Measles Diet

হাম-পক্সে বেশি ভুগছে ছোটরা, এই সময়ে কী কী খাওয়াতে হবে শিশুকে? বাবা-মায়েদের জন্য পথ্যের হদিস

মরসুম বদলের সময়ে ঘরে ঘরে হাম, চিকেন পক্সের প্রকোপ। এই জাতীয় অসুখে বেশি ভোগে ছোটরাই। এ সময়ে তাই ওষুধের চেয়েও বেশি পথ্যের দিকে নজর দিতে হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫৩
Share:

হাম-পক্সে ভুগলে শিশুকে কী কী খাওয়াতে হবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

হামের প্রকোপ বাড়ছে। চিকেন পক্সেরও। সারা গায়ে র‌্যাশ বা ফোস্কার মতো হওয়া, সঙ্গে তীব্র জ্বর— হাম বলতে এই ধারণাই ছিল। ছোটবেলায় হাম বা পক্সে ভুগেছেন বেশির ভাগই। কিন্ত এখন এই রোগের চেহারা বদলেছে। সংক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে এবং শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদেরও রোগটি হচ্ছে। সে কারণেই হাম নিয়ে এত আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মরসুম বদলের সময়ে এখন ঘরে ঘরেই হাম বা পক্সে ভুগছে শিশুরা। এমনও দেখা গিয়েছে, উপযুক্ত টিকা নেওয়ার পরেও রোগটি হচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এখন এই সব রোগ হওয়ারও কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই। যখন-তখন হানা দিচ্ছে এই সব ভাইরাসঘটিত রোগ। তাই ওষুধের চেয়ে পথ্যের উপরে বেশি জোর দিতে বলছেন চিকিৎসকেরা।

Advertisement

হাম বা পক্স হলে কী কী পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়?

হাম বা পক্সের সময়ে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল বেরিয়ে যায়। ফলে জলশূন্যতা দেখা দেয়। এ ছাড়া ভাইরাসের কারণে শরীরে ভিটামিন এ-র ঘাটতি হয়। সংক্রমণের ফলে পেশি ক্ষয় হয় বলে প্রোটিনের ঘাটতি হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রেই জ়িঙ্ক ও ভিটামিন সি-এর ঘাটতি বেশি হতে দেখা যায়।

Advertisement

কী কী খাওয়াতে হবে শিশুকে?

হাম বা পক্স হলে ঘন ঘন জ্বর আসবে। সারা গায়ে ফোস্কার মতো র‌্যাশ বেরোবে। এই সময়ে শিশুর শরীর যেমন দুর্বল হয়ে পড়বে, তেমনই পুষ্টির ঘাটতিও হবে। তাই পথ্য হিসাবে শুধু ফলের রস নয়, নানা রকম মরসুমি সব্জি দিয়ে তৈরি স্যুপ খাওয়াতে হবে। সোনা মুগ ডাল (৩ চামচ), গাজর কুচি, পেঁপে কুচি, সামান্য হলুদ ও ঘি নিতে হবে। ডাল ও সব্জিগুলি সামান্য নুন ও হলুদ দিয়ে প্রেশার কুকারে ভাল করে সেদ্ধ করে নিন। এ বার ভাল করে নেড়ে নিতে হবে। নামানোর আগে এক চামচ ঘি মিশিয়ে দিন। এই স্যুপ প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং সব্জির ফাইবারও ঢুকবে শরীরে।

Advertisement

ভিটামিন সি-র জন্য কমলালেবুর রস, মুসাম্বির রস, পেয়ারা, বেরিজাতীয় ফল যেমন বেদানা খাওয়ানো যেতে পারে শিশুকে। এই সময়ে ভিটামিন এ-র ঘাটতি হয় বেশি, তাই চোখের সংক্রমণও হতে পারে শিশুর। সে কারণে গাজর, মিষ্টি কুমড়ো, পাকা পেঁপে, পালং শাক, লাল শাক বেশি করে খাওয়াতে হবে। আর খেতে হবে ডিম, ছোট মাছ ও চিকেন।

হামের সময়ে মুখে অরুচি হয়। শিশু যদি ভাত খেতে না চায়, তবে পাতলা করে দুধ-সুজি বা সাবুদানার খিচুড়ি রান্না করে দেওয়া যায়। ওট্‌স বা সব্জি দিয়ে ডালিয়ার খিচুড়িও ভাল। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে খাওয়াতে পারেন ভাত, সব্জি, ডাল। দুপুর ১টার পর কলা, আম চটকে বা সিদ্ধ আপেল চটকে খাওয়াতে পারেন। কলার স্বাদ পছন্দ করে শিশুরা। বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে ডালিয়ার খিচুড়ি, ছানা, ছাতু বা সুজির পায়েস যে কোনও কিছুই খাওয়াতে পারেন।

শিশু যদি দুধ খেতে না চায় বা দুধে অ্যালার্জি থাকে তা হলে অবশ্যই শিশুকে দিন বাদাম। শুকনো ডুমুর, আখরোট, ব্রাজিল নাট, হেজ়েলনাট, কাঠবাদাম, কাজু মেটাতে পারে ক্যালসিয়ামের অভাব। বাদাম শিশুর মস্তিষ্কের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।

রোজকার খাবারে প্রোটিনও রাখতে হবে। শিশুকে ছোট মাছ বা জিওল মাছ খাওয়ালে খুব ভাল। শিঙি, মাগুরের মতো জিওল মাছ খাওয়াতে পারেন শিশুকে। মাছ থেকে ভরপুর ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাবে শিশু। তবে একদিনে মাছ, মাংস, ডিম না দেওয়াই ভাল। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিতে হবে। চিকেন স্ট্যু-ই এই সময়ে খাওয়া ভাল। এক বারে দুই থেকে তিন টুকরোর বেশি মাংস দেবেন না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement