Gallbladder Stones Treatment

গলব্লাডারে পাথর জমিয়ে রেখেছেন দিলজিৎ! অস্ত্রোপচার না করিয়েও কোন পদ্ধতিতে রোগমুক্তি সম্ভব?

সাক্ষাৎকারে দিলজিৎ দোসাঞ্জ জানিয়েছেন ২০১৫ সালে গলব্লাডারে পাথর ধরা পড়েছিল তাঁর। তবে এখনও পর্যন্ত তিনি অস্ত্রোপচার করাননি। অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কী কী ভাবে রোগমুক্তি সম্ভব?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪৮
Share:

কেন গলব্লাডারে পাথর জমিয়ে রেখেছেন দিলজিৎ? ছবি: সংগৃহীত।

এক দিকে তরুণ প্রজন্মের পছন্দের গায়ক, অন্যদিকে নায়কও বটে। দেশ-বিদেশে গানের অনুষ্ঠান করা, ছবিতে প্লে-ব্যাক সঙ্গে বড়পর্দায় অভিনয়— দিলজিৎ দোসাঞ্জ এখন যা-ই করছেন, তাতেই প্রশংসা পাচ্ছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দিলজিৎ তাঁর এমন এক শারীরিক সমস্যার কথা ফাঁস করেছেন, যা শুনে অনেকেই অবাক!

Advertisement

সাক্ষাৎকারে দিলজিৎ জানিয়েছেন ২০১৫ সালে গলব্লাডারে পাথর ধরা পড়েছিল তাঁর। তিনি বলেন, ‘‘আমার পিত্তথলিতে ১১ বা ১২ মিলিমিটারের একটা পাথর আছে। ২০১৫ সালে পেটে ব্যথার কারণে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি পরীক্ষা করে বললেন, আমার আমার গলব্লাডারে পাথর হয়েছে। তিনি অস্ত্রোপচারের পরামর্শও দেন। কিন্তু আমার এক বন্ধু বলল, ‘যদি কোনও সমস্যা না হয়, তবে শুধু শুধু অস্ত্রোপচার করাবি কেন?’’’

১১ বছর হয়ে গিয়েছে, এখনও অস্ত্রোপচার করাননি দলজিৎ। তিনি বলেন, ‘‘গলব্লাডারে স্টোনের কারণে আমার কোনও রকম সমস্যা হয়নি। এখন মনে হয় পাথরটি আর শরীরে নেই। তবে সাবধানতার কারণে আমি ভ্রমণে বেরোলে সব সময়ে ওষুধ সঙ্গে রাখি।’’

Advertisement

গলব্লাডারে পাথর কেন হয়?

পিত্ত হল যকৃৎ বা লিভার থেকে নিঃসৃত একটি তরল পদার্থ। এতে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলি খাদ্যের চর্বি বা ফ্যাট পরিপাকে সাহায্য করে। পিত্তথলি বা গলব্লাডার এই পিত্ত জমা রাখে এবং এর ঘনত্ব বাড়ায়। বিভিন্ন কারণে পিত্তের উপাদানগুলি জমাট বেঁধে পিত্তথলিতে পাথর তৈরি করে। মুম্বইনিবাসী চিকিৎসক হেমন্ত জৈন বলেন, ‘‘পিত্তথলির সংকোচন-প্রসারণের স্বাভাবিক ক্ষমতার ব্যাঘাত, স্থূলতা, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নিঃসরণ এবং ব্যাক্টেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে পিত্তথলিতে পাথর তৈরি হয়।’’

হেমন্তের মতে, সাধারণত পিত্তথলিতে পাথর থাকলে পেটের ডান দিকের উপরের অংশে তীব্র ব্যথা হয়। এই ব্যথা সারা ক্ষণও হতে পারে আবার মাঝেমধ্যেও হতে পারে। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যথা না-ও থাকতে পারে, বরং অতিরিক্ত গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা বুক-পেট জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যাও পারে। তাছাড়া, পাথরটি জায়গা বদল করলে জন্ডিস বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে চোখ ও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া, পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়া তীব্র ব্যথা, ত্বকে প্রচণ্ড চুলকানি, জ্বরও হতে পারে।

চিকিৎসকের মতে, পিত্তথলির পাথরের আকার অনেক বেশি বড় হয়ে গেলে বা শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দিলে অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় থাকে না। তবে অস্ত্রোপচার না করেও অনেক ক্ষেত্রেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। সে ক্ষেত্রে জীবনধারায় পরিবর্তন আনা ভীষণ জরুরি। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেও পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। পাশাপাশি এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি, শক ওয়েভ লিথোট্রিপসি, ওরাল ডিসসলিউশন থেরাপির সাহায্যেও পিত্তথলির পাথর শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement