অদিতি মুন্সী। ছবি: সংগৃহীত।
সদ্যোজাতকে বাড়িতে রেখেই দিনের পর দিন ভোটের প্রচার করেছেন রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের তৃণমূলপ্রার্থী সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সী। সঙ্গে বিরোধীদের কড়া আক্রমণের জবাব দিয়েছেন হাসিমুখে। এত করেও শেষরক্ষা হল না তৃণমূলের তারকা প্রার্থীর। দিনের শেষে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর তথা বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এটা জনগণের রায়, মেনে নিতেই হবে!’’
বিপুল ভোটে পরাজিত রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের তৃণমূলপ্রার্থী অদিতি মুন্সী। অদিতির কাছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। শিল্পী ও বিধায়ক হিসাবে দায়িত্ব ছিলই, এর সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে মাতৃত্বের দায়িত্বও। সদ্যোজাতকে বাড়িতে রেখেই দিনের পর দিন ভোটের প্রচার করেছেন অদিতি। সঙ্গে বিরোধীদের কড়া আক্রমণের জবাব দিয়েছেন হাসিমুখে। এ বার অদিতির বিপক্ষে ভোটে ল়ড়েছেন বিজেপিপ্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।
গণনা শুরু হওয়ার পর প্রথম থেকেই পিছিয়ে পড়েছিলেন অদিতি। দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষে যেখানে তরুণজ্যোতি আর অদিতির মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ১৫৮২, সপ্তম রাউন্ডের শেষে সেই ব্যবধান গিয়ে পৌঁছোয় প্রায় ১৫০১৬ ভোটে। শেষমেশ ১৪ নম্বর রাউন্ডের শেষে ২৭৭৫৭ ভোটে পরাজিত হন অদিতি। মোট ১৪টি রাউন্ডের মধ্যে একটি বারের জন্যেও গণনায় এগোতে দেখা যায়নি তাঁকে।
প্রচারে বেরিয়ে অদিতি জানিয়েছিলেন, মা হওয়ার পরে যেখানে মহিলাদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোণঠাসা করে রাখা হয়, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বারেও তাঁর উপর ভরসা রেখেছেন বলে তিনি আপ্লুত। কেবল রাজনৈতিক পরিচতি নয়, সঙ্গীত জগতের পরিচিত মুখ অদিতির অনুরাগী সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাই এ বারও প্রচারের শুরু থেকেই বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি।
২০২১ সালে পূর্ণেন্দু বসুর বদলে অদিতিকে রাজারহাট-গোপালপুরের তারকা প্রার্থী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিপক্ষে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী শমিক ভট্টাচার্য। গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ২৫ হাজার ভোটে শমিককে পরাজিত করে বিধায়ক হয়েছিলেন অদিতি। তবে অনেকেই কটাক্ষ করে বলেছিলেন অদিতির জয়ের নেপথ্যে ছিলেন তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। অদিতি বরাবরই স্বামীর কর্মকাণ্ডকে ফলাও করে তুলে ধরেছেন জনগণের সামনে। এ বারের প্রচারেও দেবরাজ ছিলেন অদিতির ছায়াসঙ্গী।
মমতা আস্থা রেখেছিলেন এ বারেও। বড় দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন অদিতির হাতে। তবে শেষমেশ দলের মতো অদিতিও নিরাশ করলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অদিতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি।