NEET-UG Paper Leak Protest

৬ জুন ভারতে ফিরছেন ‘ককরোচ’ দলের প্রতিষ্ঠাতা, নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে নামবেন দিল্লির রাজপথে

এই ‘ককরোচ’ দলের নেপথ্যে রয়েছে বস্টন-ভিত্তিক প্রযুক্তিবিদ অভিজিৎ দীপকে। অনলাইন দুনিয়ায় যখন হু হু করে তাঁর দলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে, সেই আবহে প্রকাশ্যে আসে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি। তারই প্রতিবাদে পথে নামতে দেশে ফিরছেন ওই দলের প্রতিষ্ঠাতা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ২৩:১৩
Share:

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দেশে ফিরছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। নিট-ইউজি-তে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতেই তাঁর ভারতে প্রত্যাবর্তন। আগামী ৬ জুন এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। প্রধান বিচারপতির মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা অন্য কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন ও সকলকে আক্রমণ করেন। প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যের পর গত ১৬ মে সিজেপি আত্মপ্রকাশ করে। ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ (ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন) হিসাবে পথ চলা শুরু করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নেটমাধ্যমে প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলে সিজেপি।

এই ‘ককরোচ’ দলের নেপথ্যে রয়েছে বস্টন-ভিত্তিক প্রযুক্তিবিদ অভিজিৎ। অনলাইন দুনিয়ায় যখন হু হু করে তাঁর দলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে, সেই আবহে প্রকাশ্যে আসে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি। দেশ জুড়ে এই নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে সমর্থন জানান অভিজিৎও। এ-ও জানান, নিট-আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকতে দেশে ফিরবেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জোরাল করে তোলেন। এক্স হ্যান্ডলে এক ভিডিয়োবার্তায় অভিজিৎ বলেন, ‘‘এখন সময় এসেছে আমাদের সকলকে ভারতের সংবিধানের পথ অনুসরণ করে একত্রিত হওয়ার। শান্তিপূর্ণ ভাবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আওয়াজ তুলতে হবে।’’

Advertisement

ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের দাবিতে আট লক্ষের বেশি পড়ুয়া একটি অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন বলে উল্লেখ করে অভিজিৎ বলেন, ‘‘লখনউ, জয়পুর, মহারাষ্ট্র-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভের মাধ্যমে এই আন্দোলনকে সমর্থন করতে দেখা গিয়েছে।’’ নিট, সিবিএসই, সিউইটি-তে বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ করে অভিজিৎ বলেন, ‘‘এত বড় ভুলের পরেও যদি শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না-করেন, তার অর্থ এই দেশে আরও কোনও জবাবদিহির অবকাশ নেই।’’ তাঁর কথায়, ‘‘প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার কারণে ভুগতে হয় মূলত পড়ুয়াদেরই।’’

অভিজিৎ জানান, ৬ জুন তিনি দিল্লি এসে যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখানোর জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাইবেন। আন্দোলনে কোনও সহিংসতার জায়গা নেই। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার বন্ধু বা পরিবারের লোকেরা গ্রেফতারির ভয় পাচ্ছেন। তবে আমি এখনও বিশ্বাস করি আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক। সেখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অনুমতি পাব। এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি গান্ধীজি, অম্বেদকর, ভগৎ সিংহের বড় ভক্ত। আমি সবকিছুর চেয়ে ভারতের সংবিধানকে বেশি বিশ্বাস করি। সংবিধানে আমাদের সকলকে কথা বলার অধিকার দেয়।’’

গ্রেফতারির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অভিজিৎ। তবে এ-ও বলেন, ‘‘আমরা আর কত দিন ভয়ে থাকব? এই দেশ কোনও এক দলের নয়। দেশ আমাদের সকলের। এটা আমাদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব হল, এই দেশে কারও সঙ্গে অন্যায় হলে গণতান্ত্রিক উপায়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করার।’’ অভিজিৎ আরও জানান, তিনি সম্প্রতি আমেরিকার একাধিক চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন। তবে তিনি ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, তিনি চান দেশের জন্য অবদান রাখতে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement