয়। সেই সময়ে ‘রয়্যালটি’ বা গানের স্বত্ব নিয়ে লতা ও রফির মধ্যে বিরোধ বাধে। লতা চেয়েছিলেন, সব গায়ক-গায়িকাই যেন গানের রয়্যালটি পান। এই দাবিতে সেই সময়ের নামী শিল্পীরা সেই সময়ের বৃহত্তম এক মিউ়জ়িক সংস্থার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু রফি সেই সংস্থার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি লতার ভাল লাগেনি।

২০০৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে লতা মঙ্গেশকর নিজেই তাঁর সঙ্গে মহম্মদ রফির বিরোধিতার কথা বলেছিলেন। তিনি আরও জানান, এক বৈঠকে রফি তাঁকে ব্যঙ্গ করে ‘মহারানি’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। এর জবাবে লতা বলেছিলেন, “আমি মহারানি হতে পারি, কিন্তু আপনি আমাকে এ ভাবে কেন ডাকছেন?” পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছোয় যে, রফি ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি আর কখনও লতার সঙ্গে গান গাইবেন না। লতাও পাল্টা সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনিও আর রফির সঙ্গে কোনও গান গাইবেন না। এখান থেকেই সুমন কল্যাণপুরের উত্থান।

Advertisement

লতা ও রফির এই দীর্ঘ দিনের দূরত্বের কারণে অন্য গায়িকার খোঁজ শুরু হয়, যিনি রফির সঙ্গে ‘ডুয়েট’ গাইতে পারবেন। তখনই সুমন কল্যাণপুর সুযোগ পেতে শুরু করেন, কারণ তাঁর কণ্ঠের সঙ্গে লতার কণ্ঠের তুলনা হত। রফির সঙ্গে তিনি একের পর এক জনপ্রিয় ‘ডুয়েট’ গাইতে থাকেন। এর মধ্যে ছিল ‘আজকাল তেরে মেরে পেয়ার কে চর্চে’ এবং ‘তুমনে পুকারা অউর হাম চলে আয়ে’র মতো গান।

লতার সঙ্গে তুলনার বিষয়টিকে অবশ্য সুমন নিজে কখনও গুরুত্ব দেননি। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি লতাকে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেও উল্লেখ করেছিলেন। সুমন বলেছিলেন, “সবাই লতার গান ভালবাসত। তিনি চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন। যখনই ওঁর সঙ্গে দেখা হত, মনে হত খুব কাছের এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করছি। আমার বিশ্বাস, ওঁরও একই অনুভূতি ছিল।”

১৯৫৯ সালের মীনা কুমারী অভিনীত ‘চাঁদ’ ছবিতে লতা মঙ্গেশকর ও সুমন কল্যাণপুর একসঙ্গে ‘কভি আজ কভি কাল’ গানটি গেয়েছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement