স্বাস্থ্যের শত্রু কি সকালের কফি? ছবি: সংগৃহীত।
সকালের কফি কি সত্যিই শরীরের স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়? গরম কফিতে চুমুক দিতে দিতেই এই প্রশ্ন ঘুরছে মাথায়। ভাঁজ পড়লে কপালে। সকাল সকাল ক্যাফিনের ধাক্কাটিও চাই, আবার সেই ধাক্কা থেকে গুরুতর ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা-ও জানা চাই। আসলে কফি নিজে সমস্যা নয়। কিন্তু সমস্যাটি তৈরি হচ্ছে কখন আর কী ভাবে খাওয়া হচ্ছে, তার উপর।
স্ট্রেস হরমোনের সঙ্গে কফির সম্পর্ক কী? ছবি: সংগৃহীত
ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে স্বাভাবিক ভাবেই স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেড়ে যায়। এই প্রক্রিয়াই শরীরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে, সতেজ রাখে। তাই সকালে কর্টিসল বেড়ে যাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক ছন্দেরই অংশ। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন খালি পেটে সরাসরি কফি খেয়ে নেন। দেহে তখন ইতিমধ্যেই কর্টিসল বৃদ্ধি পেয়েছে শারীরবৃত্তীয় কাজের অংশ হিসেবে। তার উপর আবার কফির প্রভাব পড়ে। এ দিকে শরীর তখনও কোনও পুষ্টি পায় না। ফলে স্ট্রেসের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কর্টিসলের উপর ক্যাফিনের প্রভাবে হাত কাঁপা, বুক ধড়ফড় করা, অকারণ উদ্বেগ, রক্তে শর্করার ওঠানামা, এমনকি অহেতুক উত্তেজনা এবং ক্লান্তি, দুই-ই অনুভব করতে পারেন। দিনের শুরুটাই তখন অস্থির হয়ে ওঠে।
সুতরাং, গলদ কফিতে নয় বা সকালে কফি পানেও নয়। ভুল রয়ে যায় খালি পেটে কফি খাওয়াতেই। এতে কফির উপাদান খুব দ্রুত শরীরে শোষিত হয় এবং স্ট্রেস বাড়িয়ে দেয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি দেখা যেতে পারে। কারণ, হরমোনের হেরফেরের প্রভাব বেশি পড়ে তাঁদের শরীরে। তাই এই অভ্যাস দীর্ঘ দিন চালিয়ে গেলে এনার্জি, মেজাজ এবং সামগ্রিক শারীরিক ভারসাম্যের উপর প্রভাব পড়তে পারে।
কফি একেবারে বাদ দিতে হবে, এমন নয়। বরং খাওয়ার ধরনে অল্প পরিবর্তন আনলেই উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে কফি না খেয়ে তার সঙ্গে কিছু খাবার খাওয়া ভাল, যেমন প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ কিছু। এতে শরীরে কফির প্রভাব ধীরে ধীরে পড়ে।