Suniel Shetty Salt Intake

রান্নায় নয়, পাতে নুন খান সুনীল, এ ভাবে নাকি সোডিয়ামের পরিমাণ কমে! এই কৌশল কতটা স্বাস্থ্যকর

প্রতি দিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের খাবারে মোট নুনের পরিমাণ ১ চা-চামচের মধ্যে রাখা উচিত। এর বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা কিডনির সমস্যা হতে পারে। নুন খাওয়া কমাতে কোন উপায় মানেন অভিনেতা সুনীল শেট্টী?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ১৮:২৩
Share:

নুন খাওয়া কমাতে কী করেন সুনীল? ছবি: সংগৃহীত।

রান্নায় নুন কম হলে বিস্বাদ, বেশি হলে তো কথাই নেই! সঙ্গে স্বাস্থ্যের ক্ষতি। তাই নুন নিয়ে সচেতনতা খুবই জরুরি। স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তি থেকে শুরু করে যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা আছেন, তাঁরা নুন খাওয়া কমাতে চান। তেমনই বলিউড অভিনেতা সুনীল শেট্টী নিজের অভ্যাসের কথা বলেছেন সম্প্রতি, যা নুনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

Advertisement

সুনীল জানিয়েছেন, তিনি রান্নার সময়ে নুন না দিয়ে বরং খাবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর উপরে সামান্য ছড়িয়ে নেন। তিনি কোনও ‘পিঙ্ক সল্ট’ ব্যবহার করেন না, সাধারণ নুনই খান। কিন্তু তা-ও নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে। এই অভ্যাসের পিছনে যুক্তি রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, রান্নার সময়ে নুন দিলে তা খাবারের মধ্যে মিশে যায় এবং স্বাদ তৈরি করে ঠিকই, কিন্তু খাবারের উপরে নুন ছড়িয়ে খেলে জিভ সরাসরি সেই স্বাদ অনুভব করে, ফলে কম নুনেও একই স্বাদ পাওয়া যায়। এতে ধীরে ধীরে মোট নুনের পরিমাণ কমানো সম্ভব হয়।

নুন খাওয়া কমানোর জন্য কোন পন্থা ভাল? ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এই টোটকা কার্যকর নয়। পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক জানাচ্ছেন, প্রতি দিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের খাবারে মোট নুনের পরিমাণ ১ চা-চামচের মধ্যে রাখা উচিত।

Advertisement

এর বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা কিডনির সমস্যা হতে পারে। তা ছাড়া পুষ্টিবিদের পরামর্শ, পাতে নুন না খেয়ে রান্নায় দেওয়াই ভাল। ফলে সুনীলের এই কৌশলের সঙ্গে একমত নন তিনি। কারণ হিসেবে পুষ্টিবিদ বলছেন, ‘‘রান্নার সময়ে নুন মেশানো উচিত। নয়তো পরে খাবারের উপরে নুন ছড়িয়ে দিলে সেটা উপরের স্তরেই থেকে যায়। গোটা খাবারে সমান ভাবে মেশে না। ফলে নুনকটা লাগার ঝুঁকি থাকে। এতে স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ে। টেবিলে রাখা নুন থেকে নিতে থাকলে কখন যে পরিমাণ বেড়ে যাবে, সেটা বোঝা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ১ চা চামচের বেশি নুন খাওয়া হয়ে যায় সারা দিনে।’’

পাশাপাশি পুষ্টিবিদ এ-ও বলছেন, অনেকেই নিজের হাতে নুনের নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান। তাই খাবারে মেশানোর চেয়ে খাওয়ার সময়ে নিজের মতো নিয়ে নেন। সুনীল শেট্টীর মতো ব্যক্তিরা সারা দিনে কত পরিমাণ নুন খেলেন, তা গুনে নেন। যদি সংযমী মানুষ হন, তা হলে এই অভ্যাস স্বাস্থ্যকর। কিন্তু অনেকের মধ্যেই সংযম দেখা যায় না। খাবারের বিস্বাদ ভাব কাটাতে অল্প অল্প করে নুন নিতেই থাকেন অনেকে। ফলে বেশি নুন খাওয়া হয়ে যায়। রান্নায় নুন দেওয়া হলে পাতে নুন নেওয়ার প্রবণতা থাকে না। তবে কাঁচা নুন আর রান্নায় নুনের মধ্যে পুষ্টি উপাদানের কোনও পরিবর্তন হয় না। কেবল পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং রান্নার স্বাদের জন্যই এই নিয়ম মেনে চলা হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement