Summer Season Disease

গরমে কিছু অসুখ মাথাচাড়া দেয়

কিডনির অসুখ, চর্মরোগ, মানসিক সমস্যা বৃদ্ধি পায় গরমে। রইল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

ঊর্মি নাথ

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০৭:২৬
Share:

অত্যধিক গরমে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বেশ কয়েকটি অসুখ। যেগুলি ইতিমধ্যে শরীরে বা মনে বাসা বেঁধে আছে, সেগুলিই তীব্রতর হয়ে ওঠে পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়লে।

কিডনির সমস্যা

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে ডিহাইড্রেশন এবং অন্যান্য কারণে শরীরের ভিতরে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ইলেকট্রোলাইট এবং বিভিন্ন অ্যাসিডের ভারসাম্যে হেরফের হয়। এর প্রভাব পড়ে কিডনির উপরে, বিশেষত যাঁদের ডায়ালিসিস করতে হয়। কিডনির সমস্যা থাকতে জল মেপে খেতে হয়, কিন্তু গরমে ঘামে যে পরিমাণ জল বার হয়ে যায়, সে পরিমাণ জল পূরণ করতে গেলে কিডনির উপরে চাপ পড়ে। আবার পূরণ না হলে জলশূন্যতার সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, গ্রীষ্মের শুরুতে জলের পরিমাণ ও ডায়েট ঠিক করে নিতে হবে কিডনির রোগীদের।

চর্মরোগের বাড়বাড়ন্ত

সাধারণত দেখা যায়, গ্রীষ্মে ত্বকের সমস্যা বাড়ে। গরম ও ঘামের কারণে ব্যাক্টিরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস, পরজীবীর সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। যেমন ফোঁড়া, ফলিকিউলাইটিস, দাদ, স্ক্যাবিস ইত্যাদি। এ ছাড়া অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বা অ্যাটোপিক এগজ়িমা, আর্টিকারিয়া বা আমবাত, ব্রণ, সোরিয়াসিস ইত্যাদি কয়েকটি ক্রনিক চর্মরোগের বাড়বাড়ন্ত হতে দেখা যায় গরমে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সন্দীপন ধর বললেন, “তীব্র গরম ও ঘামের জন্য অ্যাটোপিক এগজ়িমা মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়। এটার বাইপোলার অ্যাগ্রেভেশন হয় অর্থাৎ গরমে ঘাম হওয়ার জন্য আর শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার জন্য বেড়ে যায়। তাই যাঁদের অ্যাটোপিক এগজ়িমা আছে, তাঁদের বেশি গরম বা প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়লে চিকিৎসকের কাছে এসে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে হয়।”

অটোইমিউন ডিজ়িজ়ের মধ্যে অন্যতম আর্টিকারিয়া বা আমবাত। গরমে এর তীব্রতাও বাড়ে। যাঁদের ব্রণর সমস্যা আছে, তাঁদের কাছে গ্রীষ্মকাল বিভীষিকার মতো। পুরুষ ও মহিলা উভয়ই ব্রণর জন্য মানসিক সমস্যায় ভোগেন। ব্রণ শুধু সৌন্দর্যের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না, এই সমস্যাকে অসুখের পর্যায়ে ধরা হয়। “ব্রণর বাড়বাড়ন্ত ঘটে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য। অতিরিক্ত ঘামে ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়। যাঁদের ত্বক ব্রণপ্রবণ তাঁদের গরম পড়লে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। দেখা যায়, যাঁদের ব্রণপ্রবণ ত্বক, তাঁরা শীতে ভাল থাকেন,” বললেন ডা.ধর।

অস্থির মন

অসহ্য গরমে ছোট-বড় সকলের মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবীর মুখোপাধ্যায় বলছিলেন, “অতিরিক্ত গরম, ঘাম হলে স্ট্রেস বেড়ে যায় এবং সমস্ত শরীরের উপর তার প্রভাব পড়ে। মন শরীরের অংশ, তাই মানসিক স্বাস্থ্যের উপর যথেষ্ট প্রভাব পড়ে। রাগ, বিরক্তি, উদ্বেগ, আতঙ্ক, অসহিষ্ণুতা বেড়ে যায়। ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। এই সমস্যা আরও হয় যাঁরা ইতিমধ্যে কোনও না কোনও মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।”

