৯০ মিনিটের মধ্যে কোন ৫ নিয়মে চলবেন? ছবি: সংগৃহীত।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম ৯০ মিনিটের উপর নির্ভর করে পরবর্তী ১৬ ঘণ্টা। দীর্ঘায়ু পাওয়ার কোনও জাদুকাঠি নেই, যা ছোঁয়ালে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পেয়ে যাবেন। তার জন্য দরকার নিয়ম এবং সে নিয়ম মেনে চলার তাগিদ। সম্প্রতি আমেরিকা নিবাসী মেডিসিনের চিকিৎসক ভ্যাসিলি এলিয়োপলোস তাঁর ইনস্টাগ্রামের পাতায় জানালেন, সকালে ওঠার পর ৯০ মিনিট কী ভাবে কাটছে, তার উপর নির্ভর করে পরবর্তী ১৬ ঘণ্টা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়টিই।
সকাল শুরু করার স্বাস্থ্যকর ৫ অভ্যাসের কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসক। ঘুম থেকে ওঠার পর ৯০ মিনিটে তিনি নিজে কী কী করেন, দেখে নিন—
ঘুম থেকে উঠে কী কী করা উচিত? ছবি: সংগৃহীত
১. সূর্যালোক: ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘণ্টার মধ্যেই চোখ যেন সূর্যালোক পায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসক। এর ফলে দেহের জৈবঘড়ি, অর্থাৎ ঘুম থেকে ওঠা এবং ঘুমিয়ে পড়ার যে চক্র তা ঠিক থাকে। পাশাপাশি স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসল এবং মেলাটোনিনের (যে হরমোনের ফলে ঘুম আসে) মাত্রায় ভারসাম্য থাকে সারা দিন। মনে রাখবেন, সঙ্গে যেন ফোন না থাকে।
২. জলপান: রাতভর ঘুমের পরে শরীর কিছুটা জলশূন্য অবস্থায় থাকে। তাই দিনের শুরুতে পর্যাপ্ত জল পান করার উপর জোর দেন চিকিৎসক। তাঁর অভ্যাস, ঘুম থেকে ওঠার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই জলে সামান্য সামুদ্রিক নুন মিশিয়ে খেয়ে নেওয়া। এর ফলে শরীরে কিছু খনিজ উপাদানও প্রবেশ করে।
৩. শ্রম: শরীর কোনও রকমের ক্যাফিন পাওয়ার আগে অন্তত ২০-৩০ মিনিট ব্যায়াম করে নেন তিনি। কয়েক সেকেন্ড খুব দ্রুত হেঁটে আবার ধীর লয়ে হাঁটা, নয়তো হালকা ভারোত্তোলনের ব্যায়াম— যা খুশি হতে পারে। এর ফলে স্ট্রেস হরমোন, কর্টিসল বাড়তে পারে না। ঘুম ভাঙতেই শরীরে যদি ক্যাফিন যায়, তা হলে কর্টিসল বেড়ে যেতে পারে।
৪. প্রাতরাশ: সকাল সকাল প্রোটিনে ভরপুর জলখাবার খান চিকিৎসক। জাগার পর ৯০ মিনিটের মধ্যে খেয়ে নেন তিনি। আর পাতে ৩০ গ্রাম প্রোটিন থাকতেই হবে। তার পর দিনভর যা-ই খান না কেন, ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়। পাশাপাশি পেশিতে জোর পাওয়া যায়।
৫. সাপ্লিমেন্ট: যা যা সাপ্লিমেন্ট খেতে হয়, সে সব প্রাতরাশের সঙ্গে খান চিকিৎসক। ওমেগা ৩ হোক বা ভিটামিন ডি, ম্যাগনেশিয়াম, মাল্টিভিটামিন ইত্যাদি। এতে সাপ্লিমেন্টগুলি শরীরে ভাল ভাবে কাজ করে।