গুড় খেলে কি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মকর সংক্রান্তির দিন বাড়ি বাড়ি চলছে পিঠেপুলি বানানোর প্রস্তুতি। এরই মাঝে রাজ্য জুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নিপা ভাইরাস। অনেকেই বলছেন, গুড় খেলেই নাকি নিপা ভাইরাস থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। খেজুর রস থেকে যাঁরা নলেন গুড় বানান, একরাশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাঁদের মত, অনেক ক্ষণ জ্বাল দিয়ে গুড় বানানো হয়। অত সময় ধরে রস ফুটলে ভাইরাস থাকতে পারে না। তবে কি আতঙ্কের কোনও কারণ নেই? কী বলছেন পুষ্টিবিদ?
মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তিতে বাংলার ঘরে ঘরে যে পিঠেপুলি বানানো হচ্ছে তার অন্যতম প্রধান উপকরণ খেজুর রস থেকে তৈরি নলেন গুড়, পাটালি গুড়। তবে নিপার আতঙ্কে অনেকেই গুড় কেনার আগে দশ বার ভাবছেন। মানিকতলা বাজারের গুড় বিক্রেতা সোমনাথ মাঝি বলেন, ‘‘প্রতি বারের মতো এ বার গুড়ের বাজার ততটাও ভাল নয়। অনেক খরিদ্দার বলছেন, গুড় থেকে নাকি নিপা ভাইরাস ছড়াচ্ছে!’’ গড়িয়াহাট বাজারের গুড় ব্যবসায়ী মানিক কর্মকার বলেন, ‘‘মকর সংক্রান্তির জন্য প্রচুর গুড় তুলে রেখেছি। সংক্রমণের ভয়ে বিক্রি না হলে বিপদে পড়ব। এখনও বিক্রিতে প্রভাব পড়েনি। পরে কী হবে, জানি না।’’
গুড় থেকে আদৌ কি সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে?
নিপা ভাইরাস মূলত খাবারের মাধ্যমেই মানবশরীরে প্রবেশ করে। এই ভাইরাসের মূল বাহক হল বাদুড়। পুষ্টিবিদ ও যাপন সহায়ক অনন্যা ভৌমিক বলেন, ‘‘নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও বাদুর যদি গাছের কোনও ফলে কামড় বসায় কিংবা বাদুরের লালারস ফলের উপরে পড়ে, সেই ফল খেলে কিন্তু সংক্রমণ ঘটতে পারে। খেজুর গাছে হাঁড়ি ঝুলিয়ে মূলত খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। সেই হাড়ি খোলা রাখা হয় সারা রাত। সেই হাড়ির রসের ভিতর যদি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত বাদুড়ের লালারস, মল-মূত্র কোনও ভাবে মিশে যায়, তা হলে সেই রস থেকে সংক্রমণ ছড়াতেই পারে। শীতের সকালে অনেক জায়গাতেই রাস্তার ধারে ধারে খেজুরের রস বিক্রি হয়। সেই রস কিন্তু এখন খাওয়া চলবে না।’’
খেজুরের গুড় কি খাওয়া যাবে?
অনন্যার কথায়, নিপা ভাইরাস অত্যধিক তাপে বাঁচতে পারে না। তাই সেই খেজুর রস দীর্ঘ ক্ষণ জ্বাল দিয়ে যখন গুড় তৈরি করা হয় তখন কিন্তু সংক্রমণের ঝুঁকি একেবারেই থাকে না। তাই নলেন গুড় বা পাটালি গুড় কিন্তু নিশ্চিন্তে খাওয়া যেতে পারে। খেজুরের রস খাবেন না, তবে গুড় খেলে কোনও ক্ষতি নেই। অনন্যা বলেন, ‘‘নিপা ভাইরাস কিন্তু কোভিডের থেকেও অনেক বেশি মারাত্মক। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু ঝুঁকিও অনেক বেশি। খাওয়াদাওয়ার বিষয় একটু সচেতন থাকলেই কিন্তু এই সংক্রমণ ঠেকানো যায়।’’