Black Turmeric

নামে হলুদ, রঙে নীল! বিরল জাতের এক কন্দ নিয়ে হইচই কেন? এতে কি ক্যানসার সারে?

ওই কন্দ নিয়েই সমাজমাধ্যমে পড়ে গিয়েছে হইচই। কেউ বলছেন, ওই কন্দে লুকিয়ে ক্যানসারের মহৌষধ। কেউ বা বলছেন, এর আরও নানা উপকার রয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৭
Share:

ছবি : সংগৃহীত।

হলদে-সবুজ ওরাংওটাংয়ের মতোই বিষয়টি খানিক ‘বিদঘুটে’! এমন এক ‘হলুদ’ যার নামের আগে বসছে কালো, অর্থাৎ ব্ল্যাক টারমারিক। বাইরে থেকে দেখতে আদার মতো, অথচ কাটার পরে ভিতরের শাঁসটি তুঁতে নীল বা সামান্য বেগনি ঘেঁষা নীল রঙের।

Advertisement

অদ্ভুত প্রজাতির ওই কন্দ নিয়েই সমাজমাধ্যমে পড়ে গিয়েছে হইচই। কেউ বলছেন, ওই কন্দে লুকিয়ে ক্যানসারের মহৌষধ। কেউ বা বলছেন, এর আরও নানা উপকার রয়েছে। কেউ আবার বলছেন এই ‘হলুদ’ আসলে খাওয়ার জিনিস নয়। কিন্তু আসলে জিনিসটি কী? নীল রঙের এই কন্দ কি সত্যিই শরীরের কোনও উপকারে লাগে? তা কি আদৌ খাওয়া যায়?

কালো, নীল নাকি হলুদ! আসলে কী?

Advertisement

আদার মতো দেখতে নীল রঙের ওই কন্দের পোশাকি নাম ব্ল্যাক টারমারিক বা কালো হলুদ। বৈজ্ঞানিক নাম কারকিউমা সেসিয়া। খাওয়ার জন্য অধিকাংশের ক্ষেত্রেই নিরাপদ। এমনকি, এ দেশের বহু বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিতে এটি ওষুধ হিসাবেও ব্যবহার করার চল আছে।

কোথায় পাওয়া যায়?

মূলত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যপ্রদেশের কিছু এলাকায় এই কালো হলুদ পাওয়া যায়।

হলুদ বা আদার সঙ্গে তফাত কিসে?

১। গন্ধে এবং স্বাদে আলাদা। এতে আদার ঝাঁঝ নেই। নেই হলুদের মতো গন্ধও। হলুদ এবং আদায় এক ধরনের হালকা মিষ্টত্ব থাকে। এতে তা-ও নেই। এর গন্ধ খানিকটা কর্পূরের মতো, স্বাদ কিছুটা তেতো ঘেঁষা।

২। হলুদে থাকে কারকিউমিন। যা এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। ব্ল্যাক টারমারিকে সেই কারকিউমিনের মাত্রা যত না বেশি, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন। যা অত্যন্ত জোরালো একটি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। ব্ল্যাক টারমারিকের নীলচে রং আসলে ওই অ্যান্থোসায়ানিনের জন্যই। যে অ্যান্থোসায়ানিনের ক্যানসার প্রতিরোধক ক্ষমতা আছে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে।

এটি খেলে কী কী উপকার হতে পারে?

কালো হলুদের জোরালো অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট এবং তার প্রদাহনাশক ক্ষমতা শরীরের নানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। যেমন—

১। এটি ফুসফুসে প্রদাহের সমস্যা কমিয়ে শ্বাসকষ্ট এবং হাঁপানি দূর করতে সাহায্য করে। ব্রঙ্কাইটিস বা পুরনো কাশির সমস্যা দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকরী।

২। এই কন্দ ব্যবহৃত হয় ডায়াবিটিস প্রতিরোধের ওষুধ হিসাবেও। কারণ এতে থাকা নানা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ইনসুলিনকে নিজের কাজ করতে সাহায্য করে। যা ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে জরুরি।

৩। তারুণ্য ধরে রাখার কন্দ হিসাবেও জনপ্রিয়তা রয়েছে নীল রঙের হলুদের। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সূর্যের আলো লেগে ত্বকের যে বয়স বৃদ্ধি হতে থাকে, সেই প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করে দিতে পারে ব্ল্যাক টারমারিক। যে কারণে বহু আয়ুর্বেদিক ত্বকের ওষুধ বা প্রসাধনীতেও এর ব্যবহার করা হয়।

৪। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বা প্রদাহনাশক উপাদান ব্যথা উপশমে সহায়ক। বিশেষ করে অস্থিসন্ধির ব্যথা বা অস্টিয়োআর্থারাইটিস কমাতে এটি উপকারী।

৫। প্রাথমিক কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কালো হলুদে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ক্যানসারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা দিতে সাহায্য করতে পারে। তবে তা সত্যিই কতটা কার্যকর, তা জানার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

যে যে বিষয়ে সতর্ক হবেন

রান্নায় ব্যবহারের জন্য নয় এই কন্দ। তবে খুব সামান্য পরিমাণে এটি ওষুধের মতো খাওয়া যেতে পারে। আর তা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বা যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁদেরও এই কন্দ এড়িয়ে চলাই ভাল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement