Overwork Risk Factors

কাজের ধকলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল ঈশা কোপিকরকে, কোন লক্ষণ এড়ালেই বিপদ?

কাজের শুরু আছে, শেষ নেই, পেশাজগতে এমন কর্মসংস্কৃতিতে আবদ্ধ কি আপনিও? শরীর-মনের কোন বদল বুঝতে না পারলে বিপদ অনিবার্য?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪০
Share:

কাজের চাপে শরীর-মনের ক্ষয় হচ্ছে। জানান দিচ্ছে শরীর, ইঙ্গিত বুঝতে পারছেন কি? ছবি: সংগৃহীত।

কাজের আবার দিন-রাত! বহু পেশাতেই কাজ করতে করতে সময় কোথা দিয়ে কেটে যায়, বোঝা যায় না। কোনও পেশাতে আবার রাতেও বিশ্রামের সুযোগ থাকে না। বিনোদন থেকে কর্পোরট জগৎ, সংবাদমাধ্যম, চিকিৎসা পরিষেবা, প্রশাসনিক কাজ— এমন অনেক পেশাতেই রাত-দিন এক করে কাজ করতে হয়। কখনও কাজ চলে টানা। বিশ্রামের সুযোগ ২-৩ ঘণ্টাও থাকে না। তার ফল কী হয়, একটি পডকাস্টে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী ঈশা কোপিকর। তিনি জানিয়েছেন, ‘এক বিবাহ অ্যায়সি ভি’ ছবির শুটিংয়ের সময় টানা ৫ দিন ২০ ঘণ্টা করে কাজ করতে হয়েছিল। ষষ্ঠ দিনে তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেছিলেন হাসপাতালে।

Advertisement

শুধু অভিনয় জগৎ নয়, বর্তমানে কর্পোরেট জগত এবং আরও নানা পেশাগত ক্ষেত্রে কাজের চাপ যথেষ্ট। নিয়ম করে ১০ ঘণ্টার উপরে কাজ চলে। তার ফলে কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন?

হরিয়ানা নিবাসী মনোবিদ গুরলীন বড়ুয়া এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, মাত্রাতিরিক্ত কাজের ফলে শরীর এবং মনের উপর ধকল বাড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে তা চললে, শরীরে উপর মারত্মক প্রভাব পড়তে পারে। অনেক সময়েই শুরুতে ১০-১২ ঘণ্টা বা ১৪ ঘণ্টা কাজের চাপ সামলানো ততটাও ক্লান্তিকর মনে হয় না। তবে এই ধরনের কর্মসংস্কৃতি দিনের পর দিন চলতে থাকলে তা শরীর-মনকে বিধ্বস্ত করে তুলতে পারে।

Advertisement

অতিরিক্ত শ্রমে কোন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে

· অতিরিক্ত ক্লান্তির পরেও সময়ে ঘুম না আসা

· দিনভর ক্লান্তি, কোনও কিছু করতে ভাল না লাগা

· মাথা ধরা, মাথা ঘোরা

· মেজাজ রুক্ষ হয়ে যাওয়া, আচমকা মেজাজ বদল

· চুল ঝরা

· রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি

· বদহজম, অম্বল

গুরলীন জানাচ্ছেন, অনেকেই মনে করেন, কাজ করে নিলে দ্রুত তা শেষ হবে এবং তার পরে বিশ্রাম। কিন্তু এই সবের মাঝে অপর্যাপ্ত ঘুম, ক্লান্তি শরীরের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। ক্লান্ত মস্তিষ্কের দরুণ কাজে ভুল হতে পারে। ঘুমের অভাবে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা শরীর এবং মন, দুইয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না হলে শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।

মস্তিষ্ক বিশ্রাম না পেলে কাজের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে একটি চমৎকার কাহিনি রয়েছে। দু’জন কাঠুরিয়া কাঠ কাটছিলেন। প্রথম জন যখন কাজে ব্যস্ত, দ্বিতীয় জন ঘণ্টাখানেকের জন্য কাঠ কাটা বন্ধ রাখেন। প্রথম জন ভেবেছিলেন, এই ভাবে সময় অপচয় হচ্ছে। কিন্তু পরে দেখা যায়, দু’জনে একই সময়ে কাজ শেষ করেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি জানান, ওই ঘণ্টাখানেক ধরে তিনি কাটারিতে ধার দিয়েছেন।

মনোবিদ মনে করাচ্ছেন, মস্তিষ্কও সেই যন্ত্র, যেখানে বুদ্ধিতে শান দেওয়ার দরকার হয়। তা হতে পারে মস্তিষ্ক যথাযথ বিশ্রাম পেলে। বিশ্রামের মুহূর্তে মস্তিষ্ক নিজেকে শানিয়ে নেয়। ঠিক একই ভাবে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য শরীরেরও বিশ্রাম দরকার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement