কেন বাড়ছে ফ্যাটি লিভার? ছবি: সংগৃহীত।
ফ্যাটি লিভার নিয়ে আতঙ্ক ঘরে ঘরে। খাদ্যাভ্যাস যে ভাবে বদলাচ্ছে, জাঙ্ক ফুডের প্রতি আসক্তি বাড়ছে ছোটদের, তাতে কম বয়স থেকেই মেদ জমছে লিভারে। ফ্যাটি লিভার এক দিনে হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে একটু একটু করে লিভারে ক্ষত হতে থাকে। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বড় অসুখের প্রথম ধাপ। সূত্রপাত এর থেকেই হয়, যা পরবর্তী কালে লিভারের জটিল রোগ সিরোসিসের কারণ হয়ে ওঠে। লিভারে মেদ যত সহজে জমে, তার অপসারণ অত সহজ নয়। এর জন্য নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া, শরীরচর্চার প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসক তনিশা শিকদারের মতে, রোজের তিনটি অভ্যাস মানুষের ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
১) গভীর রাতে খাওয়াদাওয়া: অনেকেই রাত জেগে কাজ করেন বা সিনেমা দেখেন। আর রাত জাগলেই খিদে পায় অনেকের। মাঝরাতে তখন চিপস, কেক, চকোলেট ভরসা। চিকিৎসকের মতে, রাতে খাওয়ার পর আবার টুকিটাকি খাওয়ার অভ্যাস ইনসুলিনকে বিরতি নিতে বাধা দেয়। লিভারে ফ্যাট জমার এটা অন্যতম বড় কারণ।
২) প্রাতরাশে প্রোটিন না রাখা: প্রাতরাশ মানেই অনেকের কাছে চা, কফি। সঙ্গে হালকা কোনও খাবার। অনেকেই আবার জলখাবারে কার্বোহাইড্রেট বেশি খান। এই অভ্যাসের কারণে কিন্তু রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক গুণ বেড়ে যায়। আর এই একই কারণে মাঝ বেলায় গিয়ে ভাজাভুজি, মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে লিভারে ফ্যাট জমতে শুরু করে।
৩) রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিং না করা: রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিং না করলে কিন্তু রক্তের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কখনওই বাড়বে না। চিকিৎসকের মতে, এক দল মানুষ জিমে গিয়ে কেবল কার্ডিয়ো করেন আর এক দল ১২-১৪ ঘণ্টা একই জায়গায় বসে কাজ করেন। চিকিৎসকের মতে, রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিং না করলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়বেই।