distracted eating

থালায় নজর নেই, চোখ শুধুই স্ক্রিনে? ‘ডিস্ট্র্যাকটেড ইটিং’ সুস্থতার অন্তরায়, বদলে কী করবেন?

হয়তো মা আপনার কথা ভেবে বিশেষ ভাবে রান্না করেছিলেন কোনও খাবার। বা হয়তো আপনার প্রিয় খাবারটিই সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল থালায়। তার স্বাদ অনুভব যেমন করলেন না, তেমনই অনুভব করলেন না তার সঙ্গে জুড়ে থাকা আবেগও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৯:২৭
Share:

ছবি : সংগৃহীত।

খেতে খেতে পছন্দের সিরিজ়ের একটা এপিসোড দেখে নিলেন। বা ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে দেখতে থাকলেন একের পর এক রিলস। কখনও মুখ ভার হল, কখনও বিভোর হলেন, কখনও এল বিরক্তি আবার কখনও হেসে লুটিয়ে পরলেন। কিন্তু ফোন ছাড়লেন না। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বুঁদ হয়ে রইলেন। এতটাই যে কী খেলেন, তার স্বাদই বুঝতে পারলেন না।

Advertisement

হয়তো মা আপনার কথা ভেবে বিশেষ ভাবে রান্না করেছিলেন কোনও খাবার। বা হয়তো আপনার প্রিয় খাবারটিই সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল থালায়। তার স্বাদ অনুভব যেমন করলেন না, তেমনই অনুভব করলেন না তার সঙ্গে জুড়ে থাকা আবেগও। শরীরের কথা নয় বাদই দেওয়া গেল।

অনেকেই হয়তো বলবেন, এতে সময়ের অপচয় হচ্ছে না। কিন্তু চিকিৎসকেরা এর উল্টো কথাই বলছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন অভ্যাসটি আপনার অজান্তেই শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে।

Advertisement

কেন এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

১. বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা: যখন মন স্ক্রিনে থাকে, তখন মস্তিষ্ক ঠিকমতো বুঝতে পারে না যে পেট ভরেছে কি না। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করে ফেলে, যা মেদ বা ওবেসিটির অন্যতম কারণ।

২. হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়া: মন অন্যত্র ব্যস্ত থাকলে শরীর বুঝতে পারে না কী খাচ্ছে, ফলে সেই খাবার হজমের জন্য যে এনজ়াইম নিঃসরণ হওয়া দরকার তা-ও সঠিক পরিমাণে ক্ষরণ হয় না। ফলে গ্যাস, অম্বল বা বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়।

৩. খাবারের স্বাদ ও তৃপ্তি আসে না: কী খাচ্ছেন, তার স্বাদ বা গন্ধ যদি অনুভব না করেন, তবে খাওয়ার পর মনে হবে ‘কিছু একটা অপূর্ণ থেকে গেল’। এই অতৃপ্তি থেকেই পরে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ইচ্ছা জাগে। যা পরোক্ষে আবার মেদ বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বদলে কী করা উচিত?

১. স্ক্রিন-ফ্রি ডাইনিং: খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে ফোন দূরে সরিয়ে রাখুন। ডাইনিং টেবিলকে ‘নো গ্যাজেট জোন’ বলে নিজেই ঘোষণা করুন। আর তা মেনে চলুন।

২. খাবার চিবিয়ে খাওয়া: প্রতিটি খাবারের গ্রাস অন্তত ২০-৩০ বার চিবিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে হজম ভাল হয় এবং মস্তিষ্ক পেট ভরার সংকেত ঠিক সময়ে পায়।

৩. ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার: খাবারের রং দেখুন, গন্ধ নিন এবং স্বাদ অনুভব করুন। একে বলা হয় 'মাইন্ডফুল ইটিং'। এটি শুধু শরীর নয়, মানসিক শান্তিও দেয়।

৪. একা না খাওয়ার চেষ্টা: পরিবারের সবার সঙ্গে বসে গল্প করতে করতে খাওয়া ডিস্ট্র্যাকশন কাটানোর সেরা উপায়। এতে নিজেদের মধ্যে আবেগের বন্ধনও দৃঢ় হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement