নিপা সংক্রমণ ঠেকাবে কোভিডের ওষুধ? ছবি: সংগৃহীত।
রাজ্য জুড়ে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে ভয় বাড়তে শুরু করেছে। তবে ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে হলে ভয় নয়, জরুরি সতর্কতা। নিপা ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির কাজ এখনও মাঝপথে। তবে এরই মাঝে আশার আলো দেখাচ্ছে চিনের একটি গবেষণা। চিনা বিজ্ঞানীদের একটি যৌথ গবেষণায় সম্প্রতি বলা হয়েছে যে, কোভিড ১৯-এর চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত মৌখিক নিউক্লিওসাইড ওষুধ ভিভি১১৬ নিপা ভাইরাসের বিরুদ্ধেও একটি কার্যকর অ্যান্টি-ভাইরাল হিসাবে কাজ করছে। সম্প্রতি চাইনিজ় অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সের অধীনে উহান ইনস্টিটিউট অফ ভায়রোলজি কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমনই বলা হয়েছে।
উহান ইনস্টিটিউট অফ ভায়রোলজির প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুসারে, ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম বার প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই নিপা ভাইরাস জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ। এই বছরের জানুয়ারিতে, পশ্চিমবঙ্গে নিপা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে, যেখানে রোগীর সংস্পর্শে আসা প্রায় ১০০ জন ব্যক্তিকে নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে। এই ভাইরাসের কোনও অনুমোদিত চিকিৎসা বা টিকা না থাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) নিপা ভাইরাসকে একটি ‘শীর্ষ-অগ্রাধিকার প্রাপ্ত আঞ্চলিক আশঙ্কার কারণ’ হিসেবে দেখার কথা বলেছে।
উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি, সাংহাই ইনস্টিটিউট অফ মেটেরিয়া মেডিকা এবং ভিগনভিটা লাইফ সায়েন্স কোং-এর গবেষক দল যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল ইমার্জিং মাইক্রোবস অ্যান্ড ইনফেকশন্স’-এ ‘দ্য ওরাল নিউক্লিওসাইড ড্রাগ ভিভি১১৬ ইজ় আ প্রমিসিং ক্যান্ডিডেট ফর ট্রিটিং নিপা ভাইরাস ইনফেকশন’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।
ভিভি১১৬ হল একটি ওরাল অ্যান্টি-ভাইরাল, যা চিন এবং উজ়বেকিস্তানে কোভিড ১৯-এর চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত হয়েছিল। ইন ভিট্রো পরীক্ষায় এই ওষুধ নিপা ভাইরাসের উপরেও উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধমূলক প্রভাব দেখিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘মালয়েশিয়া স্ট্রেন’ (এনআইভি-এম) এবং ‘বাংলাদেশ স্ট্রেন’ (এনআইভি-বি) উভয়ের উপরেই ওষুধটি বেশ কার্যকর হয়েছে।
উহান ইনস্টিটিউট অফ ভায়রোলজি, সিএএস কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে, সোনালি হ্যামস্টারের (ইঁদুরের প্রজাতি) উপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রতি কিলোগ্রাম শরীরের ওজনে তাদের ৪০০ মিলিগ্রাম ভিভি১১৬-এর ওরাল ডোজ় দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের বেঁচে থাকার হার ৬৬.৭ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ওষুধ প্রয়োগে হ্যামস্টারদের ফুসফুস, প্লীহা এবং মস্তিষ্কের মতো অঙ্গগুলিতে ভাইরাসের প্রভাব ততটাও পড়তে দেয়নি।
এই গবেষণায় নিপা ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে ভিভি১১৬-এর থেরাপিউটিক সম্ভাবনা নিশ্চিত করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ওষুধ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী এবং পরীক্ষাগার কর্মীদের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে নিপা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে ঢালের কাজ করবে। নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমাতে এই ওষুধ দারুণ কাজ করতে পারে বলে দাবি চিনা বিজ্ঞানীদের।