Oats Recipes

ওট্‌স দিয়ে শুধুই খিচুড়ি আর চিল্লা বানিয়ে খাচ্ছেন? চাইলে রাজকীয় রান্নাবান্নাও করা যেতে পারে

স্বাস্থ্যকর উপকরণ দিয়েও বাহারি রান্না রাঁধা যেতে পারে। চাইলে তা পরিবেশন করা যেতে পারে অতিথিকেও। স্বাস্থ্যকর ওট্‌স দিয়ে তৈরি তেমনই পাঁচ রাজকীয় রান্নার হদিশ রইল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫৭
Share:

ছবি : সংগৃহীত।

ভাতের বদলে ওট্‌স অনেকেই খান আজকাল। যাঁরা ওজন কমাতে চান, যাঁদের হার্টের সমস্যা রয়েছে, ডায়াবিটিসের সমস্যা রয়েছে অথবা লিভারের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখছেন যে সমস্ত স্বাস্থ্য সচেতন— তাঁরা অনেকেই প্রাতরাশে দই বা দুধে ভিজিয়ে ওট্‌স খান। কিংবা দুপুরে ভাতের বদলে খান ওট্‌সের খিচুড়ি, চিল্লা ইত্যাদি। কিন্তু ওট্‌স দিয়ে কি শুধু এই সবই বানানো যায়?

Advertisement

স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে খুব শৌখিন বা বাহারি রান্না করার কথা ভাবেন না অনেকেই। স্বাস্থ্যকর রান্না মুখে তোলার মতো স্বাদু হলেই নিশ্চিন্ত হন অধিকাংশে। কারণ, একই খাবারে স্বাস্থ্যও বজায় থাকবে আবার স্বাদও হবে এতটা আশাই করেন না বেশির ভাগ মানুষ। কিন্তু চাইলে চালের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসাবে খাওয়া ওট্‌স দিয়ে বাহারি রান্না রাঁধা যেতে পারে।

চাল বা ভাত দিয়ে নানা ধরনের সুস্বাদু রান্না করা যায়। সেই সব রান্না বানানো যেতে পারে ওট‌্‌স দিয়ে। ঝরঝরে না হোক, স্বাদে কমতি হবে না। চাইলে তা পরিবেশন করতে পারবেন অতিথির পাতেও। স্বাস্থ্যকর ওট্‌স দিয়ে তৈরি তেমনই পাঁচ রাজকীয় রান্নার হদিশ রইল।

Advertisement

১। জাফরানি ওট্‌সের পায়েস

শেষপাতের খাবার দিয়েই শুরু। মিষ্টিমুখে ভাতের পায়েস বা চালের পায়েসের বদলি হিসাবে বানাতে পারেন ওট্‌সের পায়েস। স্বাদে নতুনত্ব আনতে তাতে মিশিয়ে দিন জাফরান। স্বাদ, গন্ধ এবং রং পাল্টে যাবে মুহূর্তে। তা ছাড়া ওট্‌সের পায়েস চালের পায়েসের থেকেও বেশি ঘন আর ক্রিমের মতো হয়। বানানোর উপকরণ হিসাবে দরকার হবে রোলড ওট্‌স, ঘন দুধ, চিনি বা স্টেভিয়া, জাফরান, এলাচ গুঁড়ো এবং পেস্তা-কাজুবাদাম।

২। ওট্‌স -চিকেন কবসা

কবসাকে বলা যেতে পারে আরব দেশের বিরিয়ানি। তবে বিরিয়ানির মতো এর চাল ঝরঝরে হওয়া আবশ্যিক নয়। যে হেতু এক পাত্রে মাংসের ঝোলের সঙ্গে রান্না হয়, তাই এর চালে সামান্য ভিজে ভাব থাকে। রান্নাটি ওট্‌স দিয়েও করা যেতে পারে। মশলা হিসাবে দরকার দারচিনি, লবঙ্গ, জায়ফল, পেঁয়াজ, রসুন, সুগন্ধী লেবুর রস আর অনেকখানি টম্যাটোর পিউরি। এই রান্নার মূল স্বাদ টম্যাটো থেকেই। আর পরিবেশনের সময় উপরে বেরেস্তা আর কালো কিশমিশ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

৩। ওট্‌স ও মাশরুম রিসোতো

ইটালীয় রান্না। তৈরি হয় ভাত দিয়ে। মুখে দিলেই গলে যাওয়া ক্রিমের মতো ভাত। তাতে থাকে নানা ধরনের ভেষজ এবং মশলাপাতির গন্ধ। সঙ্গে মেশানো থাকে মাশরুম বা মাংসের মতো উপকরণও। ওট্‌স দিয়ে এই রান্নাটি বানালে স্বাদের তেমন হেরফের হবে না। অথচ স্বাস্থ্যকরও হবে। মূল উপকরণ মাখন, রসুন এবং চিজ়। তার সঙ্গে সামান্য গোলমরিচ এবং ধনেপাতা দিলে এর স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়।

৪। ওট্‌স পোলাও

চালের পোলাওয়ের মতো ঝরঝরে হবে না নিঃসন্দেহে। তবে সেটুকু বাদ দিলে ওট্‌স দিয়ে একই রকমের সুস্বাদু পোলাও বানানো যেতে পারে। পদ্ধতিটি প্রায় একই রকম। শুধু পোলাও বানানোর জন্য সবচেয়ে বড় দানার রোলড ওট্‌স নিতে হবে। রান্নার আগে ওট্‌স শুকনো খোলায় ২-৩ মিনিট ভেজে নিলে রান্নার পর তা আঠালো হবে না। আর যেহেতু চালের তুলনায় ওট্‌সে জল কম লাগে, তাই ১ কাপ ওট্‌সের জন্য দেড় কাপ গরম জলই যথেষ্ট।বাকি মশলা একই থাকবে। সেই ছোট এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি, তেজপাতা এবং ঘি। এর সঙ্গে চাইলে কাজু, কিশমিশ এবং রঙিন সব্জি, যেমন— গাজর, মটরশুঁটি, বিনস হালকা ভেজে নিয়ে দিতে পারেন। নামানোর আগে সামান্য শাহী গরমমশলা এবং এক চামচ কেওড়া জল ছিটিয়ে দিতে পারলে তো কথাই নেই।

৫। ওট্‌স তেহরি

তেহরি হল একপাত্রের রান্না। যে রান্নায় চাল, আলু, অন্যান্য সুগন্ধী মশলাপাতি থাকে। আর রান্নাটি হয় সর্ষের তেল দিয়ে। তবে এই রান্নার দু’রকম সংস্করণ রয়েছে। একটি উত্তরপ্রদেশের। সেই তেহরি হয় নিরামিষ। তাতে নানা ধরনের সব্জি, যেমন ফুলকপি, গাজর, কড়াইশুঁটি ইত্যাদি থাকে। আবার বাংলাদেশের তেহরি হয় আমিষ। তাতে মাংসের টুকরো দেওয়া হয়। আর থাকে প্রচুর কাঁচালঙ্কা। চাইলে ওট্‌স দিয়েও সব্জি বা মাংসের টুকরো দিয়ে এই রান্নাটি করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওট্‌স যাতে গলে না যায় তাই রান্না করার সময় পোলাও বানানোর পদ্ধতিটি মনে রাখতে হবে। এছাড়া মশলা হিসাবে দরকার পড়বে হলুদ, আদা, রসুন, জিরে, গরম মশলা। চাইলে দই বা সামান্য দুধও দেওয়া যেতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement