সিস্টিক ফাইব্রোসিস কী, ছোটদের হচ্ছে কি না বুঝবেন কী উপায়ে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
শীতকাল ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়ে শুকনো কাশি খুব ভোগায়। কাশি শুরু হলে একটানা হতেই থাকে। মা-বাবারা এমন সময়ে কাশির সিরাপ খাইয়ে দেন ছোটদের। তাতে হিতে বিপরীতই হয়। কাশি যদি ওষুধেও না সারে, তা হলে অতি দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। অনেক সময়ে এই কাশির কারণ নিছক সর্দি বা ঠান্ডা লাগা অথবা অ্য়ালার্জি না-ও হতে পারে। এর নেপথ্যে থাকতে পারে আরও জটিল রোগ সিস্টিক ফাইব্রোসিস।
সিস্টিক ফাইব্রোসিস কেন হয়?
সাধারণত শরীরের মিউকাস বা শ্লেষ্মা পাতলা এবং পিচ্ছিল হয়। কিন্তু সিস্টিক ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত শিশুদের ত্রুটিপূর্ণ জিনের কারণে এই মিউকাস অত্যন্ত ঘন এবং আঠালো হয়ে যায়। এই আঠালো শ্লেষ্মা ফুসফুস এবং অগ্ন্যাশয়ের নালিগুলিকে অবরুদ্ধ করে দেয়। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস এবং হজমে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সিস্টিক ফাইব্রোসিস জিনগত কারণে ছোটদেরও হতে পারে। এই রোগের ক্ষেত্রে ফুসফুসের বায়ুথলিগুলি আকারে বড় হয়ে যায়। তার ভিতরে কফ, শ্লেষ্মা জমতে থাকে। ফলে সেখানে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণও হয়। এই রোগ ধীরে ধীরে বাসা বাঁধে শরীরে। এর প্রভাবে শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশেও বাধা তৈরি হয়।
মা-বাবারা কখন বুঝবেন, সতর্ক হতে হবে?
সিস্টিক ফাইব্রোসিসের প্রাথমিক উপসর্গ হল অনবরত কাশি। এই কাশি ওষুধ খেলে সারবে না।
শিশুর টনসিল ফুলে উঠবে, গলা ব্যথা, গলার স্বরে বদল দেখা দিতে পারে।
বার বার নিউমোনিয়া ভোগাবে। সাইনাসের সমস্যাও হতে পারে। রাতে শুয়ে শিশুর শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
হাঁটাচলা করা, দৌড়োনো, সিঁড়ি ভাঙার সময়ে শ্বাসকষ্ট হবে, শিশু অল্পেই হাঁপিয়ে পড়বে।
সেই সঙ্গেই শুরু হবে হজমের সমস্যা। বুকে ব্যথা, তলপেটে যন্ত্রণাও ভোগাতে পারে।
সাবধানে থাকার উপায়
শিশুর সামনে ধূমপান বিপজ্জনক হতে পারে। রান্নার ধোঁয়া বা বাইরে বেরোলে ধুলোবালি থেকে সাবধানে রাখতে হবে শিশুকে।
নিয়মিত শ্বাসের ব্যায়াম করাতে পারলে ভাল হয়।
সময় থাকতেই নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিয়ে রাখলে ঝুঁকি কমবে।
সিস্টিক ফাইব্রোসিস ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা খুব জরুরি।