New Generation Love

‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘বেঞ্চিং’— সম্পর্কের নানা পোশাকি নাম! বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতারা কি এই প্রেমে বিশ্বাসী?

প্রজন্ম বদলের সঙ্গে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশও বদলেছে ধীরে ধীরে। নারী-পুরুষের প্রেমের চাহিদাও বদলে যাচ্ছে। এই বদল সাধারণ মানুষ থেকে পর্দার অভিনেতা— সবার মধ্যেই স্পষ্ট ভাবে ধরা দিয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৬
Share:

বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের প্রেমের ভাষা কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

জীবন পরিবর্তনশীল। সবকিছুরই বদল ঘটে। প্রজন্ম বদলের সঙ্গে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশও বদলেছে ধীরে ধীরে। নারী-পুরুষের প্রেমের চাহিদাও বদলে যাচ্ছে। এই বদল সাধারণ থেকে পর্দার অভিনেতা— সবার মধ্যেই স্পষ্ট ভাবে ধরা দিয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছে ভালবাসার ভাষা কী? সঙ্গীদের কাছে কি তাঁদের চাহিদার ভাষাও বদলেছে?

Advertisement

ভালবাসার মোড়ক বদলালেও, প্রেম একই আছে। মত অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের। বললেন, “চাহিদা থাকা কিন্তু ভুল নয়। আমার মা-বাবাদের প্রজন্মের ক্ষেত্রে, সঙ্গীদের কাছে যে চাহিদা থাকত তা অনেকটাই নির্ভর করত পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপরে। এখন আমাদের ক্ষেত্রে সবটাই প্রকট হয়ে ওঠে, নিজেদের কথাগুলো আমরা সহজে বলতে পারি। বরং আমার মনে হয় আমাদের প্রজন্মে সম্পর্কে ‘স্পেস’ দেওয়ার জায়গাটা কমে গিয়েছে। যেটা আগে হত না।”

অভিনেতার মতে, প্রেমের প্রকাশভঙ্গী বদলেছে। কিছু বছর আগেও ‘ডেটিং অ্যাপ’-এর এত রমরমা ছিল না। ফলে ইদানীং নারী-পুরুষ দু’জনেই জানেন, তাঁরা ঠিক কোন সম্পর্কটা চান। সঙ্গীতশিল্পী তথা অভিনেত্রী রাপূর্ণা ভট্টাচার্য অবশ্য ভাল রেস্তরাঁয় নিয়ে গেলেই খুশি। তিনি বললেন, “এখন আমরা প্রেমের বিভিন্ন স্তরের নাম দিয়েছি। আমরা নিজেদের সঙ্গীদের সহজে বলতে পারি আমরা কী চাই? যেমন, আমি খেতে ভালবাসি। আমাকে ভাল জায়গায় খাওয়াতে নিয়ে গেলেই খুশি হয়ে যাই। একটা সময় এটাও সঙ্গীকে সহজে বলতে পারতেন না অনেকে। আমরা এগুলো খুব সহজ করে নিয়েছি।”

Advertisement

একটা সময় ছিল, যখন কারও সঙ্গে প্রেম হলে তার সঙ্গেই বিয়ে হবে বলে ধরে নেওয়া হত। এখন সেই ভাবনাও বদলেছে। প্রেম হওয়া মানেই যে বিয়ে, তা নয়। আবার বিয়ে মানেই যে সাত দিন ধরে অনুষ্ঠান চলবে, তা-ও নয়। অভিনেতা ঋতব্রত যোগ করলেন, “সত্যি একটা সময় ছিল, ভালবেসে সব কিছু অন্ধের মতো করে যেত অনেকে। সেইটা এখন বন্ধ হয়েছে। এতে বরং নিজেকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। স্বাধীন ভাবে ভাবনাচিন্তা করার জায়গা গড়ে উঠেছে। তাই এখন আর কেউ জোর করে সম্পর্কে থাকার চেষ্টা করে না। আমাদের প্রজন্মের এই বদলটা আমি খুব উপভোগ করি।” জন্মের সাল অনুযায়ী জেন-জ়ি হলেও অভিনেত্রী অঙ্গনা রায় আবার একটু পুরনো দিনের প্রেমে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, “আমি আমার প্রেমিকের থেকে কোনও কিছু লুকোতে পারব না। আমার কাছে বন্ধুত্ব খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর যেটা আমার প্রয়োজনীয় সেটা হল সময় দেওয়া ও সময় পাওয়া।” যদিও বর্তমানে ‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘বেঞ্চিং’ এই ধরনের অনেক পোশাকি নাম তৈরি হয়েছে প্রেমের বিভিন্ন পর্যায়ে। কিন্তু, এই প্রজন্ম এমন কোনও পোশাকি নামেই নিজেদের প্রেমকে বাঁধতে রাজি নয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement