ডায়াবিটিসের বিপদসীমায় রয়েছেন, কোন কোন খাবার খাওয়া বন্ধ করবেন? ছবি: ফ্রিপিক।
ডায়াবিটিস না হোক, তার আগের পর্বটিও কম বিপজ্জনক নয়। পরীক্ষা করিয়ে হয়তো ধরা পড়ল প্রি-ডায়াবেটিক পর্বে রয়েছেন, তা হলে সেই মুহূর্ত থেকেই সতর্ক হতে হবে। ডায়াবিটিসের একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে জীবনধারায় প্রয়োজনীয় বদল আনলেই আর সুগার হওয়ার ভয় থাকবে না। ওই পর্বে যেমন খাওয়াদাওয়ায় বদল আনতে হবে, তেমনই নজর দিতে হবে শরীরচর্চাতেও। প্রি-ডায়াবেটিক পর্বে পৌঁছে কোন কোন খাবার খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে, তা জেনে রাখা জরুরি। রোজের কিছু খাবারও হয়তো অজান্তেই বিপদ বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রি-ডায়াবেটিক পর্বে কোন কোন খাবার খাবেন না
কার্বোনেটেড পানীয়
সব রকম নরম পানীয়, সোডা মেশানো পানীয় ও বাজারচলতি প্যাকেটজাত ফলের রস খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এই সব পানীয়ে এত বেশি পরিমাণে চিনি, কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক মেশানো থাকে, যা শুধু সুগার নয়, লিভার ও কিডনির ক্ষতিও করতে পারে। এই পানীয়ের কারণে ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ভাজাভুজি ও ট্রান্স ফ্যাট
দোকান থেকে কেনা বার্গার, পিৎজ়া ও যে কোনও রকম ভাজা খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ও নাইট্রেট থাকে যা শরীরে ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’ তৈরি করে। ফলে ট্রান্স ফ্যাট বাড়তে থাকে, যা ডায়াবিটিস ও স্থূলত্বের কারণ হয়ে ওঠে।
প্রক্রিয়াজাত মাংস ও ফ্রোজ়েন ফুড
সসেজ, বেকন, সালামির মতো খাবার বা চিকেন নাগেটের মতো ফ্রোজ়েন ফুড কিনে এনে খাওয়া শরীরের জন্য মোটেই ভাল নয়। এই সব খাবার সংরক্ষণের জন্য তাতে এমন কিছু রাসায়নিক মেশানো হয় যা শরীরের ক্ষতি করে। হজমপ্রক্রিয়া নষ্ট হয়, রক্তে টক্সিন বাড়তে থাকে।
ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল
সকালে অফিসের বেরোনোর তাড়ায় কর্নফ্লেক্স অনেকেরই পছন্দের জলখাবার। অনেকেই দুধ-চিনি মিশিয়ে কর্নফ্লেক্স খান। প্যাকেটজাত কর্নফ্লেক্সে বাড়তি চিনি যোগ করা থাকে, যা কেবল ক্ষতিকারকই নয়, মেদবৃদ্ধিতেও বিশেষ কার্যকর। শুধু কর্নফ্লেক্স নয় এখন নানা রঙের ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল বেরিয়ে গিয়েছে যাতে প্রচুর পরিমাণে কৃত্রিম চিনি মেশানো থাকে। তাই মেদ ঝরাতে স্বাস্থ্যকর ভেবে যে খাবার খাচ্ছেন, তার হাত ধরেই হয়তো সুগার বেড়ে যাচ্ছে নীরবে।