Summer Tips

গরুর দুধ খাওয়ানো বারণ, তবে এক বছরের নীচে শিশুদের কি দই দেওয়া যেতে পারে? কী মত চিকিৎসকের

গরুর দুধের অনেক গুণ থাকলেও এক বছরের নীচে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানো চলবে না। বারে বারে এই সতর্কবার্তাই দিয়ে থাকেন শিশুরোগ চিকিৎসকেরা। এ বার প্রশ্ন হল গরুর দুধ খাওয়ানো বারণ হলেও এক বছরের নীচে শিশুদের কি দই দেওয়া যেতে পারে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ২০:০২
Share:

শিশুদের কবে থেকে দই খাওয়ানো যেতে পারে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

গরুর দুধ ক্যালশিয়ামের অন্যতম সেরা উৎস। তার পাশাপাশি দুধে ফসফরাসও থাকে। কিছু শাক-সব্জিতে ক্যালশিয়াম থাকলেও, তাতে অক্সালেট বা ফাইটেট জাতীয় পদার্থ থাকে যা ক্যালশিয়াম শোষণে বাধা দেয়। দুধে এই ধরনের উপাদান থাকে না। তাই এর বায়োঅ্যাভেলেবিলিটি বেশি। অর্থাৎ এর পুষ্টিরস গ্রহণ করা অনেক সহজ। দুধে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাসের নিখুঁত ভারসাম্য থাকে বলেই এটি হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। দুধের প্রোটিন ভেঙে কেসিন ফসফোপেপটাইডস তৈরি হয়। যা ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং জিঙ্কের মতো খনিজগুলির শোষণে সাহায্য করে। অধিকাংশ খাবারে এই পুষ্টিগুণ থাকলেও শরীর তা সম্পূর্ণ ভাবে গ্রহণ করতে পারে না। ল্যাক্টোফেরিন হল দুধে থাকা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রোটিন, যা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া দুধে কেসিন এবং হোয়ে প্রোটিনের সঠিক ভারসাম্য রয়েছে। গরুর দুধের অনেক গুণ থাকলেও এক বছরের নীচে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানো চলবে না। বারে বারে এই সতর্কবার্তাই দিয়ে থাকেন শিশুরোগ চিকিৎসকেরা। এ বার প্রশ্ন হল গরুর দুধ খাওয়ানো বারণ হলেও এক বছরের নীচে শিশুদের কি দই দেওয়া যেতে পারে?

Advertisement

কত বছর বয়স থেকে শিশুদের দই দেওয়া যেতে পারে?

চিকিৎসক অর্পণ সাহার মতে, ছ’মাসের পর থেকেই শিশুদের দই খাওয়ানো যেতে পারে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে ঘরে পাতা দই হলে সবচেয়ে ভাল। অনেকেই ভাবতে পারেন, গরুর দুধ এক বছরের পর খাওয়ানোর পরামর্শ দিলেও সেই দুধ দিয়ে তৈরি দই ছ’মাসে খাওয়ানোর কথা বলা হচ্ছে কেন? দুধকে গেঁজিয়ে দই তৈরি করা হয় বলে দুধে থাকা ল্যাকটোজ়ের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। এতে প্রোবায়োটিক থাকার জন্য খুদেরা খুব সহজেই দই হজম করে নিতে পারে। অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে কম বয়স থেকেই দই খাওয়াতে শুরু করলে দুধ থেকে অ্যালার্জির প্রবণতা কমে। দই পেটকে ঠান্ডা রাখে আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।’’

Advertisement

দই খাওয়ানোর সময় কী কী মাথায় রাখবেন?

১) শিশুর বয়স দু’ বছরের নীচে হলে কখনওই মিষ্টি দই দেবেন না। সব সময়ে টক দই দিন।

২) এক বারে অনেকটা দই দেবেন না, প্রথমে অল্প অল্প করে দিয়ে দেখুন কোনও রকম সমস্যা হচ্ছে কি না।

৩) দই খেলে ঠান্ডা লাগে এই ধারণা ভুল। তবে ফ্রিজ থেকে সদ্য বার করা ঠান্ডা দই কখনওই খুদেকে দেবেন না। ঘরের তাপমাত্রায় এনে তার পরেই দই খেতে দিন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement