Finger Pain

দীর্ঘ ক্ষণ ল্যাপটপে কাজ করে আঙুলে যন্ত্রণা হচ্ছে? স্টেনোসিং টেনোসাইনোভাইটিসে আক্রান্ত নন তো?

দীর্ঘ দিন ধরে একই ভাবে আঙুলের স্নায়ুর উপর ক্রমাগত চাপ পড়তে থাকলে এই ধরনের ব্যথা হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে এই সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে। তবে সেই সমস্যা স্টেনোসিং টেনোসাইনোভাইটিস কি না, তা যাচাই করার প্রয়োজন আছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১২:৫০
Share:

আঙুলের যন্ত্রণা স্টেনোসিং টেনোসাইনোভাইটিসের কারণে হচ্ছে না তো? ছবি: সংগৃহীত।

১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অফিসে কাজ করেন। তার মধ্যে বেশির ভাগ সময়েই কম্পিউটারে টাইপ করতে হয়। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা হোক বা বিজ্ঞাপনী দফতর অথবা সংবাদমাধ্যম, বহু পেশাতেই এখন দীর্ঘ ক্ষণ ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ ব্যবহার করতে হয়। দিনের পর দিন দীর্ঘ ক্ষণ কিপ্যাড ও মাউস ব্যবহারের ফলে কারও কারও, কখনও আঙুলে, কখনও কব্জিতে, কখনও কনুইয়ে, কখনও কাঁধ ও বাহুর সংযোগস্থলে ব্যথা হয়। খুব ব্যথা হলে ব্যাথানাশক ওষুধ খেলে সাময়িক কষ্ট কমে ঠিকই, কিন্তু রোজ রোজ পেনকিলার খাওয়া মোটেও ভাল কথা নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরে একই ভাবে আঙুলের স্নায়ুর উপর ক্রমাগত চাপ পড়তে থাকলে এই ধরনের ব্যথা হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে এই সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে। তবে টাইপ করলেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারলে আঙুলের ব্যথা বশে থাকবে।

Advertisement

দীর্ঘ ক্ষণ কম্পিউটারে টাইপ করার পর আঙুলে যদি ব্যথা হয় কী করবেন?

১) একটানা আধঘণ্টা টাইপ করা যাবে না। যে কাজই করুন না কেন, ৩০ মিনিট পর ২ থেকে ৩ মিনিটের জন্য বিরতি নিতে হবে। এই অভ্যাসে শুধু যে আঙুলের আরাম হবে তা নয়, কোমর, ঘাড়, কাঁধ, চোখেরও বিশ্রাম হবে।

Advertisement

২) হাতের নখ খুব বড় হয়ে গেলে কিবোর্ডের সঙ্গে ধাক্কা লাগা স্বাভাবিক। সেখান থেকেও অনেক সময়ে আঙুলে ব্যথা হয়। মাউস নাড়াচাড়া করার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। তাই নখ কেটে ফেলাই শ্রেয়।

৩) অনেক সময় বসার দোষেও আঙুলে ব্যথা হয়। কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করতে গেলে চেয়ার-টেবিলের মাপ যদি ঠিক না হয়, সে ক্ষেত্রে ঘাড়, কাঁধে চাপ পড়বেই। সেখান থেকেই হাতের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৪) অনেকেই টেবিলের বাইরে অর্থাৎ, শূন্যে হাত ঝুলিয়ে টাইপ করেন। এই অভ্যাসেও কিন্তু হাতের কব্জি, আঙুলে ব্যথা বা়ড়তে পারে।

৫) আঙুলের ব্যথার নেপথ্যে কার্পল টানেল সিন্ড্রোম বা টেনিস এলবোর মতো রোগও থাকতে পারে। তাই সঠিক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

এই ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে আঙুলে যন্ত্রণা হলেও আঙুল বেঁকাতে কোনও রকম সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই আঙুলে এমন যন্ত্রণা শুরু হয় যে, আঙুল সোজা করা যায় না। হাতের আঙুলের আটকে যাওয়ার এই বিশেষ রোগের নাম ‘ট্রিগার ফিঙ্গার’। পোশাকি নাম, স্টেনোসিং টেনোসাইনোভাইটিস। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাতের অনামিকায় প্রভাব ফেলে এই রোগ। তবে অন্যান্য আঙুলও আটকে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবিটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রারাইটিস এবং থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের মধ্যেই ট্রিগার ফিঙ্গারের প্রকোপ বেশি। এই সমস্যা হলে চিকি‌ৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে ফিজ়িয়োথেরাপি বা ইঞ্জেকশন দিতে হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement