Water Fasting for Autophagy

মাসে দু’বার স-জলা উপোস! ‘ডিটক্স’-এর দোহাই দিয়ে এমন নিয়ম কি আদপে স্বাস্থ্যকর?

উপোস করলে অন্ত্র বিশ্রাম পায়। পাশাপাশি অটোফ্যাজি নামে এক পরিস্থিতি তৈরি হয়। যা কোষে জমে থাকা ময়লা পরি্ষ্কার করতে শুরু করে। এতে শরীরের কোষগুলি পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে বলে ধারণা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:২৪
Share:

সুস্থ শরীর এবং দীর্ঘায়ুর জন্য কাজে লাগে কি? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ভক্তি ভরে বিন্দুমাত্র জল না খাওয়া উপোস নয়। এ উপোস শরীরের স্বার্থে। আর করতে হবে জল খেয়ে। বা বলা ভাল শুধুমাত্র জল খেয়েই।

Advertisement

এ হেন উপোসের পোশাকি নাম ‘ওয়াটার ফাস্টিং’। কেউ চাইলে চিনি, দুধ ছাড়া চা বা কফি খেতে পারেন অথবা প্রয়োজন পড়লে ইলেকট্রোলাইটস খাওয়া যেতে পারে। তার বাইরে কিছু নয়। ২৪ ঘণ্টা কাটবে ওই ভাবেই। আর এমন উপোস মাসে দু’বার করেন হাস্যকৌতুক শিল্পী তথা শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় সিজ়নের সঞ্চালক রাহুল দুয়া এবং তাঁর সমাজমাধ্যম প্রভাবী স্ত্রী নিধি ত্যাগী। তাঁদের দাবি, এতে শরীর নিজেকে ডিটক্স করার সুযোগ পাচ্ছে। যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। কিন্তু সত্যিই কি তাই?

নিধি সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর এই রুটিনের নেপথ্য কারণের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘২০২৬ সালের শুরু থেকেই আমি আর রাহুল এটা করার চেষ্টা করছি। তবে সফল ভাবে করতে পেরেছি কেবল ২ বার।’’ অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ৬ বারের চেষ্টায় ৪ বার ব্যর্থ হয়েছেন। সফল হয়েছেন অর্ধেকেরও কম। কেন ব্যর্থ হয়েছেন, তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন নিধি।

Advertisement

সমাজমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নিধি বলেছেন, ‘‘আজ সকালটা চা ছাড়াই কাটিয়ে দিয়েছি। এখনও পর্যন্ত খিদে পাচ্ছে না ঠিকই। কিন্তু জানি পরে পাবে। তখন শিশুদের খাওয়ানোর বেবি ফুড দেখেও লোভ হবে।’’ অর্থাৎ উপোস করলে খিদে পায় না তা নয়। আর সেখানেই ২৪ ঘণ্টার স-জলা উপোস ভেঙেছে বার বার। কিন্তু কেন এমন নিজেকে কষ্ট দেওয়া উপোস করতেই হবে?

নিধির যুক্তি, সারা মাস পেটের উপর যে অত্যাচার চলে, তাকে ব্যালান্স করতেই এটা করা জরুরি। তিনি জেনেছেন, উপোস করলে অন্ত্র বিশ্রাম পায়। পাশাপাশি, অটোফ্যাজি নামে এক পরিস্থিতি তৈরি হয়।যা কোষে জমে থাকা ময়লা পরি্ষ্কার করতে শুরু করে। এতে শরীরের কোষগুলি পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে। বার্ধক্যকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে।

সত্যি কতটা কাজ করে?

নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে অটোফ্যাজি শরীরে ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন সরাতে সাহায্য করে, বিপাকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে, বার্ধ্যককে দূরে রাখতেও সাহায্য করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ওই গবেষণাপত্রে এ কথাও বলা হয়েছে, খুব বেশি সক্রিয় হলে তা শরীরের ক্ষতিও করতে পারে। একই বক্তব্য হায়দরাবাদের চিকিৎসক কৃষ্ণমোহন রেড্ডিরও। তাঁরও বক্তব্য, এই ধরনের উপোস অল্প সময়ের জন্য কিছু দিন করলে খানিকটা ওজন কমতে পারে। ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণের ফলে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উপোস করলে ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল। তিনি বলছেন, ‘‘শরীরের নিজস্ব ডিটক্স বা বিষমুক্ত করার প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই এ ধরনের কোনও পদ্ধতি মানার বদলে অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করলে কাজ হবে বেশি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement