চোখ দেখে ডায়াবিটিস ধরার নতুন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা দেশের বিজ্ঞানীদের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
এক ফোঁটা রক্তও বার করতে হবে না আঙুল থেকে। শুধু চোখ দেখেই ধরা যাবে ডায়াবিটিস। এমন অসাধ্যসাধন সম্ভব করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই)। তেমন পথেই এগিয়ে চলেছে গবেষণা। রক্তে শর্করার মাত্রা যে ভাবে বাঁধনছাড়া হয়ে উঠেছে, তাতে আসন্ন সর্বনাশই দেখছেন গবেষকেরা। পরিসংখ্যান বলছে, এ দেশে অন্তত ১০ কোটি মানুষ ডায়াবিটিসের শিকার। রেহাই পাচ্ছে না ছোটরাও। তাই রোগ ধরতে নিত্যনতুন পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। যার মধ্যে চোখ দেখে ডায়াবিটিস নির্ণয় করার পদ্ধতিটি সাড়া জাগিয়েছে। ভারত ও আমেরিকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থা এই নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
মেঙ্গালুরুর ইয়েনেপোয়া ইউনিভার্সিটি, মাদ্রাজ ডায়াবিটিস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এমডিআরএফ) ও আমেরিকার ইমোরি ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ডায়াবিটিস নির্ণয় করার নতুন পদ্ধতিটি নিয়ে গবেষণা করছেন। এই গবেষণার খবর প্রকাশিত হয়েছে ‘ডায়াবিটিস টেকনোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স’ জার্নালে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ডায়াবিটিস রোগীর রেটিনা আর সুস্থ মানুষের রেটিনায় কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে। চোখের ভিতরের শিরা-উপশিরায় যে বদলগুলি ঘটে, সেগুলি সাধারণ চক্ষু পরীক্ষায় ধরা না-ও পড়তে পারে। সেই কাজটিই করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কম্পিউটার অ্যালগরিদমে ধরা পড়বে রেটিনায় কী কী বদল এসেছে। তা দেখেই ডায়াবিটিস যেমন চিহ্নিত করা যাবে, তেমনই রক্তে শর্করার মাত্রা কী ভাবে ওঠানামা করবে, তাকে নিয়ন্ত্রণের উপায় কী হবে, সে পদ্ধতিও জানা যাবে।
ডায়াবিটিস হলে তার বড় প্রভাব পড়ে চোখে। প্রাথমিক পর্যায়ে রেটিনার রক্তবাহী সরু ধমনীগুলি দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। চোখের ভিতরের রক্তজালিকাগুলিতে প্রদাহ শুরু হয়, ফলে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। রেটিনার বিভিন্ন অংশে ঠিকমতো অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না। অনেক সময়ে ভিতরে ভিতরে রক্তক্ষরণও হয়। এই পরিবর্তনগুলি ধরার জন্যই এই নতুন ব্যবস্থা।
গবেষকেরা জানাচ্ছেন প্রথমে রেটিনার ত্রিমাত্রিক ছবি তোলা হবে। এর পর সেই ছবি দেখে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। যদি দেখা যায়, রেটিনার সরু রক্তবাহী নালিগুলিতে ছোট ছোট ফোস্কার মতো পড়েছে, লাল বিন্দু দেখা যাচ্ছে, তা হলে বুঝতে হবে ডায়াবিটিস হয়েছে। অনেক সময়ে রক্তনালি থেকে চর্বির মতো বস্তু বেরিয়ে রেটিনায় জমা হয়। একে হলদেটে দাগের মতো দেখায়। দৃষ্টি ঝাপসা হতে থাকে। আবার রেটিনার কেন্দ্রস্থল (ম্যাকুলা) ফুলে যায়, যার ফলে সোজা জিনিস বাঁকা দেখায় বা দৃষ্টি অস্পষ্ট হয়। এই পরিবর্তনও চিহ্নিত করা যাবে।
প্রাথমিক ভাবে এ দেশে ১৩৯ জনের উপর পরীক্ষাটি করা হয়েছে। ২৭৩টি রেটিনাল ইমেজ নিয়ে গবেষণা চলছে। তাতে ওই বদলগুলিই ধরা পড়েছে। আরও বেশি সংখ্যকের উপর পরীক্ষাটি করলে এই বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।