দেবাদৃতা বসু, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
সমাজ অত্যাধুনিক। তার পরেও মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক ‘ট্যাবু’। যেমন, নারী বা পুরুষ বিবাহিত হলে এবং তাঁদের সন্তান থাকলে, সেই নারী বা পুরুষের সঙ্গে অনেক পরিবার তাদের ছেলে বা মেয়ের বিয়ে দিতে চায় না। সমাজ সত্যিকারের শিক্ষিত হলে এই মানসিকতা কি থাকা উচিত?
‘কমলা নিবাস’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তারই ইতিবাচক বার্তা দিতে আসছেন পরিচালক রাজেন্দ্র প্রসাদ দাস।
ধারাবাহিকের নায়ক সাগর বিবাহিত। এক কন্যার পিতা। তাঁরই সহকর্মী পল্লবীকে খুব পছন্দ করে সাগরের একরত্তি মেয়ে। সে কথা জানেন সাগরের মা। তিনি তাই সাগরের সঙ্গে পল্লবীর সম্বন্ধ করতে হাজির ‘কমলা নিবাস’-এ। পরিবারের বাকিদের এই বিয়েতে তীব্র আপত্তি। পল্লবীর দাদা-ভাইদের ব্যঙ্গ, “এটা কি একটা কিনলে আর একটি ফ্রি-র অফার?” পল্লবীর বাবা মেয়ের উপরে সবটা ছেড়ে দিয়েছেন। মায়ের উপলব্ধি, সাগর ভাল রাখবে পল্লবীকে।
পল্লবীও কি সেটাই মনে করে? আধুনিক, শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত বাড়ির মেয়েটি কি সাগরের দ্বিতীয় স্ত্রী হবে?
‘কমলা নিবাস’ ধারাবাহিকে এই দুই চরিত্রে অভিনয় করছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, দেবাদৃতা বসু। দেবাদৃতার মা-বাবা সোহিনী সরকার, দেবশঙ্কর হালদার। পর্দার ‘পল্লবী’র কথা জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল দেবাদৃতার সঙ্গে। তাঁর কথায়, “পল্লবী মেনে নেবে কি না, সেটা ধারাবাহিকে দেখানো হবে। তবে এটা ঠিক, এই ধরনের আরও অনেক ‘ট্যাবু’ ভাঙার চেষ্টা করবে আমাদের ধারাবাহিক।” বাস্তবে একই পরিস্থিতির মধ্যে পড়লে কী করতেন নায়িকা? দেবাদৃতার সপ্রতিভ জবাব, “আজকের দিনেও হয়তো মধ্যবিত্ত কিছু পরিবারে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধা বা আপত্তি আছে। যেমন পল্লবীর দাদা-ভাইরা। কিন্তু কোথাও গিয়ে পল্লবীর সঙ্গে দেবাদৃতার মিলও রয়েছে। পল্লবীর মতো সে-ও এই ধরনের ভাবনা, মানসিকতা বা আপত্তিতে সায় দিতে রাজি নয়।”
নায়িকা আরও জানিয়েছেন, বাস্তবে যদিও তাঁকে এরকম কোনও পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে না।
‘কমলা নিবাস’ দিয়ে এই প্রথম পরমব্রতের সঙ্গে জুটিতে দেবাদৃতা। অভিনেতার অভিনয়জীবনের শুরু ছোটপর্দা দিয়েই। ১৮ বছর পরে পুরনো জায়গায় ফিরতে পেরে তাই খুশি তিনি। খুশি দেবশঙ্কর, সোহিনী এবং এই প্রজন্মের অভিনেতা দেবাদৃতার সঙ্গে কাজ করতে পেরে। দেবাদৃতার অভিজ্ঞতা কেমন? জবাবে তিনি বললেন, “একা পরমদা নন, সকলের সঙ্গে কাজ করতে খুব ভাল লাগছে। কারণ, ধারাবাহিকে তারকা অভিনেতারা কাজ করছেন। এঁদের থেকে অনেক কিছু শিখছি।” যেমন, শটের আগে প্রয়োজন পড়লে তিনি পরমব্রতকে ‘মহড়া’ দিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান। অভিনেতা সেই অনুরোধ রাখেন। একই ভাবে কোনও দৃশ্যে দেবাদৃতার অভিনয় ভাল হলে প্রকাশ্যে প্রশংসাও করেন।
শুক্রবার থেকে জ়ি বাংলা চ্যানেলে শুরু হবে সাগর-পল্লবীর বিয়ের কথাবার্তা। দেবাদৃতার প্রেমিক অভিনেতা রাহুল পরমব্রত-দেবাদৃতার পর্দার ‘রসায়ন’ দেখে কী বলছেন?
দেবাদৃতার স্পষ্ট জবাব, “আমি আর রাহুল পরস্পরের কাজ খুব খুঁটিয়ে দেখি। কাজের ভালমন্দ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করি। এ বারেও সেটাই হচ্ছে। রাহুলের চোখে কিছু পড়লে সেটা ধরিয়ে দিচ্ছে।” তার পরেই অল্প হেসে দাবি করেছেন, এর বেশি আর কিছুই নয়।