গরমে ঘুমের সমস্যাও বাড়ে। বিশেষত যাঁরা ইনসমনিয়ায় ভুগছেন। “শুধু পর্যাপ্ত ঘুম নয়, নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। তবেই শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। এর জন্যে বেডরুমের তাপমাত্রা হতে হবে আরামদায়ক। এসি চললে খেয়াল রাখতে হবে যাতে ঘর খুব বেশি ঠান্ডা না হয়ে যায়। কারণ, বেশি ঠান্ডাতেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। ঘুমের সঙ্গে উদ্বেগ, অবসাদ, মনঃসংযোগের ঘাটতি ইত্যাদি জড়িয়ে আছে। তাই ভাল ঘুম না হলে এই সমস্যাগুলো বাড়ে,” বললেন ডা. মুখোপাধ্যায়।

অবসাদ, উদ্বেগজনিত সমস্যা, বাইপোলার ডিজ়অর্ডার এমনকি স্কিৎজ়োফ্রেনিয়া অতিরিক্ত গরমে বেড়ে যেতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে উদ্বেগজনিত সমস্যার একটা প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আছে। উদ্বেগ ও আতঙ্ককে ডাক্তারি ভাষায় বলে অ্যাংজ়াইটি ডিজ়অর্ডার। সেই সূত্রে বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্টের মতো শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই ব্যাপ্যারে ডা. মুখোপাধ্যায় বললেন, “অ্যাংজ়াইটি ডিজ়অর্ডার থাকলে বেশি গরমে সামান্য কারণেই চিন্তা, উদ্বেগ বেড়ে যায়। একটু বুক ধড়ফড় করলেই মনে হবে, হার্টের অসুখ হয়ে গেল না তো? উদ্বেগ মাত্রাছাড়া হলে প্যানিক অ্যাটাক হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে!” বাইপোলার ডিজ়অর্ডারের দুটো দিক, একটা অবসাদ আর একটা ম্যানিয়া বা হাইপোম্যানিয়া। কখনও গভীর অবসাদে ডুবে থাকা, কখনও আবার দারুণ উদ্যমী হয়ে লাগামছাড়া হয়ে যাওয়া। “গরমে যেহেতু উত্তেজনা বাড়ে, ঘুম কমে যায় তখন বাইপোলার ডিজ়অর্ডার নিয়ন্ত্রণে রাখা মুশকিল, অসুখটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে,” বললেন ডা. মুখোপাধ্যায়।

গরমে ডিহাইড্রেশনের জন্য রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা হ্রাস পায়। “সোডিয়ামের মাত্রা হ্রাস পেলে আচরণগত অস্থিরতা, উত্তেজনা, ভুল বকা, হ্যালুসিনেশন, নিস্তেজ হয়ে পড়া ইত্যাদি হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে। অবসাদ প্রতিরোধে বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি ওষুধ আছে যা রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে এই রোগীদের গরমে সাবধান থাকতে হবে। ঘাটতি পূরণে জল ও নুন দুটোই যেতে হবে রক্তে,” বললেন ডা. মুখোপাধ্যায়।

গরমে সুস্থ থাকতে ডায়েটেও নজর দিতে হবে। বাজারের রঙিন শরবত, নরম পানীয়, মশলাদার তৈলাক্ত খাবার এবং কাটা ফল এড়িয়ে চলতে হবে। এতে শুধু পেট নয়, ত্বকেরও ক্ষতি হয়।


ছবি: অমিত দাস (রাইমা)

মডেল: শুচিস্মিতা সুর, রাইমা গুপ্ত

মেকআপ: প্রিয়া গুপ্ত

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন